রাজধানীতে মাংস টোকাইদের আনন্দ

স্পন্দন ডেস্ক: কোরবানির ঈদ এলেই রাজধানীতে মাংস টোকাইদের দেখা মেলে। মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে থলে ভরে মাংস খুঁজে নেয় তারা। কখনও দলবেধে আবার কখনো নিজের মতো করেই মাংসের থলি ভরে নেয় এরা। আর এ মাংস টোকানোর মধ্যেও তারা খুঁজে পায় ভিষণ আনন্দ।

ঈদের সকাল পেরিয়ে বেলা একটু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীতে মাংস টোকাইয়ের দল নেমে পড়ে। ছেলে থেকে বুড়ো বিভিন্ন বয়েসী এ টোকাইদের বেশিরভাগই অস্বচ্ছ্বল। কেবল রাজধানীর বাসিন্দা নয়, মাংস টোকাইদের একটি বড় অংশ এসেছে পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ।

টোকাইদের বড় একটি অংশ আবার নারী। ঘর থেকে কেবল একাই বের হয়নি নারীরা। সঙ্গে করে নিয়ে বেরিয়েছে ছোট ছোট শিশুদেরও। তাদের মতে, একজন শিশু সঙ্গে করে নিলেই এক ভাগ মাংস বেশি পাওয়া যাবে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে ধরে সবখানেই মাংস টোকাইদের আনা গোনা দেখা গেছে। যেখানেই কোরবানির পশুর কাটাকুটি চোখে পড়েছে, সেখানেই তারা । ভিড় জমিয়েছে। কোথাও থেকে কেবল এক কিংবা দুই টুকরো মাংস ভাগ্যে জুটেছে। এভাবে করেই এক একজন টোকাই কয়েক কেজি করে মাংস জমিয়ে নিতে দেখা গেছে।

ধানমণ্ডিতে কথা হয় রহিমা খাতুন নামে এক মাংস টোকাইয়ের সঙ্গে। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে মাংসের খোঁজে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে কোরবানি করি নাই। মাইনষ্যের কাছ থেইক্যা খুঁইজা যা পামু, তা দিয়া পোলা মাইয়াগোরে খাওয়ামু।’

সাগর নামে তরুণ এক টোকাই বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সবাই মাংস দিলে সেইডা দিয়া ঈদ করমু।’ তার কাছ থেকে জানা গেছে-তার পরিবারের পাঁচ সদস্যই কোরবানির মাংসের জন্য বেরিয়েছে।

মাংস বিক্রি হাট
রাজধানীতে ঈদের আগে গরুর হাট বসলেও ঈদের দিন বসে মাংস বিক্রির হাট। বিভিন্ন স্থান থেকে খুঁজে আনা মাংসগুলো তারা বিক্রি করতে নিয়ে আসে এ হাটে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার আর খিলগাঁওয়ে এ ধরণের বড় দুটি হাট বসে। এ ছাড়াও বিভিন্নস্থানে ছোটখাটো হাট বসে। এছাড়াও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে  খুঁজে আনা এ মাংসগুলো বিক্রি করে টোকাইরা।

তবে এ হাটগুলোর কোনো নাম থাকলেও সবার কাছে পরিচিত হাটগুলো। ঈদের বিকেল হতে হতেই হাটগুলো সরগরম হয়ে উঠে। পুরো ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে টোকাইরা ব্যাগ ভরে মাংস নিয়ে জড়ো হয় হাটগুলোতে।

কারওয়ান বাজারে মাংস কিনতে আসা হোটেল মালিক আব্দুস সালামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘অনেক কমদামে এখানে মাংস পাওয়া যায়। ফ্রিজে রেখে দিলে অনেকদিন বিক্রি করা যাবে।’

হায়দার হোসেন নামে অপর ক্রেতা  বলেন, ‘বাজার থেকে অনেক সময় মাংস কিনতে গেলে গরুর বদলে মহিষের মাংস ধরিয়ে দেয়। এখন তা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর দাম কম বলেও বেশি করে কিনে রাখছি।’

মাংস বিক্রি করেও বেশ আনন্দিত মাংস টোকাইরা। সারাদিন শেষে বেশ কিছু টাকা নিয়ে তারা ফিরতে পারছে বলেও আনন্দ তাদের চোখে মুখে…।