নাশকতার মহড়া শুরু শিবিরের

স্পন্দন ডেস্ক:দেশব্যাপী নাশকতার মহড়া শুরু করেছে জামায়াত-শিবির। ২৫ অক্টোবরের আগে-পরে তারা ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা নিযেছে বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রমতে, ওই পরিকল্পনা সফল করতেই সম্প্রতি নতুন করে মাঠে নেমেছে তারা। এখন প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত জামায়াত-শিবির।
তাদের এই তৎপরতা বড় ধরনের নাশকতার মহড়া বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই মহড়ার মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন লাগাতার নাশকতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে, তেমনি কাজে লাগাচ্ছে জনমনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার কৌশল।
অস্ত্র-গুলি-বোমার উৎপাদন ও সরবরাহ ফাইনাল অ্যাকশনের সময়ে কতোটা নির্বিঘ্ন রাখা যায় তার প্রস্তুতিও হয়ে যাচ্ছে এ মহড়ায়।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে শিখর পরিবহনের বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং বুধবার সকালে গ্রিন রোড ও আজিমপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়ও শিবির ক্যাডারা জড়িত ছিলো বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির ডাকা বুধবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় শিবিরের ইন্ধন ছিলো বলে অভিযোগ আছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ায় সাতমাথায় এক ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্টকে মারপিট করেও নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছ ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা সার্জেন্ট নাহিদকে বেধড়ক পেটায়। এ সময় শিবির কর্মীরা পরপর ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ করলে সাতমাথা ও এর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ওদিকে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার রসুলবাগ আবাসিক এলাকায় এক জামায়াত কর্মীর বাসায় বোমা তৈরির সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনা শিবিরের নাশকতা পরিকল্পনার পক্ষেই প্রমাণ বটে। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু বোমা আর হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করেছে বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যাওয়া জামায়াত কর্মী নসরুল্লাহ (৩৬)এর মেঝো ভাই আসাদুল্লাহকে (৪০)।
ওই ঘটনার পর বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাংলানিউজকে বলেন, ২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে নাশকতার জন্য বোমা ও হ্যান্ড গ্রেনেড বানানো হচ্ছিল বলে ধারণা করছি।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজারে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে পাঁচ ছাত্র আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার ছাত্র মারা যায়। এ ঘটনায় আহত ও নিহতরা শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলামের ছেলেসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে নাশকতার আশঙ্কায় বুধবার সকালে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন এলাকায় একটি মেস থেকে চার শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি সাইরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, আটক শিবির কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে মেসে অবস্থান করছিল।
জামায়াত-শিবিরের এমন প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মূলত তাদের অতীত সহিংসতার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হাত-পায়ের রগ কেটে কুখ্যাতি কুড়ানো শিবিরই এক্ষেত্রে থাকছে মুল ভুমিকায়।
তাই সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। পাল্টা আক্রমনে সহিংস জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করারও কৌশল নেওয়া হয়েছে।