শচীনের বিদায়ী ম্যাচে মুম্বাইর যত আয়োজন

ক্রীড়া প্রতিবেদক:নিজ ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শচীন টেন্ডুলকার খেলবেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তার বিদায়ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোপরি চেষ্টা করে যাচ্ছে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ)। ভারতীয় ব্যাটিং তারকার ইচ্ছা তার শেষ ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখবেন মা রজনী। হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না তিনি। এজন্য শচীন মাতাকে গ্যালারিতে আনার বিশেষ ব্যবস্থাও করছে এমসিএ।
শচীনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ২৪ বছরের। অথচ ছেলের খেলা কোনোদিনও মাঠে বসে দেখেননি রজনী। বিদায়ী ম্যাচে তাই ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেটের জন্য মায়ের উপস্থিতি হতে যাচ্ছে একেবারেই বিশেষ একটি মুহূর্ত। তার জন্য প্রেসিডেন্ট বক্স পর্যন্ত হুইল চেয়ার চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হবে।
এমসিএ যুগ্ম সচিব নিতিন দালাল বললেন,‘টেন্ডুলকারের পরিবারকে সর্বপোরি সহযোগিতার নিশ্চয়তা আমরা দেব। তার মা থাকবেন হুইল চেয়ারে। আমরা একটি র‌্যাম্প (হুইল চেয়ারে চলাচল উপযোগী পথ) তৈরি করব যাতে করে উনি নির্বিঘেœ প্রেসিডেন্ট বক্সে যেতে পারেন।’
ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেটকে বিদায়ী উপহার হিসেবে দেওয়া হবে একটি পোট্রিট ছবি। কীভাবে ছবিটি চান সেটা জানতে শচীনের বাসায় শিল্পীকে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মহাবীর নগরে অবস্থিত কান্দিবালি ক্লাবের নামকরণ করা হবে শচীন টেন্ডুলকার জিমখানা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই টেস্টের প্রতিটি টিকিটের গায়ে থাকবে শচীনের ছবি, থাকবে তার ৫১তম টেস্ট শতকের স্কোরও। এছাড়া লিটল মাস্টারের জন্য ৫০০ টিকিট বরাদ্দ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্যাভিলিয়নের জন্য ২০০ ও নর্থ স্ট্যান্ডের জন্য ৩০০টি। প্রতিদিনের টিকিট মূল্য ২৫০ রূপি।
বাংলাদেশি যুবদের
ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য সপ্তম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। গত দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজে ৩-৩ এ সমতা ফিরিয়েছিল ক্যারিবীয় যুব দল। শেষ ম্যাচটি ৬৭ রানে জিতে স্মরণীয় এক জয় পেল লাল-সবুজরা। ম্যাচসেরা ও টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ১৬৮/১০ (৪৪ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯: ১০১/১০ (৩৩.৫ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জয়ী ৬৭ রানে
সিরিজের ফল: ৪-৩ ব্যবধানে সিরিজ জয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯
গায়ানার জর্জটাউনে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও জয়রাজ শেখ ৪৩ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ২৬ রানে জয়রাজ আউট হন। তবে জসিমউদ্দিনকে নিয়ে ৫৬ রানের সেরা জুটি গড়েন সাদমান।
৩৩ রানে জসিমউদ্দিন বোল্ড হন রামাল লিউইসের কাছে। ৪৮ রানের সেরা ইনিংস খেলে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। এরপর ক্যারিবীয় পেসার জেরোমে জোন্সের বোলিং তোপে পড়ে বেসামাল হয়ে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন।
মেহেদীর ২৮ ও ইয়াসির আলী ২০ রানে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
জোন্স পাঁচটি উইকেট নেন ছয় ওভারে। দুটি করে পেয়েছেন অ্যালজারি জোসেফ ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন।
