যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সেবিকা তারা অর্থ লোপাটে ফেসে গেলেন

বিল্লাল হোসেন:সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় ফেঁসে গেলেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মহিলা পেইং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারা। এ সেবিকার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তারাকে ওয়ার্ড ইনচার্জের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমনটা জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রে জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের মহিলা পেইং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি এদিন স্থানীয় এক সাংবাদিকের নজরে এলে তার অপকর্ম ফাঁস হয়ে পড়ে। গত ৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত খবর দৈনিক স্পন্দনসহ পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ওই দিনই হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সালাউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার সাহা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও, উন্নয়ন) ডা. আলমগীর কবির ও ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মালেক। ৮ অক্টোবর কমিটির সদস্যরা তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। গতকাল রোববার হাসপাতালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারার সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রতিবেদনে ওই সেবিকাকে দোষী সাবস্ত করে ওয়ার্ড ইনচার্জের পদ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি দেখবেন নতুন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক। কথা হয় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্যার সাথে। তিনি জানান, যদি সাবেক ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কর্মকর্তা জানান, ওই সেবিকাকে ওয়ার্ড ইনচার্জের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি পাঠানো হবে। এছাড়া শাহনাজ পারভীন তারাকে বরখাস্ত করারও সুপারিশ করা হতে পারে। এছাড়া অপর একটি সূত্র জানায়, সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারা মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডের ইনচার্জের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় শোনা যেত তিনি ওয়ার্ডে রোগীদের জমা দেয়া টাকা কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে সেবিকা শাহনাজ পারভীন তারা ওষুধ কেলেঙ্কারীর ঘটনায়ও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।