রফিকুলের বিতর্কিত শোডাউনে পঙ্গু হলেন যুবলীগ নেতা

বিল্লাল হোসেন:সাবেক বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামের শো-ডাউন শুধু বিতর্কিতই হয়নি, এ শোডাউন মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে এসে দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে চিরতরে পুঙ্গ হতে হলো বাঁকড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান ওরফে লাল্টুর। এ সময় তার মোটরসাইকেলে থাকা দু’শিশু ও যুবলীগের অপর এক নেতাও মারাত্্রক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। রোববার বিকেলে ঝিকরগাছা-বাঁকড়া সড়কের বর্ণী তালতলা নামক স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এদিকে গুরুতর আহত হয়ে মনিরুজ্জামান লাল্টু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাকে দেখতে আসেননি রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলামসহ তাদের ঘরানার নেতারা। এ ঘটনায় আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মনিরুজ্জামান ওরফে লাল্টু দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, বিনাস্বার্থে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। যার জন্য পা হারালাম সেই নেতাই কোন খোঁজ নেননি।
গত রোববার মারা যান যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, পাবলিক প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা এজেডএম ফিরোজ। তার এই মৃত্যুতে জেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সবার মাঝে শোক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্ত শোকের দিনে আনন্দ উৎসবে মেতে ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা তৃণমুল নেতাকর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। এই শোভাযাত্রাই কাল হলো লাল্টুসহ চারজনের। ঝিকরগাছা বাঁকড়া সড়কের বর্ণী তালতলা নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী ওই ৪ জন। তারা হলেন, বাঁকড়া গ্রামের মাস্টার মিজানুর রহমানের ছেলে বাঁকড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান লাল্টু (৪০), একই গ্রামের অপর যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম (৩৫) ও পল্লী বিদ্যুতের ব্রাঞ্চ অফিসের কর্মকর্তা সাজিবুল আলম বিপুলের মেয়ে বর্ষা (১০) ও ছেলে তানজিম (৫)। মনিরুজ্জামান লাল্টু ও বর্ষাকে যশোর শহরের রোটারী আহমদ আলী সরদার হেলথ কমপ্লেক্সে ও অন্য দু’জনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মনিরুজ্জামান লাল্টুর ডান পা কেটে ফেলা হয়েছে। আহতের স্বজনদের অভিযোগ, শোডাউনে অংশ নিতে এসে ওই লাল্টু পঙ্গু হলেন, কিন্তু নেতা তার খোঁজ খবর পর্যন্ত নেননি। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। আহত মনিরুজ্জামান লাল্টু জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তাদের নেতা রফিকুল ইসলামের ব্যাপক শো-ডাউন ছিল। ওই শো-ডাউনে তিনি মোটসাইকেল নিয়ে অংশ নেন। তার সাথে ছিলেন যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম। বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে পথিমধ্যে থেকে মোটরসাইকেলে উঠানো হয় শিশু বর্ষা ও তানজিমকে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার সময় মনিরুজ্জামান ওরফে লাল্টুর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পতিত হলে তারা আহত হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি পঙ্গু হলেন সেই নেতা তাকে দেখতে আসেননি। খোঁজ ও নেননি তিনি। নেতা হিসেবে এটা কি তার দায়িত্ব নয়। মনিরুজ্জামান ওরফে লাল্টুর ছোট ভাই চয়ন জানায়, তাদের পরিবারের সকল সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। তার পিতা বাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। অথচ তার ভাই লাল্টু আজ মৃত্যুশয্যায় কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন নেতা এমনকি রফিকুল ইসলামও তাদের সান্তনা দিতে আসেননি। আহতের পাশে এসে দাঁড়াননি। এমন হলে আগামীতে কোন সচেতন ব্যক্তি এ ধরনের শোডাউনে অংশ নেবেন না। আহতের পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভের সাথে জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এজেডএম ফিরোজের মৃত্যু সাবেক বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামের শোকাহত করেননি। তাতে মনিরুজ্জামান ওরফে লাল্টুর পঙ্গুত্ব তার যাই আসেকি? তা না হলে শোকের দিনে ঢাক ঢোল পিটিয়ে কি আনন্দ করতেন।
রফিকুল ইসলাম সেই বিতর্কিত নেতা যিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে তো কাজ করেননি বরং তার পক্ষীয় নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে যেতেও নিরুৎসাহিত করেন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশও তিনি থোড়াই কেয়ার করেছিলেন। ভোটের দিন তিনি ভোট না দিতে গিয়ে বসেছিলেন ঘরের কোণে। এতকিছুর পরও তিনি এবার নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে শোডাউনে মেতে উঠেছেন। ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্ত তার সেইদিনের আচরন এখনো ভুলে যাননি নেতাকর্মীরা। ভোটের দিন ভোট না দিয়ে আর শোকের দিনে শোডাউন দিয়ে আরেকবার প্রমান করলেন তিনি নিজের স্বার্থেই সবকিছু করেন।