শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

মনোতোষ বসু:
শরতে হলো শারদীয় উৎসব। শুভ্র স্নিগ্ধতার অপরূপ ধাতু শরৎ। শরতে প্রকৃতি সাজে নতুন রূপে। এরই মাঝে নীল আকারে সাদা মেঘের ছুটোছুটি আর রৌদ্র ছায়ার লুকোচুরি খেলা। কখনও আকাশে কালো মেঘ আর রিমরিম বৃষ্টি। এ পাশে বৃষ্টি তো ও পাশে সুর্যের আলো। গ্রামীণ জীবনে এ হলো শরতের চিরায়ত অবয়ব। তাই এ শরতেই উৎসবমুখল রিবেশেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৫ দিনব্যাপি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। যশোরে পূজা মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ হয়েছে প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে ভাস্কররা। রং তুলির শেষ আঁচড়ও দিয়েছেন শিল্পীরা। আজ দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার বোঁধনের মধ্যে দিয়ে শুরু ষষ্ঠীপূজা। ৫ দিনব্যাপি পূজা শেষে আগামী ১৪ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এ বছরের মত দুর্গোৎসব। সব মিলিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। যশোরে এবার ৬১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার যার সাধ্যমত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কেনাকাটা করছে পুরোদমে। বাজারের বিপণী বিতানীগুলোতে ক্রোতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যশোর শহরের উল্লেখযোগ্য পূজা মণ্ডপগুলো হলো শহীদ সুধীর বাবুর কাঠগোলা, পুরাতন কালীবাড়ি শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পূজা মণ্ডপ, বাগমারা সড়কের সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, যশোর চৌরাস্তা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, যশোর মাড়োয়ারি মন্দির, সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, বেজপাড়া পূজা মন্দির ও রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন পূজা মণ্ডপ ও বেজপাড়া গয়ারাম সড়ক সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ। এছাড়া স্ব স্ব পূজা মণ্ডপ কমিটির লোকজন ব্যস্ত সময় পার করছে মণ্ডপের গেট, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ নানা প্রস্তুতিতে। পঞ্জিকা মতে এবার দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গার আগমন দোলায় আর ৫ দিন ধরায় অবস্থানের পর গমন করবেন গজে। শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ নানা বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময়ও করেছেন। গত শনিবার যশোরের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে তারই সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবে মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে। সূত্র জানায়, পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও টহল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কার্যালয়সহ যশোর জেলার ৮ উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। সভায় যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু জানান, গেল বছর যশোর জেলায় মোট ৬২৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এ বছর নানা কারণে ১১টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে না। এবার যশোরের ৮ উপজেলায় সর্বমোট ৬১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশী সংখ্যক মণ্ডপ হলো যশোর সদরে ১২৯টি এবং সবচেয়ে কম হলো শার্শা উপজেলায় ৩০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্য উপজেলায় পূজা মণ্ডপ হলো ঝিকরগাছায় ৪৮টি, মণিরামপুরে ৮৪টি, কেশবপুরে ৮০টি, বাঘারপাড়ায় ৮০টি, অভয়নগরে ১১৭টি ও চৌগাছায় ৪৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এনএনএম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবিনা ইয়াসমিন, মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন ভট্টাচার্য, পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু ও সম্পাদক দীপংকর দাস রতনসহ যশোর জেলার ৮ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। এ ছাড়াও প্রতি বারের ন্যায় এবার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন থাকছে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ভিডিপির পুরুষ ও মহিলা সদস্য। এছাড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ ৫ দিনব্যাপি শারদীয় দুর্গাপূজায় জেলার ৮ উপজেলার সকল পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শনসহ সকলের সাথে শারদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। এ দিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।