দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়তে সহযোগিতা করুন : শেখ হাসিনা

স্পন্দন ডেস্ক: বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা দারিদ্র্যের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করব। সেজন্য আপনাদের সকলের সহায়তা চাই।”ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা ১৪১৮ সালে কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য চারজনকে স্বর্ণ, সাতজনকে রৌপ্য এবং ১৭ জনকে ব্রোঞ্জ পদক দেয়া হয়। বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুল চাষের জন্য যশোরের ঝিকড়গাছার গৎখালী ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম; বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য চাষের জন্য গাইবান্ধার লুৎফর রহমান, উদ্ভাবন ও কৃষি সম্প্রসারণে বিশেষ অবদানের জন্য মানিকগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ এবং কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য নোয়াখালীর পূর্ব বীরপুর ক্লাবের মহাসচিব তাহমিনা আক্তারের হাতে স্বর্ণপদক, ২৫ হাজার টাকার চেক ও একটি করে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রৌপ্য পদকপ্রাপ্তরা ১৫ হাজার টাকা ও সনদ এবং ব্রোঞ্জপদক প্রাপ্তরা সনদ ও সাড়ে সাত হাজার করে টাকা পেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই, প্রত্যেকটা মানুষ নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচবে। গ্রামের মানুষ নাগরিক সুবিধা পাবে। আমরা চাই মানুষ যেন উন্নত জীবনের অধিকারী হয়। আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা এই অল্প সময়ে অনেক কাজ করেছি।”সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহীত করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেই। গবেষণা ছাড়া কৃষির বিস্তার সম্ভব না।” কৃষকদের উৎসাহিত করতে ১৯৭৩ সালে জাতীয় এই পুরস্কার চালু করার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার’ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেয়া হয় এবং কৃষি পুরস্কার প্রদানের কার্যক্রমও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৯৯৭ সালে আবরো বঙ্গবন্ধুর নামে এই পুরস্কার চালু করলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আবারো এ পুরস্কার থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেয়। কৃষিখাতে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি, তখন দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। ৫ বছরে আমরা বাংলাদেশকে ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য-উদ্বৃত্ত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করি। এবার এসে আবার দেখি ৩০ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি।”বর্তমানে টিএসপি ২২ টাকায়, এমওপি ১৫ টাকা এবং ডিএপি ২৭ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কৃষিপণ্য সহজলভ্য করা সরকারের দায়িত্ব। এটা চাইলে মরতে হবে কেন?”গত সাড়ে ৪ বছরে কৃষি খাতে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া এবং প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিঋণের ৯৮ শতাংশ ফেরত এসেছে। “আমরা দক্ষিণাঞ্চলকে শস্য ভাণ্ডার করতে চাই। পার্বত্য অঞ্চলে ফলের চাষ বৃদ্ধি করা হবে। জলাভূমিতে ‘ধাপের’ ওপর সবজীর বাগান কারার পরিকল্পনাও নিয়েছি।” অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।