প্রজনন মৌসুমের ১১ দিন ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ

নিউজ ডেস্ক : ইলিশ মাছের উ‍ৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মা ইলিশ রক্ষায় রোববার থেকে ১১ দিন জেলেদের ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

এ সময়ে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি, মজুদ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা বলব‍ৎ থাকবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা। এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য গভীর সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে। তাই মা ইলিশ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট ১১ দিন ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ জন্য ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে, ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, ইলিশা থেকে চর পিয়াল ও ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত জলসীমার ১৯০ কিলোমিটার এলাকা।

বরিশালের আওতাধীন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গহুমারা।

উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমউদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমউদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট ও দক্ষিণ পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতা চাপলী এলাকার ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার।

এছাড়াও চাঁদপুরের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, একটি নির্ধারিত সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে।
তাই ওইসব এলাকাকে ইলিশের প্রজনন স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া এই আদেশ কার্যকর হবে দেশের উপকূলের সব নদ-নদীতেও।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র  জানিয়েছে, বিগত সময়ের তুলনায় গত মৌসুমেও ৩৬ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। যা থেকে ২৪ হাজার কোটি জাটকার পোনা উৎপন্ন হয়ে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ না ধরার জন্য মৎস্যঘাট এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।

পুলিশ, কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালিত হবে।

এ সময়ে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।