ঘাতক থেকে মন্ত্রী!

স্পন্দন ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে যাকে লোহার খাঁচায় পুরে জনগণের দেখার জন্য প্রদর্শনী করা হয়েছিল, মাত্র কয়েক বছরের মাথায় সেই যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতেই তুলে দেওয়া হয় জাতীয় পতাকা। একাত্তরের রাজাকার কমান্ডার, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আর ঘাতক থেকে মন্ত্রী-এমপি বনে যাওয়া সেই ব্যক্তির নাম আব্দুল আলীম।
জীবন সায়াহ্নে এসে অবশ্য তার কৃতকর্মের শাস্তি ঠিকই পেলেন এই যুদ্ধাপরাধী। বুধবার তাকে আমৃত্যু কারাদ-াদেশ দিয়ে আলীমের মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি প্রমাণিত হলেও শারীরিক-মানসিক অক্ষমতার কারণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে এ শাস্তি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
কে এই আলীম
আবদুল আলীম ১৯৩০ সালের ১ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি থানার পাঁদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল ওয়াহেদ। ১৯৫০-৫১ সালে আলীমের পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বগুড়া জেলার জয়পুরহাট মহাকুমা সদরের থানা রোডে এসে বসবাস শুরু করেন। আলীম ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার জন্য ঢাকায় আসেন। স্যার সলিমুল্লাহ্ হলে থেকে তিনি লেখাপড়া করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাসে এমএ পাস করে তিনি ঢাকা ও জয়পুরহাট এই দুই স্থানে বসবাস শুরু করেন।
১৯৫৮ সালে আব্দুল আলীম মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৬২ সালে তিনি দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। একাত্তরে তিনি কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। আইয়ুব খান সে সময় তাকে বগুড়া জেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। পরে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সেক্রেটারিও ছিলেন আলীম।
আলীমের যতো মানবতাবিরোধী অপরাধ
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বগুড়ার কনভেনশন মুসলিম লীগের নেতা বগুড়া জেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম অন্য স্বাধীনতাবিরোধী লোকদের নিয়ে জয়পুরহাট মহাকুমা শান্তি কমিটি গঠন করেন। এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরবর্তী সময়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করে নেতৃত্ব দেন। তারই নির্দেশে ও পরিচালনায় আক্কেলপুরসহ জয়পুরহাটের নানা থানা, ইউনিয়ন ও গ্রামে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়।
সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর মেজর আফজালের সঙ্গে তিনি জয়পুরহাটের বিভিন্ন অপকর্মের নেতৃত্ব দেন। জামায়াতের প্রয়াত নেতা আব্বাস আলী খান ও আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী এবং এ দেশীয় রাজাকার-আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জয়পুরহাটে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আলীমের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ, শারীরিক নির্যাতন, দেশান্তরকরণ এবং অপহরণের সাত ধরনের মোট ১৭টি অভিযোগে সর্বমোট ৫৮৫ জনকে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ডা. কাশেমসহ চারটি জায়গা থেকে ৪৫ জনকে ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা, জয়পুরহাট চিনিকলে ২৩ জনকে হত্যা, পাঁচবিবির নওদা গ্রাম থেকে ছয়জনকে ধরে নির্যাতন ও হত্যার পর কালি সাহার পুকুরে গণকবর দেওয়া, পেঁচুলিয়া গ্রামের ছয়জনকে ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা, নূরপুর গ্রাম থেকে ১০ জনকে ধরে এনে নির্যাতন ও নয়জনকে হত্যা, কড়ইকাঁদিপুর গ্রাম ও আশপাশের হিন্দুপাড়ায় অগ্নিসংযোগ ও ৩৭০ জনকে গণহত্যা, পাহুনন্দা গ্রামের বিভিন্ন মসজিদ থেকে ২৮ জন মুসল্লিকে অপহরণ করে নির্যাতন ও পরে ২২ জনকে গণহত্যা করে গণকবর দেওয়া, কোকতারা পুকুরে ৮৪ জনকে গণহত্যা, জয়পুরহাট কলেজের সামনের পুকুরে দু’টি ট্রাকে ১১ জনকে ধরে নির্যাতনের পর গণহত্যা, পাহাড়পুরের মঙ্গলবাড়ী এলাকা থেকে ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এনে নির্যাতনের পর গণহত্যা ও গণকবর দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা খোকন পাইকারসহ ১৫ জনকে ধরে এনে নির্যাতনের পর গণহত্যা ও গণকবর দেওয়া এবং খাস পাহুনন্দা ও আশপাশের গ্রাম থেকে ৬৭ জনকে ধরে এনে নির্যাতনের পর গণহত্যা।
এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে আলীমের বিরুদ্ধে রামচন্দ্রপুর গ্রামের তিনজনসহ অসংখ্য নারী ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
আলীমের বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে ১৫টিতে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৫৮৫ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বাকি দু’টি অভিযোগ আনা হয়েছে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, আটক ও দেশান্তরে বাধ্য করার ঘটনায়। এসব অভিযোগ আনা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ৩(১), ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(আই), ২০ (২) এবং ৪ (১) ও ৪ (২) ধারা অনুসারে।
হত্যার অভিযোগের ১৫টি ঘটনার মধ্যে তিনটি গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে, যাতে মোট ৪০৬ জনকে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শহীদদের বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির’ জন্যও অভিযুক্ত হয়েছেন আব্দুল আলীম।
ঘাতক যখন মন্ত্রী!
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যান আব্দুল আলীম। ১৯৭৫ সালে জয়পুরহাট পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৭ সালেও জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলীম। ১৯৭৯ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। সে বছরই তৎকালীন জিয়া সরকারের প্রথমে বস্ত্র ও পরে যোগাযোগ মন্ত্রী হন। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের সময় উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে খালেদা সরকারের সময় এমপি নির্বাচিত হন। এক সময় ছিলেন জয়পুরহাট আইনজীবী সমিতিরও সভাপতি।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি বিএনপিতে সংস্কারপন্থী হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করেন। ফলে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত ও বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হন।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম যে ৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ করে, সে তালিকায় ১৩নং স্থানে ছিলেন জয়পুরহাটের আব্দুল আলীম। বর্তমান মহাজোট সরকারের সময় যেসব রাজনীতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল সে তালিকায়ও আব্দুল আলীমের নাম ছিল। এছাড়া ইতিপূর্বে তার লাল পাসপোর্টে পুত্র পরিচয়ে আয়্যারল্যান্ডে মানুষ পাচারের সময় ভারতের বিমানবন্দরে তার পাসপোর্ট আটক করা হয়েছিল। সে সময় এমপি থাকার কারণে নোট ভারবাল কেসের রায় পরে আর জানা যায়নি। ভারতে লাল পাসপোর্ট আটকের খবর প্রকাশের পর তিনি ঢাকার থানায় পাসপোর্ট হারানোর মামলা দায়ের করেন লোক দেখানোর জন্য। এ ঘটনায় তার পুত্র জড়িত থাকলেও তিনি এমপি থাকায় তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি
লাইফ সাজা দিয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু জেলে থাকার সাজা পাওয়া সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত সর্বক্ষণ বিষণ্ণ ও গম্ভীর ছিলেন।
প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ জয়পুরহাটের অপরাধের কম্পাস বলে যাকে অভিহিত করেছেন সেই আব্দুল আলীম চূড়ান্ত রায়ের দিন বেশির ভাগ সময়ই গালে হাত দিয়ে বসেছিলেন।
বুধবার সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয় আব্দুল আলীমকে। বরাবরের মতোই সাদা ফতুয়া, লুঙ্গি, হাতে চেইনের ঘড়ি পরিহিত আব্দুল আলীম লাঠি নিয়ে হুইল চেয়ারে বসেছিলেন।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের আসনে বসার ঠিক মিনিট তিনেক আগে হুইল চেয়ারে করেই কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয় আব্দুল আলীমকে।
এসময় আলীমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তার ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম। এসময় তাকে কেমন খাবার দাবার দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আলীম তার ছেলেকে বলেন, কি সব লাউয়ের তরকারি দেয়।
রায় ঘোষণা শুরু হলে আলীম তার ছেলে সাজ্জাদকে বলেন, শুনতে পাই না কি বলছে।
তবে পুরো সময় জুড়েই তার বিষন্ন ভাব কাটেনি। পরে একে একে যখন অভিযোগ প্রমাণিত বলা হচ্ছিল তখন দৃশ্যত ভেঙেই পড়েন আব্দুল আলীম। এ সময় লাঠিতে থুতনি লাগিয়ে দুই হাতে লাঠিটি ধরে বসেছিলেন।
তাছাড়া শাস্তি ঘোষণা ও রায় পড়ার শুরুতে গালে হাত দিয়ে বিমর্ষ ছিলেন আব্দুল আলীম।
রায় ঘোষণা শেষ হলে আব্দুল আলীম আগ্রহের সাথে তার ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীমকে জিজ্ঞাসা করেন কি হলো?
