আদুরীর ঈদে অনেক জামা!

ঢাকা অফিস: অনেক জামা-কাপড় পেয়েছে আদুরী (১১)। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। আর ঈদ করবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।

আদুরীর ওজন আগের চেয়ে চার কেজি বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২১ কেজিতে। সে এখন আগের চেয়ে অনেক সুস্থ বলে জানিয়েছেন ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসক বিলকিছ বেগম।

তিনি বলেন, ‘আদুরীর উদ্ধারের ঘটনা ফলাও করে প্রচারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর অনেকেই আদুরীর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক জামা-কাপড় পেয়েছে আদুরী।’

গত ২৩ সেপ্টেম্বর আদুরীকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট বেড়িবাঁধ এলাকার পাশে একটি ময়লার ডাস্টবিন থেকে লিলি আক্তার নামে এক নারী উদ্ধার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

আদুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক ডা. বিলকিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ চিকিৎসক জানান, আদুরীর অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে সে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। এছাড়া তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এগুলো সেরে উঠতে অনেকটা সময় লাগবে। এখন তাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে দুর্বলতা কাটাতে।

আদুরীর মা সাফিয়া বেগম  জানান, এক বছর আগে পটুয়াখালীর ঠিকাদার চুন্নু মিয়া আদুরীকে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। চুক্তি হয়েছিল প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার। এই ভেবেই রাজি হয়ে যান তারা।

তিনি জানান, প্রথমে চুন্নু মিয়া আদুরীকে কিছুদিন তার কাছে রেখে পাঠিয়ে দেন মিরপুরের পল্লবীতে তার বোনের বাসায়। সেখানে আসার পর নওরীন জাহান নদী (২৭) গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করিয়ে নেওয়ার সময় উপর্যুপরি নির্যাতন করতে থাকেন।

সাফিয়া বেগম জানান, ২২ রমজানে আদুরীর সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। সেদিন আদুরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘মা, তুই কেমন আছিস?’

তখন সে বলেছিল, ‘তোমরা আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। এখানে আমার ভালো লাগে না।’

আদুরীর বরাত দিয়ে তার মা আরো বলেন, ‘আমাকে আদুরী বলেছে- মা আমাকে তারা খেতে দেয় না। শুধু কথায় কথায় মারে।’

নয় ভাই-বোনের সংসারে আদুরী সপ্তম। খুব আদর করে বাবা-মা সন্তানের নাম রেখেছিলেন- আদুরী। আট বছর  আগে আদুরী  তার বাবাকে হারায়।

সংসারে উপার্জনের প্রধান ব্যক্তিকে হারানোর পর আদুরীর মা সাফিয়া বেগম মাটিকাটার কাজে নেমে পড়েন। দুই বেলা ছেলে-মেয়েদের মুখে দুমুঠো খাবার জোগাড় করা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

উপায় না দেখে তিনি নয় বছরের আদুরীকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। সে সময় মা-বাবার দেওয়া নামটিও তারা পাল্টে আদুরী পরিচিতি পায়- ‘মনিকা’ নামে। তবে আদুরী নামে ছোট্ট এই শিশুটির ঠিকানা যে শেষ পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে হবে, তা তাদের কল্পনাতেও ছিল না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ আদুরীর গৃহকর্ত্রী ও বাসার ঠিকানা বের করে। এরপর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকেও (২৭) খুঁজে পান তারা। ওই রাতেই আদুরীর মামা নজরুল চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন। প্রধান আসামি করেন নওরীন জাহান নদীকে। গ্রেফতারের পর নদী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপপরিদর্শক (এসআই) কুইন  জানান, আদুরী নির্যাতনের মামলা তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মামলার মূল আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

অল্প কিছু দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।