প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার’: ‘আমরা দিতে আসি, নিতে আসি না’

স্পন্দন ডেস্ক:দেশের সবচেয়ে বড় উড়ালসেতু যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার’ ঈদে নগরবাসীর জন্য উপহার বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার বিকেলে ফ্লাইওভার উদ্বোধন শেষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫টা ৩৫ মিনিটে এ উপলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ফ্লাইওভার উদ্বোধন করে প্রথম টোল আমি দিয়েছি। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের যৌথ উদ্যোগে প্রথম ফ্লাইওভার এটি।
তিনি বলেন, ঈদের আগে প্রায় ৩০টি জেলার মানুষের যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে এই ফ্লাইওভার অনেক উপকার করবে। কারণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টি জেলার সংযোগ সড়ক এটির। রাজধানীবাসীর জন্য এটা ঈদ উপহার।
ঈদের আগে উদ্বোধনের কারণে মানুষের কষ্ট লাঘব করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দিতে আসি, নিতে আসি না। ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে আমরা ফ্লাইওভার, ওভারপাসসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলার যোগাযোগ সহজ করতে কমিউটার ট্রেন চালু করেছি।
তিনি বলেন, রেল নেটওয়ার্ক আরও বাড়াতে আমরা কাজ করছি, যেন মানুষ কম খরচে ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, বুড়িগঙ্গার প্রচুর বর্জ্য পরিশোধন করা হয়েছে। আমরা অনেকটাই দূষণমুক্ত করেছি। এখন অন্তত কিছু জলজ প্রাণী দেখা যায়। কিš‘ মানুষেরও সচেতনতা থাকা উচিত। মানুষ যদি নদীতে জঞ্জাল ফেলে তাহলে আমরা পরিষ্কার রাখবো কীভাবে।
স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। আমি তখন বক্তব্য দি”িছলাম। আমার ঠিক ডান পাশে হানিফ ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা আমাকে ঘিরে রাখেন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টার হানিফ ভাইয়ের মাথায় এসে লাগে। রক্ত তার মাথা থেকে আমার গায়ে টপটপ করে পড়তে থাকে। আমরা তার নামে এ ফ্লাইওভার করেছি।
এসব কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে যান।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে অনেক সমস্যা ছিল। আমরা তা সমাধান করেছি। সায়েদাবাদের পানি শোধনে ফেইজ ১, ২ শেষ করেছি। পদ্মা নদী থেকে পানি এনে বিশুদ্ধ করে ঢাকাবাসীর পানি সরবরাহ বাড়ানো হবে। গ্যাসের সসস্যাও সমাধান করেছি। আর বিদ্যুতের কথা তো বলার কিছু নেই। সাড়ে চার বছরে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন করা হয়েছে।
এসময় তিনি সরকারি বেসরকারি পার্টারশিপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেরা সবকিছু করবো। কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের অনেক মেধা রয়েছে।
এছাড়া ফাইওভার নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এর আগে বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ফিতা কেটে ফাইওভারটি উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ওরিয়ন গ্রপের কর্মকর্তারা।
পরে ফ্লাইওভার উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ৪টা ০৩ মিনিটে কুতুবখালী টোল প্লাজা ফলক উন্মোচন করেন। সেখানে মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ৫০ টাকা টোল দেন।
টোল দেওয়া শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মাঝে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী আসার পথে সায়েদাবাদ সুপার মার্কেটের কাছের একটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে নেমে কিছুদূর হেঁটে ফাইওভার থেকে আশপাশের এলাকা দেখেন।

রাজধানীর প্রবেশ মুখে যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে দেশের সর্ববৃহৎ এই ফাইওভারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০১০ সালে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার নিমতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের শুরুতে ফাইওভারটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৮৮ কোটি ৯০ হাজার ৩৮১ টাকা। কয়েক দফা নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে বর্তমানে ফাইওভারটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই দুই হাজার ১০৮ কোটি টাকা সরকার অনুমোদন করেছে। আর ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদনের অপেক্ষায়।