বাঙালি হিসেবে প্রতিযোগিতা করা মুশকিল ছিল : মান্না দে

সিয়াম আনোয়ার:২৪ অক্টোবর ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান কণ্ঠশিল্পী মান্না দে। উপমহাদেশের জনপ্রিয় এ শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। ভারতের বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত মান্না দে’র সাক্ষাৎকারগুলো থেকে কিছু প্রশ্ন নির্বাচন করে সাক্ষাৎকারটি সাজানো হয়েছে বাংলানিউজের পাঠকের জন্য।

আপনার মূল নাম কিন্তু মান্না দে নয়?
আমার আসল নাম প্রবোধচন্দ্র। যেটি আমার বাবার দেয়া। কিন্তু আমার পছন্দ হতো না। আমার কাকা এবং গুরু কে সি দে (বিখ্যাত অন্ধ বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক) আমাকে সবসময় ডাকনাম মান্না বলেই ডাকতেন। এভাবেই নামটা পছন্দ হয়ে যায়। তার পর কলেজে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নামটা বদলে নেই।

আপনার প্রথম জীবনের স্মৃতি
আমি একটি সাধারণ গৃহস্থ ঘরের ছেলে।  আমার কাকাই আমাকে টেনে এনে বলেছিলেন গান শেখো। তার নাম কৃষ্ণ চন্দ। অন্ধ ছিলেন। বিয়ে করেননি। ছেলের মত আমাদের মানুষ করেছিলেন। কাকার বদৌলতে ভারতবর্ষের সেরা গায়কগায়িকারা আমাদের বাড়িতে আসতেন। বাড়িতে বসেই তাই সেসব বিখ্যাত লোকদের গান শোনাতে পেরেছিলাম। সব সময় তার সঙ্গে একজনকে থাকতে হতো। এ কারণেই কাকার সঙ্গে কলকাতা থেকে মুম্বাই যাওয়া। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ছিলাম। আমাকে বড় বড় ওস্তাদের কাছে দিলেন। পাশাপাশি ফিল্মেও কাজ করতে লাগলাম। ভেতর থেকে তাড়না ছিল ভারতবর্ষে যত রকম গানবাজনা আছে আমি তা করতে চাই। আর মুম্বাই এমন জায়গা যার মূল কথা সারভাইভ্যাল অব দ্য ফিটেস্ট। কাকাই ছিলেন আমার সঙ্গীত ভুবনের পথপ্রদর্শক। তিনি শিখিয়েছেন কী করে গান করতে হয়। সুর বাঁধতে হয়। কাকা সবসময় বলতেন কান দুটো খোলা রাখবি। ভালো মন্দ দুটোই শুনবি। তা না হলে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবি না।

প্রথম প্লেব্যাকের স্মৃতি…?
সুরকার শংকর রাও আমাকে ১৯৪৩ সালে প্রথম গান করার সুযোগ দেন। গানটা আমার কাকাকে করতে বলা হয়। তিনি নিজে না গেয়ে আমাকে দিয়ে গাওয়াতে বলেন। গানটা সিনেমাতে একজন বৃদ্ধ লোক লিপসিং করেন। একজন বিশ বছরের সামান্য বেশি বয়সী ছেলের কণ্ঠে বৃদ্ধের গান। ১৯৪০ এর দিকে প্লেব্যাক গায়করা গান রেকর্ডিংয়ের মূল্যায়ন পেতেন না। যে কারণে প্রথমদিকে গাওয়া আমার অনেক গান কারো মনোযোগ আকর্ষণ করেনি। যেমন গ্রামাফোন রেকর্ডে প্রথমবার আমার নাম আসে মুনা দে। ওই সময় খুব রাগ করেছিলাম।

manna-5আপনার বিখ্যাত বাংলা গান ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ নিয়ে কী স্মৃতি মনে পড়ে?
কফি হাউস আমার বাড়ির খুব কাছেই ছিল। কিন্তু যে কেউ জানলে অবাক হবে, আমি আজ পর্যন্ত কোনদিন কফি হাউসে যাইনি। তবে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে কফি হাউজের যে ছবিটা গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদার গীতিকবিতায় তুলে ধরেছেন সেটা এক কথায় অসাধারণ। আর তার ওপর নচিকেতার ছেলে খোকা সুন্দর সুর করেছেন। আমি তো কেবল তাদের বানানো জিনিসটাই শ্রোতার কাছে তুলে ধরেছি। সব কৃতিত্ব গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের।

