শিবিরের শক্তি প্রদর্শনে মঞ্চ

স্পন্দন ডেস্ক: অনেক ঢাকঢোল পেটানো এবং দেশব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিএনপির নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় শিবিরের শক্তি প্রদর্শনে মঞ্চ হিসেবে।

শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ পুরোটাই মূলত জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিএনপিসহ জোটের অন্য দলগুলো নামমাত্র উপস্থিতি ছিল। এর ফলে বিএনপির নিজস্ব শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

‘সমাবেশের নেতৃত্বে কি আমরা না শিবির?’ সমাবেশস্থলে অনেক বিএনপি কর্মীকে এমন কথা বলতেও শোনা গেছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা এ ঘটনায় নাখোশ হয়ে সমাবেশস্থল ত্যাগ করতেও দেখা যায়।

এর আগে অনেক নাটকীয়তার পর ১৩ শর্তে ১৮ দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় ডিএমপি। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকেই ডিএমপি‘র শর্ত লঙ্ঘন করে সমাবেশ স্থল দখল নেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

দুপুর দেড়টা নাগাদ গোটা এলাকাই চলে যায় জামায়াত-শিবিরের দখলে। বেলা দেড়টার পর থেকে মঞ্চের সামনে-বাঁয়ে-ডানে শিবিরের শক্ত অবস্থান দেখা যায়।

কিন্তু তখন পর্যন্ত অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীদের খোঁজই মেলেনি। ১৮ দলীয় জোটের মূল দল বিএনপির একটি মিছিলও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়নি।

সেই সঙ্গে জোটের অন্য শরিক ইসলামী ঐক্যজোট কিংবা নামসর্বস্ব অন্য শরিক দলগুলোর কেউ তখন উপস্থিত হয়নি।

সমাবেশ শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্রে করে বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে শিবিরের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতাণ্ডার এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এদিকে সমাবেশে মিছিল শোডাউন নিষিদ্ধ থাকলেও পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করে জামায়াত-শিবির।

এসময় তাদের হাতে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড শোভা পায়।

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো সমাবেশে আসলেও কেবল তাদের উপস্থিতি জানান দিয়ে আবার দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করে। নিজের দলের পক্ষে তেমন কোন শক্ত অবস্থান তাদের পক্ষ থেকে ছিলনা।

কিন্তু সমাবেশস্থলের পুরো এলাকাই ছিল জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সরব উপস্থিতি। এভাবে পুরো সমাবেশই এদিন শিবিরময় হয়ে ওঠে।