মহাজোটের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ৯২.৮৬ ভাগ

স্পন্দন ডেস্ক:মহাজোট সরকারের চার বছর নয় মাসে মন্ত্রিসভার ২২২তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো সোমবার। মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অব্যাহত থাকবে। সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিতে পারবে।
যদিও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইতোপূর্বে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবরের পর মন্ত্রিসভার কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না। কিন্তু সোমবার তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানান, সাংবিধানিকভাবে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় নি। তাই আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই।
ক্ষমতাসীন সরকারের প্রায় পাঁচ বছরে মন্ত্রিসভায় ৯২ দশমিক ৮৬ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। বিগত জোট সরকারের সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছিল ৮০ দশমিক ৬ ভাগ।
জোট সরকারের চেয়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রেওয়াজ অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়।
বর্তমান সরকারের সময়ে প্রায় শতভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের এ হার সন্তোষজনক উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৮০ দশমিক ৬ ভাগ। ওই সময়ে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামল।
তিনি জানান, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ৪ জানুয়ারি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে দুই সরকারের শাসনামলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি জানান, এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভার ২১৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে এক হাজার ১৪২টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে এক হাজার ৩৩৯টি। অনুমোদিত নীতি বা কর্মকৌশল ৪৩টি, অনুমোদিত চুক্তি ১১৪টি এবং সংসদে আইন পাস হয়েছে ২৪০টি।
বিগত সরকারের সময়ে ১১৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ৭০৭টি। অনুমোদিত নীতি বা কর্মকৌশল ২৩টি, অনুমোদিত চুক্তি ৬২টি এবং সংসদে আইন পাস হয়েছে ১৬০টি।
তবে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময় অক্টোবরে মন্ত্রিসভার আরো তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক সরকারের ২২২তম এবং ২০১৩ সালের ৪০তম বৈঠক।
জরুরি আইন ও চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকগুলো সংসদে পাঠানো ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন করে তার অনুমোদন দেওয়া হয় বৈঠকে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলো বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
খালেদার প্রস্তাব ষড়যন্ত্রমূলক
নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এ প্রস্তাব ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
সোমবার বিকেলে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমরা তার বক্তব্য কখনো গ্রহণযোগ্য বলি নি, আজকেও বলছি না। তার এ বক্তব্য বা প্রস্তাব গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে নয়, গণতান্ত্রিক যাত্রা ব্যাহত করতেই।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, আজ বিরোধীদলীয় নেতা সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে নতুন কিছু নেই। তারা আগে থেকে অসাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি করে আসছেন, আজকে তা নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটা সংবিধানসম্মত নয়, সংবিধান বহির্ভূত। এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের কাছে নাম চেয়ে প্রস্তাব করেছেন। অথচ তার বক্তব্যের পর থেকে বিরোধীদলের নেতা যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। তার কাছে এমন বক্তব্য জাতি প্রত্যাশা করেনি। তার এ বক্তব্য ব্যক্তিগত আক্রোশবশত বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত করতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য প্রস্তাব করেছেন। এটা তার উদারতা। অপরপক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা পরিবেশ ঘোলাটে করছেন। তিনি প্রস্তাব করতে পারতেন তার কয়টা মন্ত্রণালয় দরকার বা কোন মন্ত্রণালয় দরকার। এ বিষয়ে তার বক্তব্য স্পষ্ট করা উচিত ছিল। জাতি এটাই প্রত্যাশা করেছে। কিন্তু তিনি তা করেননি।