বলা হয় যে দাদাসাহেব পালকে পুরস্কার নিজেই পুরস্কৃত যে আপনার মতো মানুষ সে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন…
এটা শুনতে খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু সত্যি হচ্ছে, আমি কখনোই প্রশংসার দিকে তাকাইনি। আমার জীবন গেছে গান গেয়ে গেয়ে। যেখানে আমি আমার পরিতৃপ্তি খুঁজি।

আপনি এখনো নিয়মিত রেওয়াজ করেন?
হ্যাঁ, গান গাওয়াটই আমার লাইফলাইন। আমি পুরনো দাপটেই স্টেজ এ গান করতে চাই। শচীন কর্তা আমাকে সবসময় বলতেন ‘মনটারে তোর তাজা রাখিস’। আমি আমার মনটাকে ইয়ং রাখতে চাই। আমি কখনোই কম্প্রোমাইজ করতে চাই না। আমার ৬০ বছরের সঙ্গীত জীবনে আমি সবসময় একটা নিয়ম শৃঙ্খলার জীবন যাপন করেছি।

manna-4আপনার দুই সন্তানই সঙ্গীতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের আপনি কখনোই সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে নিতে বলেননি। আপনি কি চাননি সন্তানরা আপনার পথ অনুসরণ করুক?
আমার স্ত্রী ইংরেজি সাহিত্য পড়িয়েছে মুম্বাইতে। আমরা সবসময় আমাদের দুই মেয়েকে শিখিয়েছি অর্ধ-মান-এ কোন কাজ করা হয় না। শিক্ষাই তাদের জন্য প্রাধান্য। আমার বড় মেয়ে রামা খুবই মেধাবী ছাত্রী। সে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছে। তার বিয়ের ছয়মাস পরেই সে আমাকে বলল সে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায়। প্রথমে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ল। এখন সে একটা কোম্পানির পরিচালক। তার ভালো কণ্ঠ এবং সে সঙ্গীতের ভালো শ্রোতা। আমার ছোট মেয়ে চারটা অ্যালবাম করেছে। সে নিজেই নিজেকে গড়ে নিয়েছে। যদিও তার ভালো কণ্ঠ আছে। সে আমাকে কয়েকবার বলেছে সে পেশাদার সিঙ্গার হতে চায় না।

কেন এমন হল?
সম্ভবত তার মনে হয়েছে সে কখনো লতা মুঙ্গেশকর, গীতা দত্ত বা আশা ভোঁশলের মত খ্যাতি অর্জন করতে পারবে না। খুব কাছ থেকে তাদেরকে দেখে সে নিজের মত করে এগিয়ে গেছে।

আপনার সবচেয়ে কঠিন সমালোচক কে?
আমার স্ত্রী এবং কন্যারা। আমার মনে পড়ে চিম্মিন রেকর্ডিংয়ের কথা। এটা ছিল একটা মুসলমান ছেলে আর হিন্দু মেয়ের ভালোবাসার গল্পের সিনেমা। আমি দক্ষিণে না গিয়ে মুম্বাইতে রেকর্ডিং করেছিলাম। গান রেকর্ডিংয়ের পর আমার মেয়ে আমাকে বলল, বাবা তুমি রাবিশ গেয়েছ। আমার স্ত্রীও কখনো উচ্চারণে ব্যতিক্রম দেখলে ভুল ধরিয়ে দিত।

manna-2আপনার কাকা যখন গান কম্পোজ করে আপনার বদলে মোহাম্মদ রফিকে গান গাওয়ার জন্য দিয়েছিল, আপনি কোন জেলাস অনুভব করেননি?
আমার কাছে খারাপ লাগতে পারত। কিন্তু এটা প্রকাশ করলে আমার দূর্বলতা প্রকাশ পেত। আমি আমার আংকেলের জাজমেন্টকে বিশ্বাস করি এবং রফিকে এসব গান গাওয়ার যোগ্য বলেও মনে করি। রফি আমার চেয়েও ভালো শিল্পী ছিল। সে জন্ম থেকে ইউনিক স্টাইলের। এমন কিছু অবশ্যই আছে যেগুলো আমি যেভাবে গেয়েছি এভাবে হয়তো অন্যরা গাইতে পারতো না। আরেকজন শিল্পী যাকে আমি সত্যিই এপ্রিসিয়েট করি সে হল মেহেদী হাসান। এমনও দিন গেছে যখন আমি মেহেদী হাসানের গজল শুনে নিজে আর গজল গাইতে চাইতাম না।

