উৎসবে সরব আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণা

স্পন্দন ডেস্ক:শারদীয় দুর্গাপূজা ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণা সরব হয়ে উঠেছে। নিজ নিজ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ মনোনয়নের আশায় কেউবা আবার আসন রক্ষার তাগিদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। প্রার্থীদের পদভারে মুখরিত এখন পূজাম-প, চায়ের আড্ডা ও হাট-বাজার।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের চাঙা রাখতে ও জনসমর্থন নিজের পক্ষে আনতেই এলাকামুখী হয়েছে তারা। মুসলমান ও হিন্দুদের বড় উৎসব দুটি নির্বাচনের আগে হওয়ায় প্রার্থীদের জন্য এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের সুযোগ হয়েছে। তাই এ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। লক্ষ একটাই। ভোটটা চাই।
পথসভা বা জনসভা না করেই প্রতিদিন পূজাম-পে অনেক মানুষ একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। চেষ্টা করছেন নিজের সর্ব্বোচ্চ দিয়ে মানুষের মধ্যে মিশে যেতে। নিজের পক্ষে সমর্থন নিতে। এজন্য কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যের নির্দেশে ‘পূজাম-প নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আর্থিক অনুদানের একটা বিশাল অংক দিচ্ছেন সংসদ সদস্য বা মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তি।
ঈদের মাঠ সাজাতেও তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেমে নেই। এবার যেন আরেকটু আড়ম্বরপূর্ণ করতে চায় ঈদের নামাজের আয়োজন। সবারই আশা এ কারণেও যদি নামাজের পর একটু কথা বলতে দেওয়া হয় ঈদগাহ মাঠে। হয়তো এর মধ্য দিয়েই প্রকাশ্য বা পরোক্ষভাবে  ভোটটা চেয়ে নেবেন। সমর্থন কুড়াবেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপদের লোকদের।
অনেকে আবার হিসাব করছেন কয়টা গরু কিনবেন? গরু যত বেশি হবে, নিজের সুনামটাও তত বাড়বে।
এক্ষেত্রে এগিয়ে তরুণ, নবীন প্রার্থী, সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা। কোথাও আবার ব্যবসায়ীরাও সরব হয়ে উঠেছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা। বসে নেই প্রবীণরাও। বছরের পর বছর আওয়ামী লীগ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা ও উপজেলা সংগঠনের। এমন অনেককেই দেখা যাচ্ছে এ দৌড়ঝাঁপে। নিজেদের জনপ্রিয়তা দিয়ে অন্তত আসনটি ধরে রাখতে চায় তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ধর্মীয় উৎসবে মানুষের কাছে গিয়ে আমাদের দলীয় নেতা বা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কুশল বিনিময় করছেন। পূজার ম-পে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এটা তাদের জন্য একটা পজিটিভ দিক। এটা ভালো উদ্যোগ।
তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদকে তার এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে গণসংযোগ করতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে সব সময়। আর উৎসব-পার্বণে তাদের এ কাজের গতি আরও একধাপ বৃদ্ধি পাওয়ারই কথা। এটা করতে পারলে তাদের জন্যই ভালো।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এ প্রতিবেদককে জানান, মানুষের কাছে যাওয়ার বড় একটি সুযোগ এই উৎসব। যারা নির্বাচন করবেন তাদের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন দরকার। সাধারণ মানুষের ভোট পেলেই তো তিনি নির্বাচিত হবেন। সেজন্য তাকে মানুষের দরজায় যেতেই হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে ঈদ ও পূজা পালন করে। সবাই একত্রিত হন। তাদের মধ্যে একটা মিলনের আমেজ থাকে। এ সময় মানুষের সঙ্গে মিশে যাবে সব প্রার্থীরা। ভোট চাইবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মানুষ তাদের আপন প্রার্থীকেই ভোট দেবে। আর আপন হওয়ার জন্য উৎসব-পার্বণে প্রত্যেক প্রার্থীকে মানুষের পাশে থেকে আনন্দ-বেদনার সমান অংশীদার হতে হবে বলেও জানান তিনি।