কেসিসির কাউন্সিলর পিন্টু গুলিবিদ্ধ আহত ১০ : পাল্টাপাল্টি মামলা

খুলনা ব্যুরো:খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কাউন্সিলরের বাম পায়ে একটি গুলি ও শরীরে প্রায় অর্ধশতাধিক গুলির ছররা লেগেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর খালিশপুরে নিজ বাড়ির সামনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে গুলি বিনিময়কালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ১০ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি বিনিময় হয় হয়েছে বলে  পুলিশ জানায়। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন এলাকাবাসী। আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খালিশপুর থানায় আলাদা দু’টি মামলা হয়েছে। কেসিসি নির্বাচনের ইস্যু ও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার উত্তর কাশিপুর এবং চেয়ারম্যান বাড়ির ছেলেরা কাউন্সিলরের বাড়ির সামনের মাঠে ফুটবল খেলছিল। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় কাউন্সিলর পিন্টু ও আমানত ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ প্রাইমারী স্কুলের সামনে ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম, খালিদ, ফরহাদ, মূসাসহ ২৫/৩০ জনের একটি বাহিনী এলোপাতাড়িভাবে কাউন্সিলর পিন্টুর ওপর গুলি বর্ষন করে। কাউন্সিলরের বাম পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। আত্মরক্ষার্থে কাউন্সিলর শর্ট গান দিয়ে পাল্টা গুলি করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। জানা গেছে উভয় পক্ষে বৈধ শর্ট গান ব্যবহৃত হয়েছে।
আহতরা হলেন, আমানত (৪০), ইফতিয়ার (২৫), রসুল শেখ (৫৫), আজিজুল, বাবু (৩৫), ফারুক (৩৮), আবুল (৫৫), রানা (২০) নিজাম এবং জব্বার (৮০)সহ আরও ২/৩ জন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খালিশপুর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, উত্তর কাশিপুর ও চেয়ারম্যান বাড়ির ছেলেদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পরবর্তীতে গুলি বিনিময় হয়। কাউন্সিলরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে উভয়পক্ষের বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগর বিএনপির সভাপতি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আসগার লবী, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব গফফার বিশ্বাস, কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস, নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ এস এম আরিফুর রহমান মিঠুসহ কেসিসি’র কাউন্সিলরবৃন্দ পিন্টুকে হাসপাতালে দেখতে যান। অপরদিকে পিন্টুর ওপর হামলায় ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান বিশ্বাসসহ প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলরবৃন্দ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর পিন্টু’র চাচা শেখ রসূল ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতানামাদের আসামী করে গতকাল খালিশপুর থানায়  মামলা করেছেন (মামলা নং-১১ তাং- ১৮/১০/১৩ ইং)। মামলার আসামিরা হলেন, শেখ খালিদ আহম্মেদ ওরফে ফেন্সি খালিদ (৩১), শেখ মোশাররফ হোসেন (৪৮), রাফু শেখ (৫০), বেল্লাল ওরফে কোকড়া বেল্লাল (২২), ইমরান (২৩), নিলয় (২০), সবুজ (২৭), শেখ ফরহাদ ওরফে ট্যারা ফরহাদ (৩৮), শেখ সুমন (২৭), তরিকুল (২৮), বেল্লাল (২৯), বাপ্পী (৩২), শরীফুল (৩৬), রাসেল (২৫), ডিম সোহেল (২৫), সুজন (২৬), মোঃ মিজানুর রহমান ওরফে সুইদে মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০জন। অপরদিকে শেখ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল ৯ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা মামলা করেছে ( মামলা নং-১০, তাং- ১৮/১০/১৩ ইং)। মামলায় সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ইফতিয়ার, রসুল, জাকির, আজিজুল, মহিজুল কচি, বাবু ও মোঃ বকসিকে আসামী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন (৫৫) গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালামের বড় ভাই।