নিজ এলাকায় ঈদ করছেন বেশির ভাগ আ.লীগ নেতা

নিউজ ডেস্ক:আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ও মন্ত্রী এবার ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন নিজ নিজ এলাকায়। দলটির নেতারা মনে করছেন, এবারের ঈদ হবে নির্বাচনী আমেজে। কারণ, নির্বাচন সন্নিকটে। তবে ঈদ শেষে দ্রুতই রাজধানীতে ফিরবেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, প্রতি ঈদের মতো এবারও ঢাকায় সরকারি বাসভবন গণভবনে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদের দিন সকাল সাড়ে নয়টায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে, বেলা সাড়ে ১১টায় বিদেশি কূটনীতিক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
ঢাকায় ঈদ করবেন যাঁরা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে ঈদের পরই কিশোরগঞ্জে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যাবেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ঈদ করবেন ঢাকায়। কয়েক দিন নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরে গণসংযোগ করে এসেছেন। ঈদের পরপরই তিনি আবার এলাকায় যাবেন।
অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন ঈদ করবেন ঢাকায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে তিনি ঈদের পরই তাঁর নির্বাচনী এলাকা শেরপুরে যাবেন।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান ঢাকায় ঈদ করবেন। পরের দিন চলে যাবেন তাঁর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জে। দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে দেখা করে শনিবার তিনি ঢাকায় আসবেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও এবার ঈদ করবেন ঢাকায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ঈদ করবেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায়।
নিজ এলাকায় ঈদ করবেন যাঁরা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবার ঈদ করছেন নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ঈদ করবেন সিরাজগঞ্জে তাঁর নিজ এলাকা কাজীপুরে। বর্তমানে তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ ঈদ করবেন তাঁর এলাকা ফরিদপুরে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ঈদ করবেন তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠিতে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ঈদ করবেন তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভোলায়। তবে ঈদ ও পূজা একসঙ্গে হওয়ায় একটু বেশি ব্যস্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পূজার দিনগুলো তিনি ঢাকায় পার করলেও ঈদ করবেন সুনামগঞ্জে নিজ নির্বাচনী এলাকায়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনও ঈদ করেন নিজ এলাকা ভোলার মানুষের সঙ্গে। ইতিমধ্যে তিনি সেখানে চলে গেছেন। তবে ঈদের দিন রাতেই ফিরে আসবেন ঢাকায়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ঈদ করবেন তাঁর নিজ জেলা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঈদ করবেন দিনাজপুরে, আহমদ হোসেন ঈদ করবেন নেত্রকোনায়, বি এম মোজাম্মেল ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঈদ করবেন শরীয়তপুরে। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ জয়পুরহাটে, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ঈদ করবেন সিলেটে। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ঈদ করবেন মুন্সিগঞ্জে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ঈদ করবেন নিজ এলাকা চাঁদপুরের মতলবে। ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন নিজ এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। ঈদের দু-একদিনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরে আসবেন তিনি।

দেশের বাইরে ঈদ করবেন যাঁরা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ঈদ করবেন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮ কিংবা ১৯ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঈদ করবেন যুক্তরাষ্ট্রে। ৯ অক্টোবর তাঁরা সেখানে যান। ১৯ অক্টোবর তাঁরা দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন ঈদ করবেন ভারতে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে থাকতে হচ্ছে।