আজ মহা অষ্টমীতে কুমারী পূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক:বর্ণাঢ্য আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের গতকাল ছিল দেবীদুর্গার সপ্তমী পূজা। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে মহাঅষ্টমী পূজা। একই সাথে দুর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন পূজা মন্দিরে। সপ্তমী পূজায় শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠ, পূজা আরম্ভ, দেবী দর্শন, ভক্তবৃন্দের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। মূলত দেবী দুর্গার সপ্তমী পূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। সপ্তমীতে ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবদ্য, ¯œানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা অর্চনা করে ভক্তবৃন্দ। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পালা ও আরতিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেবী দুর্গার সপ্তমী পূজায় সকাল থেকে যশোরের পূজা মণ্ডপ গুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় না থাকলেও বিকেল থেকে শুরু হয় দেবী দর্শনের জন্য ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা শহরের পূজা মণ্ডপগুলো ঘুরে ঘুরে দেবী দর্শন করে। বিশেষ করে শহীদ সুধীর বাবুর কাঠগোলা পূজা মণ্ডপ, চৌরাস্তা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, পুরাতন কালীবাড়ি শ্রী সিদ্ধেশ্বরী পূজা মণ্ডপ, মাড়োয়ারি মন্দির পূজা মণ্ডপ, বেজপাড়া গয়ারাম সড়ক সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ ও বাগমারা রোড সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। এছাড়া পূজা মণ্ডপগুলোর সামনে মেলায়ও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। তবে পূজায় জমজমাট মেলা বসেছে সুধীর বাবুর কাঠগোলা পূজা মণ্ডপে। সব মিলিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে শারদ উৎসব। আজ দেবী দুর্গার মহাঅষ্টমী পূজায় দর্শনার্থীর ভিড় আরও বেশি হবে বলে ধারণা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের। এদিকে পূজা মণ্ডপগুলোতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। তা ছাড়াও পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টিম পূজা মণ্ডপসহ শহরে টহলে ছিল। এদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু যশোর শহরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর মোকছিমুলবারী অপু, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সেতারা খাতুন, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার গণি খান পলাশ। নেতৃবৃন্দ পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শনের সময় সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দও পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ভক্তবৃন্দ, দর্শনার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে শারদ শুভেচ্ছা বিমিনয় করেন। এদিকে, যশোরে শহীদ সুধীর বাবুর কাঠগোলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। মন্দির কমিটির সভাপতি দেবব্রত ঘোষ জানান, সপ্তমীতে বোধনতলায় পূজা করা হয়। পূজা শেষ করে পুরোহিত ভক্তবৃন্দকে অঞ্জলি দেন। এরপর গরিবের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। দেবব্রত ঘোষ আরও জানান, আজ থেকে অর্ধশত বছর আগে ১৯৫৩ সালে যশোর শহরের সংস্কৃতি প্রেমী ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত কিছু তরুণদের আগ্রহে সুধীর কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে এ কাঠগোলা পূজা মণ্ডপে সর্ব প্রথম শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তখন পূজা কমিটির সভাপতি ছিলেন যশোর সংঘের সভাপতি সুধীর কুমার ঘোষ। পূজায় হিন্দু ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একটি রুচিশীল সাজসজ্জার বৈচিত্রে প্রতি বছর নতুন নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হয় মণ্ডপ। সেই ধারা আজো বহমান। কালের বাস্তবতায় এক সময় যশোর সংঘ বিলুপ্ত হয়। সত্তর দশকের গোড়ায় সুধীর কুমার ঘোষ ও তার সহধর্মিনী কনকলতা ঘোষ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পারিবারিক উদ্যোগে পূজানুষ্ঠান পরিচালনা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে সুধীর কুমার ঘোষ পাক হানাদারদের হাতে শহীদ হন। এরপর থেকে সুধীর কুমার ঘোষের পরিবারের অন্যান্যরা শারদীয় পূজানুষ্ঠানের অতীতের ঐতিহ্য বজায় রেখে নিয়মিতভাবে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা করে আসছে।