অল্প রানের লক্ষ্য দিয়েও হতাশ হয়নি সফরকারী বোলাররা। নিহাদুজ্জামানের বাঁহাতি ও মেহেদীর ডানহাতি ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে ক্যারিবীয়রা। জেরেমি সোলোজানো ৯২ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নিকোলাস পূরান (১০) ও লিউইস (১৯) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাননি।
নিহাদুজ্জামান সাত ওভার পাঁচ বলে মাত্র ১২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। ১০ ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি কম পেয়েছেন মেহেদী।
ভারতের দ. আফ্রিকা
 সফর নিশ্চিত
কয়েক সপ্তাহের জল্পনা কল্পনা শেষে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিশ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিসিসিআই’র সঙ্গে কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাতকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। এমন খবর জানার পরই দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে রাজি হয়েছে ভারত।
লন্ডনে গত কয়েকদিনের আলোচনা সভা শেষে দুদেশের ক্রিকেট বোর্ড এই সিদ্ধান্তে আসে। হোম সিরিজের সময়সূচি অবশ্য এখনও চূড়ান্ত করেনি সিএসএ।
গত জুলাইয়ে এই সফরে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডে লরগাতের দায়িত্ব নেওয়া ছিল অন্যতম কারণ। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিসিসিআই’র কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লরগাত। এতে করে দুদেশের বোর্ডের সম্পর্কেও দূরত্বের সৃষ্টি হতে থাকে।
তিনশ’র মধ্যে কিউইদের
আটকানোর লক্ষ্য
পরপর দুদিনই বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ। মঙ্গলবার ২৮২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। জবাবে নিউজিল্যান্ড ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও চা বিরতির আগে তাদের তিন উইকেট নিয়ে দলকে কিছুটা সস্তি¡তে রেখেছেন সাকিব আল হাসান। তৃতীয় দিন সফরকারীদের তিনশ’ রানের মধ্যে আটকানোর লক্ষ্য জানালেন তিনি।
আগের দিন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব দলীয় লক্ষ্য ৪০০ রানের আশাবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা হলো না। এনিয়ে সাকিবের ব্যাখ্যা,‘আমাদের ব্যাটসম্যান বেশি ছিল না। নাসির আর মুশফিক ভাই ছিল। মুশফিক ভাই আউট হওয়ার পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারেনি। এই উইকেটে ৩০০-৩৫০ রান ভালো।’
বৃষ্টির কারণে পুরোদিন শেষ করতে না পারায় আফসোস নেই সাকিবের। ম্যাচ জয়-পরাজয়ে নির্ধারিত হওয়ার যথেষ্ট সময় আছে মনে করেন তিনি,‘ম্যাচের ফল জানা যাবে তৃতীয় দিনের পরে। আজ উইকেটের কোনও পরিবর্তন হয়নি।  যত দিন যাবে উইকেট আরও কঠিন হবে। স্পিনবান্ধব হবে। দুদলের জন্য রান করাটাও কঠিন ডিফিকাল্ট হবে। এখনও ম্যাচের জয় পরাজয় সম্ভব।’
তৃতীয় দিন সকালের লক্ষ্য সাকিব প্রকাশ করলেন সাংবাদিকদের সামনে,‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য উইকেটে যে দু’জন (কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলর) আছে তাদেরকে আউট করা। তাদের উইকেট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কাল যদি দিনের পুরোটা সময় খেলা হয় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। কেবল দ্বিতীয় দিন গেল। এখন যে অবস্থা তাতে ৩০০ রানের মধ্যে আটকানো সম্ভব হবে।’
দ্রুত কিউইদের গুটিয়ে দিতে সোহাগ গাজী ও আব্দুর রাজ্জাকের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন মনে করেন সাকিব। এছাড়া দ্বিতীয় দিন পেসারদের পারফরমেন্সেও সন্তুষ্ট সাবেক এই অধিনায়ক।
নিজের ও দলে পারফরমেন্সে নিয়ে খুশি সাকিব। বিশেষ করে নিজের তৃতীয় উইকেটের কথা উল্লেখ করলেন তিনি, ‘আমি নিজের পারফরমেন্সে খুশি। তবে দলের সবাই ভালো করেছে। রুবেলের ক্যাচটি দারুণ হয়েছে। তৃতীয় দিন ভালো করতে হলে পেসারদেরও দ্রুত উইকেট নিতে হবে।’