ঈদের পর প্রথম হাটে ৫০ কোটি টাকার লেনদেন: রাজারহাটের চামড়ার বাজার চাঙ্গা

আবদুল কাদের:দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে এবার চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। চামড়া বাজারের প্রথম দিন শনিবার প্রায় ৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে ৩০ কোটি টাকার গরুর চামড়া ও ২০ কোটি টাকার ছাগলের চামড়া রয়েছে। চামড়ার ভালো দাম পেয়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী খুশি।
শনিবার বেলা ১২ টার দিকে রাজারহাট চামড়ার বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জমজমাট চামড়া বাজারে পাইকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাকডাক চলছে। এদিন বাজারে ভালো গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৮৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকা , মাঝারি প্রকৃতির ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বর্গফুট  ও নি¤œমানের চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বর্গফুট দরে বিক্রি হয়েছে। ছাগলের চামড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা বর্গফুট দরে বিক্রি হয়েছে। এই বাজারে প্রায় ৩ লাখ পিস গরু ও ছাগলের চামড়া উঠেছে। এরমধ্যে ১ লাখ পিস গরু ও ২ লাখ পিস ছাগলের চামড়া রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সরকার এবছর গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি বর্গফুট ৮০ টাকা ও ছাগলের চামড়া (মানভেদে) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বর্গফুট। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন বাজারে চাহিদা থাকায় চড়া দামে কিনেছেন। কিন্তু পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ায় বড় সংকটে পড়েছেন তারা।  জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকটা হতাশা লক্ষ্য করা যায়।  কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের হতাশার কথা।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকার ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী নীল কমল জানান, এলাকার মানুষের কাছ থেকে তিনি ৫০টি গরুর চামড়া কিনেছেন এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় প্রতি পিস ( চামড়ার মানভেদে)। এ চামড়া বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন তিনি। নীল কমল জানান আড়াই হাজার টাকায় কেনা চামড়া সর্বোচ্চ ২২ শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ চামড়ায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি সুদে টাকা নিয়ে চামড়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলেও জানান। সেই টাকা পরিশোধ করার জন্য লোকসানে হলেও বিক্রি করে দিয়েছেন।
খুলনার দিঘলিয়া এলাকার আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুশান দাস অভিযোগ করেন, টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে ঢাকার বাজারে চামড়ার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। ওই বাজারে প্রতি বর্গফুট ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় চামড়ায় বিক্রির খবর শুনে আমরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনে ধরা খেয়ে গেছি। এখন বাজারে এসে দেখছি বর্গফুট প্রতি ৯৫ টাকার ওপর গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। অথচ আমরা ১০০ টাকার ওপরে দাম দিয়ে কিনেছি।
রংপুরের এক পাইকারী ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বাইরের জেলার ব্যবসায়ীর উন্মুক্ত দরকষাকষিতে চামড়া কিনতে পারছে না।
সাতক্ষীরার  নলতা থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোকছেদ আলী ও সুন্নত আলী গাজী বলেন, বাজারে চামড়া নিয়ে আসলেই পিস প্রতি ২০ টাকা করে হাটের খাজনা গুনতে হয়। তাই দাম না পেলেও বিক্রি করে আসল তুলতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ৮ লাখ টাকার চামড়া কিনেছি। টাকা পরিশোধ করতে না পারলে পালাতে হবে।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, রাজারহাটের চামড়ার বাজারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ২০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনুমানিক ৩ লাখ পিস গরু ছাগলের চামড়া এনেছে। এই চামড়ার দাম আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। দুপুরের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। বাকি চামড়া সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। যেকারণে এবার রাজারহাট চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তবে চামড়া পাচার যাতে না হয় সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর নজারদারি করতে হবে।
বাংলাদেশ বর্ডার গাড (বিজিবি) যশোরের কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল মতিউর রহমান বলেন, চামড়া পাচার যাতে না হয় সেজন্য সীমান্তের সব বিওপি ক্যাম্পগুলোকে অধিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোন অবস্থাতে চামড়া পাচার করতে দেয়া হবেনা।