রাজপথের প্রস্তুতি আ. লীগেও

স্পন্দন ডেস্ক:রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করতে রাজপথে থাকছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও।
দশম সংসদ নির্বাচনের দিন গণনার শুরুতে শুক্রবার রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। শর্তসাপেক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে বলেছে পুলিশ।
একই দিন আওয়ামী লীগ সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এজন্য আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে না বলে জানিয়েছেন দলের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।
সমাবেশ না করলেও বৃহস্পতিবার দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।  ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা সংসদ ভবনে গিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে নির্দেশনা নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হলে, আমরা কাল সতর্ক থাকব, সকাল থেকেই যে যার এলাকায় থাকব।
“কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবই,” দৃঢ় কণ্ঠে বলেন তিনি।
ছুটির দিন হলেও ছাত্রলীগ নেতারা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকবেন। তাদের জুমার নামাজেও অংশ নিতে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন সময় জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোকে মিছিল বের করতে দেখা গেছে। এই দলগুলোর অনেকগুলোই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সদস্য।
ঢাকার সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতউল্লাহ, আসাদুজ্জামান খান কামাল, কামরুল ইসলাম, কামাল আহমেদ মজুমদার, আসলামুল হক আসলাম ও সানজিদা খানম সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়াও যান স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ, ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, ‘নো টলারেন্স’। আমরা যে যার এলাকায় থাকব। কোথাও বোমা তৈরি করা হচ্ছে কি না, সে সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন নেত্রী।”
“আমরা সকাল থেকেই যার যার এলাকায় থাকব। প্রত্যেকে জুমার নামাজে যাব, আমরা কাউকে ‘আনচ্যালেঞ্জন্ড’ ছেড়ে দেব না।”
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আপনারা যা ভাবছেন- সে রকম কিছু হবে না। কিছু হয়তো হবে, তবে বিশাল কিছু হবে বলে আমাদের মনে হয় না। আমাদের কাছেও তো কিছু ইনফরমেশন থাকে।”
“আমাদের দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রয়োজন দেখা দিলে আমরা আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করব।”
এর আগে দুপুরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়। শুক্রবার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে।
বৈঠকে বিরোধীদলের ‘যে কোনো ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার আহবান জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ।
তিনি বলেন, “আপনরা রাজপথে প্রস্তুত থাকুন। তাদের দা-বল্লমের হুমকির জবাব কীভাবে দিতে হয়- বাংলার মানুষ তা জানে।”
সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, “আগামীকাল জামাত-শিবির বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা করতে পারে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। গত দুদিন ধরে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টি করেছে।”
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিএনপি-জামাতের নাশকতা রুখে দিতে হবে।”
বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা শুক্রবারের সমাবেশ করার জন্য দা-কুড়াল নিয়ে কর্মীদের প্রস্তত থাকতে বলার পর আওয়ামী লীগও মাঠে থাকার ঘোষণা দেয়।
এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। তবে শর্তসাপেক্ষে বিরোধী দল সমর্থিত বেশ কয়েকটি সংগঠন অনুমতি পেয়েছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছিলেন, শুক্রবার পল্টন ময়দান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন তারা।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) আমাদের অনুমতি দেয়নি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমরা সমাবেশ করব না।”