লতা মুঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁশলে- দুজনের সাথেই আপনি গেয়েছেন। তাদেরকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আশা খুবই ভার্সেটাইল। লতার গান খুবই শান্তিদায়ক। (পিসফুল)

বর্তমান সময়ের গান নিয়ে আপনার মতামত কী?
গান গাওয়াটা এখন সহজ প্রবেশের ব্যাপার হয়ে গেছে। রেওয়াজ, রিহার্সাল তেমন নেই। এখনকার গান শুধুই আইটেম। আপনি কি কাজরা রে শুনেছেন? আমি এটাকে ভালো একটা আইটেম বলব।

নিজেকে কি সঙ্গীতের ধ্রুপদী গায়ক মনে করেন?
না। ওস্তাদ গুলাম আলী খান, ভীমসেন যোশী বা আমির খানের মতে পূর্ণাঙ্গ ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী আমি নই। আমি ধ্রুপদী সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং এখনও প্রতিদিন নিয়মিত তিন ঘণ্টা রেওয়াজ করি। আমার কাকা চাইতেন আমি যেন ধ্রুপদী গানে পুরোপুরি জড়িত হই। কিন্তু আমি আগ্রহী ছিলাম না। ধ্রুপদী কেবল একটা শ্রেণীকেই টানে। এর মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছানে খুবই কঠিন।

আপনি কাজ করেছেন এমন সেরা সঙ্গীত পরিচালক কে?
অবশ্যই শংকর-জায়কিশান। পুরো দেশে এই দুজনই সবচেয়ে বৈচিত্রময় সঙ্গীত পরিচালক। সবচেয়ে বেশি সিনেমায় সবচেয়ে বেশি হিট গান সুর করেছে তারা। তারা দুজন আমার গায়কী শক্তিকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করেছে। তারা আমাকে দিয়ে রাজকাপুর, রাজকুমার এবং শাম্মী কাপুরদের গান গাইয়ে নিয়েছে। এছাড়া আরো আছে শচীন দেব বর্মন, সলিল চৌধুরী, মদন মোহন, রোশান, রবি, সি রামচন্দ্র এবং আর ডি বর্মন।

manna-1সহকর্মীদের সাথে পেশাগত সম্পর্ক কেমন ছিল আপনার?
আমরা ছিলাম সুস্থ প্রতিযোগী, প্রতিপক্ষ না। রফি ছিল সন্দেহাতীতভাবে শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক সিঙ্গার। মুকেশ তার নাকের টোনের জন্য অতুলনীয়। হেমন্ত কুমার হল স্বর্ণ কণ্ঠের অধিকারী। আর কিশোর ছিল স্বপ্রশিক্ষিত জিনিয়াস। আমার অধিকাংশ ডুয়েট গেয়েছি রফির সাথে। ‘এক চতুর নার’ গান গাওয়ার সময় কিশোরের সাথে আমার প্রতিযোগিতাকে আজকের দিনে অপরিচিত মনে হবে। লতা আশা ভার্সেটাইল এবং শক্তিমান। সন্ধ্যা মুখার্জির ছিল অসাধারণ ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীত।

বাংলা সিনেমায় উত্তম কুমার আর সৌমিত্র চ্যাটার্জির গান গাইতে আলাদা কিছু মনে হত?
উত্তম ছিল প্রশিক্ষিত মিউজিশিয়ান। তার মিউজিক সেন্স সৌমিত্র’র চেয়ে বেশি ছিল। যদিও উত্তমের কণ্ঠের সাথে হেমন্ত মুখার্জির কণ্ঠের মিল ভালো ছিল। কিন্তু আমার গানও খুব সুন্দর করে মিলিয়ে নিত। উত্তম কুমার আর রাজ কাপুর ছিল লিপ মাস্টার। আর সৌমিত্র গানের অবস্থা বুঝে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারত।

