শ্যামনগরে নিহতকে কর্মী দাবি জামায়াতের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কাশিমাড়িতে ১৮ দলের মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের হামলায় নিহত শফিকুল ইসলামকে (৪০) বিএনপি তাদের শ্রমিকদলের নেতা হিসেবে দাবি করলেও জামায়াত তাকে নিজেদের কর্মী বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় জামায়াতের দাবি, ওই ব্যক্তি উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ১৮ দলের মিছিলে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

তবে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত শফিকুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আনছার নিকারীর ছেলে।

কাশিমাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম স্পন্দনকে জানান, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কাশিমাড়ি নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তাদের কর্মী শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় তাদের আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ‍হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম জগলুল হায়দার জানান, কাশিমাড়িতে জামায়াতের মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীই ছিলনা।

শফিকুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছগির মিয়া স্পন্দনকে জানান,শফিকুল ইসলাম মিছিলে অংশ নিয়ে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জয়দেব চৌধুরী জানান, শ্যামনগরের কাশিমাড়িতে জামায়াত কর্মী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে, দেবহাটার গাজীরহাটে জামায়াতের মিছিল থেকে কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

১৮ দলের মিছিলে থেকে কলারোয়ার রায়টা গ্রামে জামায়াত কর্মীদের হামলায় হাফিজুর রহমান নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি রায়টা গ্রামের শেখ নজরুল ইসলামের ছেলে।

এছাড়া সদর উপজেলার আগরদাড়ি বাজারে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শহরের ইটাগাছা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে এএসপি জয়দেব চৌধুরী জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইটাগাছা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে নেতাকর্মীরা ছিলেন। যেটুকু সমাবেশ হয়েছে তা ছিল ঘরের মধ্যেই।