এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফরহাদ খান :যার রঙ তুলিতে দরিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো হয়েছেন পেশিবহুল। শ্রমজীবী মানুষগুলো হয়েছেন শক্তিশালী এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। তিনি আমাদের এসএম সুলতান। আজ ১০ অক্টোবর তার মৃত্যুদিন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মাটি ও মানুষের শিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেছের আলী ও মায়ের নাম মাজু বিবি। আদর করে নাম রাখা হয় ‘লালমিয়া’। নড়াইলবাসীর সেই লালমিয়া আজ এসএম সুলতান নামেই সমধিক পরিচিত। চিত্রশিল্পে খ্যাতি তার বিশ্বজোড়া। জীবনযোদ্ধা সুলতানের রঙতুলিতে ঠাঁই পেয়েছে কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ। যা আজও জীবন্ত হয়ে আছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য ছবি এঁকেছেন। তিনি ছিলেন দক্ষ বংশীবাদকও। পুষে ছিলেন বিষধর সাপ, ভাল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিক, মুনিয়া, ষাঁড়সহ বিভিন্ন পশুপাখিও।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে একুশে এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন। তার ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।