পরীক্ষা দেয়া হচ্ছে না : প্রতারণার শিকার মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ২৯ পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রতারক কয়েক ছাত্রের খপ্পরে পড়ে এবারের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়া হচ্ছে না মনিরামপুর ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২৯জন ছাত্রের। প্রতারকেরা একই কলেজের।
আজ বুধবার সকাল ৯টায় যশোর এমএম কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারবেন না বলে পরীক্ষার্থীসহ তাদের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। অপরদিকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা গতকাল রাতে যশোর- সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ করে আতœহত্যার হুমকি দিয়েছে।
প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা জানান, অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূবণের জন্য কলেজের অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিস দিলেও ২৯ জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে দেয়া হবে মর্মে ৩ হাজার করে টাকা নেয় ওই কলেজের কয়েকজন  ছাত্র। কিন্তু অন্যান্য পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র আসলেও ওই ২৯ জনের প্রবেশ পত্র গতকাল রাত পর্যন্ত তাদের হাতে আসেনি।
অভিযোগে জানা যায়, ওই ২৯জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে ওই ছাত্ররা। তারা কলেজ অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষার্থীদের কাগজপত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। এ ঘটনা জানতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে তা অবিহিত করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি নিয়ে প্রতারিত ২৯ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠায়। প্রতারিত ছাত্ররা জানান, কলেজ থেকে তাদেরকে নিয়ম মেনে ফরম পূরণের কথা বললেও প্রতারক ছাত্রদের বাধার ও আশ্বাসের কারণে তারা তা করতে পারেননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা আমি এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি। আগে জানতে পারলে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতাম। কলেজ অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম ফারুকীর সাথে মোবাইলে যোগযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থী কমলেশ সরকার, আফজাল হোসেন, ও মুকুল হোসেন জানান, অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে আমাদের আতœহত্যা ছাড়া আর কোন পথ নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তি ও পরীক্ষায় অংশ নেয়ার দাবিতে গতকাল রাত ৮টার দিকে ওই পরীক্ষার্থীরা যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর পৌর শহরের সোনালী ব্যাংকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে।