যশোরে সাতারুদের ক্লাব ডলফিন

মারুফ কবীর:যশোরে সাঁতারের যে ৩/৪টি ক্লাব আছে তার মধ্যে অন্যতম ডলফিন সুইমিং ক্লাব। এ ক্লাবটি যশোরের সব ধরণের সাঁতার প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। যশোর ডলফিন সুইমিং ক্লাবের সফলতার পাল্লা অনেক ভারি। ১৯৮৭ সালের ৪ এপ্রিল গঠিত হয় সাঁতারের এ ক্লাব। ১৫ সদস্যের কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু তাদের। ওই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মোকসেদ সফী এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল মান্নান। সাঁতারের এ ক্লাবটি ১১১/১ পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ায় অবস্থিত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার্ড ক্লাব এটি। রেজিস্ট্রেশন নম্বর-২৬৯/৯১। তাছাড়া বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুমোদিত ক্লাব এটি। এ ক্লাবের সাঁতারুরা দেশে ও বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। বাংলাদেশের সাঁতার জগতে ইতোমধ্যে অন্যান্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতার প্রতিযোগিতায় এ যাবত ৭ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এ ক্লাব। তাছাড়া জাতীয় পর্যায়ে এ ক্লাবের পদকের সংখ্যা ৩৫ এর বেশি। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে ৫টি, ১৯৯৭ সালে ৭টি, ১৯৯৮ সালে ৪টি, ২০০০ সালে ৫টি, ২০০৪ সালে ৬টি এবং ২০১৩ সালে ৫টি পদক আসে। এ ক্লাবের ৫ জন সাঁতারু জাতীয় পর্যায়ে স্থান পেয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে শ্রীলংকা সাফ গেমসে ২ জন রেশমা পারভীন দিপু ও রুবিনা জেসমিন পল্লবী, ১৯৯৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ সাফ গেমসে ১ জন জবেদা খানন ইতি, ২০০৬ সালে ২ জন শ্রীলংকা সাফ গেমস ও কোলকাতায় অনুষ্ঠিতত ২০০৭ সালের ইন্দো বাংলা গেমসে মাহফুজা খাতুন এবং নজরুল ইসলাম দেশের হয়ে পদক অর্জন করেন। এ ক্লাবের তিনজন সাঁতার প্রশিক্ষক   মিট অফিসিয়াল, দু’জন অফিসিয়াল নেপাল ও পাকিস্তান সাফ গেমসে দায়িত্ব্ পালন করেন। বর্তমানে যশোর ডলফিন সুইমিং ক্লাবের মাহফুজা খাতুন ও নজরুল ইসলাম জাতীয় সাঁতার দলে আছেন। ১৯৮৮/৮৯ সালে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে যৌথভাবে এ ক্লাব নতুন সাঁতারু তৈরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। সাঁতারের পাশাপাশি ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে ডলফিন সুইমিং ক্লাব। তবে ২০০৩ সালের পরে যশোরে আর ওয়াটার পোলো লিগ না হওয়ায় এ পর্যায়ে কোনো সফলতা তারা ঘরে তুলতে পারেনি। সাঁতারে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সাঁতারের এ ক্লাবটি। যশোর নতুন উপশহর লেকে ১৯৯৭ সালে বদ্ধ পানিতে ৫ কিলোমিটার দুরপাল্লা সাঁতারের আয়োজন করে ডলফিন সুইমিং ক্লাব। যশোর ডলফিন সুইমিং ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের পাশাপাশি নতুন সাঁতারু তৈরির ট্রেনিং দিয়ে থাকে। তাছাড়া তাদের সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ পর্যন্ত আছে। এছাড়া যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়  ও শহরতলীতে প্রতিভা অন্বেষণ স্পট আছে এ ক্লাবের। যেখান থেকে নতুন সাঁতারু সংগ্রহ করা হয়। স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চৌগাছার গরীবপুর, ঝিকরগাছার পাইরাডাঙ্গা, ঝিকরগাছার ওসমানপুর, খাজুরা, চেংগুটিয়া উল্লেখযোগ্য। ক্লাবের সভাপতি মোকসেদ সফী দৈনিক স্পন্দনকে বলেন, বর্তমানে ক্লাব বাঁচিয়ে রাখা দূরুহ ব্যাপার। তারপরে সাঁতারের জন্য প্রয়োজন পুল, পুকুর, তা না হলে সাঁতার প্রশিক্ষণ আদৌও সম্ভব হয় না। পাশপাশি পৃষ্টপোষকতার অভাবে বড় কিছু করার ইচ্ছাও মাটি চাঁপ দিতে হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের জেলা তথা ক্লাবকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাঁতার অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা। তৃণমূল পর্যায়ে সাঁতারের বিস্তৃতি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যশোর তথা দেশের সাঁতারুকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলের আন্তরিকতার প্রয়োজন।