দক্ষিণ ভারতের সিনেমাতেও আপনি গান করেছেন। ভিন্ন উচ্চারণের ওই গানে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন কীভাবে?
দক্ষিণে অনেক গান মনোবলের সাথেই করেছি। আমার স্ত্রী একজন মালয়ান। স্ত্রী এবং মেয়ে আমাকে সঠিক উচ্চারণ করতে শিখিয়েছে। রেকার্ডিংয়ের আগে ওদের সামনে আমি কয়েকবার রিহার্সাল করে যেতাম। দক্ষিণ ভারতের উচ্চারণে আলাদা একসেন্ট প্রয়োজন। তাদের বর্ণবিশেষে স্বরের উঠানামা আছে যেটা কোনরকম স্টাইল ছাড়াই গাইতে হয়।

মানুষ আপনার বাংলা গান নিয়ে আগ্রহী বেশি…
আমি প্রায় আড়াই হাজারের মত বাংলা গান গেয়েছি। এর মধ্যে নব্বই শতাংশই আমার সুর করা। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না পশ্চিম বাংলা এবং বাংলাদেশে সেই গানগুলো এখনো চলে। আমি গাইতে গেলে দেখি তারা আমার সব গানই জানে। আমি গানের কথা ভুলে গেলে তারা মনে করিয়ে দেয়। এটা আমার জন্য আনন্দের যে এখনো অনেক মানুষ আমার গান শোনে, ভালোবাসে।

জীবনের বড় পাওয়া?
আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া আমার স্ত্রী। কেরালার মেয়ে। মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। ওকে দেখে প্রথম দর্শনে প্রেম বলতে যা বোঝায় তাই হয়েছিল। তারপর একে অপরকে জানলাম, বিয়ে করলাম। যতদিন বেঁচে ছিল ও ছিল আমার সবসময়ের সঙ্গী। শুধু স্ত্রী হিসেবে না,  বন্ধু হিসেবেও সেরা। আমার ফিলোসফার, গাইড, সমালোচক সবই ছিল ও।

manna-3সমসাময়িকদের নিয়ে কী বলবেন?
আমার সমসাময়িক যারা ছিলেন- মোহাম্মদ রফি, মুকেশ, লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোঁশলে- এদের সবারই এমন একটা পরিমন্ডলে জন্ম হয়েছিল যেখানে সর্বভারতীয় গান বাজনা হত। ওরা ওখানে জন্মেছে বলে ওদের জন্য সুবিধার ছিল। একজন বাঙালি হিসেবে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা আমার জন্য খুব মুশকিল ছিল। তবু আমি সহজে হার মানিনি। ভালো ভালো ওস্তাদের কাছে শিখেছি। আমার যে গায়কি, তাতে সব সময়ই ক্ল্যাসিক্যাল বেজ থাকত। বাংলা গানে আমি যত শক্ত গানই করি, সেটা জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু হিন্দিতে ব্যপারটা এমন না। সেখানে আমি ছিলাম বহিরাগত। হিন্দি ভাষায় বাঙালি হয়ে গান গাইতাম। যাদের ভাষা ছিল হিন্দি তারা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। যেমন রফি ছিল পাঞ্জাবী, হিন্দি উর্দু ওর স্বাভাবিকভাবেই আসত। আমি সেটা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ, রফির মতো গায়ক ভারতবর্ষ পায়নি। কিশোর, রফি, বাংলা গানে হেমন্ত ওদের যে ঈশ্বরপ্রদত্ত গলা ছিল তা আমি পাইনি। আমার গলায় আকর্ষণীয় কিছু ছিল না।

এমন কেউ কি আছেন, যার সঙ্গে গান নিয়ে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে?
গুলাম আলী। তার প্রত্যোক গানে বোঝা যায় কী চমৎকার শিক্ষা। রীতিমতো শিখে গান করেছেন। আমি এত শিখতে পারিনি। অনেক শেখাই বাকি রয়ে গেল।

সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে নানান ধরণের গান গাইছেন আপনি…
আমি যদি কেবল একটা ধারায় গান গাইতাম তবে আমি কোথাও থাকতাম না। আমি যেমন রাগ সঙ্গীতে সাবলীল, তেমনি সমানভাবে পপ গাইতে পারি। আবেগময় গান গাইতে পারি। সঙ্গীতের বিভিন্ন ধরণের মেলোডি নিয়ে কাজ করা আমার স্বভাব। আধে দিন আধে রাত সিনেমায় ‘গোরি তোরে বানকে’ গানটি আমি খাটি ভৈরবীতে গেয়েছি। কিন্তু সুরকার চিত্রগুপ্ত গানটির বাজনায় পশ্চিমা ধাচ এনেছেন স্প্যানিশ গিটার, স্নেয়ার ড্রাম ব্যাবহার করে।