যশোরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তোপের মুখে পান্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ দু’জনকে গুলি করার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর এবার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম গত ৬ অক্টোবর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার পর গতকাল বুধবার সন্ত্রাসী মাসুদুর রহমান নান্নুর তার ভাই এবিএম মাহফুজুর রহমান পান্নুকে দিয়ে পাল্টা সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন মাহফুজুর রহমান পান্নু। তিনি লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে তার এবং তার দু’ভাই নান্নু ও বাবুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ত্যথ উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সংগঠনের নামে তিনি ও তার বাহিনীর সদস্যরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজুর রহমান নিজেকে মটর পার্টস ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বলেছেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোমা অধ্যায়নরত ছাত্র বিক্ষোভের সূত্র ধরে বিসিএম কলেজের সামনে নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আকাশের নেতৃত্বে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। তারা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে আকাশ ও তার সঙ্গীরা মোল্লাপাড়া বাঁশতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। তখন তার ভাই বাবু, মিন্টু, জনি, শক্তিসহ এলাকাবাসী তাদের বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সংবাদ পৌঁছালে নজরুল ইসলাম ও তার বাহিনীর সদস্য আলীম, সাকির, আরিফ, সোহেল, নুরুদ্দিন, পাপ্পু, জুয়েলসহ অন্যান্যরা প্রতিবাদকারীদের খুঁজতে থাকে মারার জন্য। এ সময় তিনি দুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেবাড়ি যাচ্ছিলেন। তাকে মারার জন্য ধাওয়অ করলে তিনি প্রাণ ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনাটি আড়াল করে নজরুল ইসলাম মনগড়া কথা বলেছেন। তাকে কারা গুলি করেছে তা তিনি জানেন না। গুলিবিদ্ধ যুবক রিপনের মাকে নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এনেছেন। তাদের কারাগুলি করেছে তা তিনি জানেন না। লিখিত বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করেন মাহফুজুর রহমানকে। তিনি কোন প্রশ্নের বিশ্বাস যোগ্য উত্তর দিতে পারেননি। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, নজরুল ইসলামকে আসামি করতে চেয়েছিলা। কিন্তু পুলিশ তার নাম বাদ দিয়েছে। তার সাথে কারা উপস্থিত আছে সংবাদ সম্মেলনে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ১, ২, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজন উপস্থিত আছেন। কিন্তু কোন রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি সাংবাদিকরা সেখানে দেখেননি। বরং এমন কিছু লোকজন বা যুবক উপস্থিত ছিল যাদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ পুলিশের কাছে আছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি মাহফুজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় সেলিম পলাশ নামে যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি এবং লিটন ওরফে ফিঙে লিটন তার আত্মীয়। তারা সন্ত্রাসী কিনা এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। সংবাদ সম্মেলনে কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন না। তবে শ্রমিক নেতা ওহিদুজ্জামানসহ অন্যান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।