সাজ্জাদ বলেন, তোমাকে মৃত্যুদ- দেয়নি, লাইফ সাজা দিয়েছে। আর ৮টি অভিযোগে খালাশ দিয়েছে।
এরপরও আলীমের চোখে মুখে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
মুফতি ওয়াক্কাস
ফের রিমান্ডে
গত ৫ মে মতিঝিল ও তার আশপাশে হেফাজতের তা-বের ঘটনায় পল্টন থানার একটি মামলায় সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আশিকুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর শেখ মাহবুবুর রহমান ওয়াক্কাসকে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
এর আগে মুফতি ওয়াক্কাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৫টি মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। আরো একটি মামলায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
এ ৫টি মামলায় মুফতি ওয়াক্কাসের জামিন নামঞ্জুর করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মুফতি ওয়াক্কাসের প্রত্যক্ষ মদদে গত ৫ মে মতিঝিল ও তার আশেপাশের এলাকায় হেফাজত ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ এলাকার আবুল হোটেলের সামনে থেকে মুফতি ওয়াক্কাসকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
আসওয়াদে প্রত্যেক নিহতকে
৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
গাজীপুরের শ্রীপুরে আসওয়াদ কারখানার অগ্নিকা-ে নিহত ৭ জন শ্রমিককে মালিকপক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ সিকদার।
বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহত শ্রমিকদের  লাশ দেখতে এসে এ ঘোষণা দেন তিনি। এসময় নাফিজ সিকদার কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, আমার কারখানার শ্রমিকদের মতো শ্রমিক হয় না। নিজের জীবন দিয়ে তারা কারখানা রক্ষার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরো বলেন, টাকা দিয়ে জীবনের মূল্যায়ন করা যায় না। এর মাধ্যমে আমরা নিহত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র। নিহত শ্রমকিদের পরিবারের কেউ চাকরি করতে চাইলে আসওয়াদ কারখানার দরজা খোলা থাকবে সারা জীবন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এসময় তিনি দাঁড়িয়ে থেকে নিহতদের লাশ হস্তান্তর করেন।
লাশ হস্তান্তর শেষে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন যাতে আসওয়াদ আবার দাঁড়াতে পারে, আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে।
এসময় গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে যতো ধরনের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন আমরা দিবো।
এদিকে আসওয়াদ কারখানার সকল শ্রমিকের অক্টোবর মাসের পূর্ণ বেতন ও ঈদুল আজহার বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা ও সব শ্রমিকের চাকরির নিশ্চয়তার দাবি করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে মঞ্চ
ভেঙে পড়লেন শিক্ষকরা
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে পড়লেন শিক্ষকরা।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কে এ ঘটনা ঘটে।
সমাবেশের জন্য তৈরি বিশাল মঞ্চে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি লোক ওঠায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি মঞ্চটি ভেঙে পড়ে।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কমর্চারী ঐক্যজোটের খুলনা জেলা সভাপতি ও সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়  শিক্ষক নেতারা।
এ ঘটনায় দু’জন শিক্ষক সামান্য আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে মঞ্চের বাঁশ ও কাঠ সরিয়ে ফেলে সে স্থানেই সমাবেশ চলে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে খুলনায় এ বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বিভাগের ১০ জেলার প্রায় তিন হাজার স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক উপস্থিত হন।