সরকারকে কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে: প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও মাথা উচু করে দাড়াতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ব জেজেআই মিল

আবদুল কাদের ও কাজী আশরাফুল আজাদ:প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৪৩ বছরেও লাভের মুখ দেখেনি শিল্প শহর নওয়াপাড়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রেয়াত্ব মিল যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ(জেজেআই)। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কোনরকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পেছনে প্রতি মাসে ৪ কোটি টাকা খরচ হলেও এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা করতে পারছেনা। মিলটিতো বর্তমানে ২৫ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য পড়ে আছে অবিক্রিত অবস্থায়। বেসরকারিভাবে গড়ে উঠা জুট মিলগুলো মুনাফা করলেও জেজেআই মিল অব্যাহতভাবে লোকসান দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে এর কারণ নিয়ে।
অভিযোগ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতির জন্য প্রতিষ্ঠাটি আলোর মুখ দেখছেনা। তবে লোকসানের কারণ হিসেবে মিলটির কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি মজুরি কমিশন ঘোষণা হওয়ায় মিলের কর্মকর্তা কর্মচারিদের পেছনে খরচ দ্বিগুন বাড়লেও পণ্যর চাহিদা দিন দিন কমছে। তাছাড়া শ্রমিক রাজনীতিই মূলত মিলের ক্ষতি করছে। বেশিরভাগ শ্রমিক কাজ না করে মিছিল মিটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। তাছাড়া আর্ন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কারণে পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছেনা। এটাও লোকসানের বড় কারণ।
যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে জেজেআই জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। এর পর একে একে ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও কোন বছর লাভের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজে (জেজেআই) ১ হাজার ৪৮৭ জন স্থায়ী শ্রমিক, ১ হাজার ৩৫৭ জন অস্থায়ী শ্রমিক এবং ২৫৯ জন কর্মকতা ও কর্মচারি রয়েছেন। এদের  মাসিক বেতন ও মজুরি বাবদ প্রতি মাসে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
সর্বশেষ গত ৭ বছরের হিসেবে দেখা গেছে, প্রতি বছর সরকারকে মিলের পিছনে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আয় হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৪৪ লাখ ২ হাজার টাকা। আয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৫৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ওই বছর আয় হয়েছিল ৪০ কোটি ৯৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর বিপরীতে মিলটি আয় করেছে ৪৬ কোটি ৩৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে মিলটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৯৬৪ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টণ কম পাটজাত পণ্য রফতানি করেছিল। ওই বছর তাদের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার মেট্রিক টণ। তাদের ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। আর ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের ৫৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার ৮ হাজার ১৮০ মেট্রিক টণ পাটজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। এই অর্থবছরে মিলটির পেছনে সরকার টাকা খরচ করেছে ৪ কোটি টাকা।
এছাড়া জেজেআই জুট মিলে বর্তমানে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন পাটজাত পন্য। যার মূল্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে মিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  যেকারনে চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে মিলটি। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে মিলের শ্রমিকদের বেতন দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে মিলটি বলে মনে করছেন শ্রমিকরা।
যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক হারুণ-অর-রশিদ জানান, মিলের শ্রমিকরা দায়িত্বের সাথে কাজ করে থাকেন। এতদিন কি কারণে প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুক দেখেনি তা কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবেন।
জেজেআই মিলের প্রকল্প প্রধান মুজিবুর রহমান জানান, মজুরি কমিশন ঘোষণা হওয়ায় আগে যেখানে সপ্তাহে আমরা কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন ভাতা ২৮ লাখ টাকা দিতাম। এখন সেখানে লাগছে ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু সেই পরিমানে মাল বিক্রি হচ্ছেনা। ক্রেতাদেশগুলো পণ্য নেয়া কমিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া জেজেআই মিলে প্রতিদিন ৩০ দশমিক শুন্য ৯ মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটকলটিতে আগেও উৎপাদন হতো প্রায় ২৯ দশমিক ৬৯ মেট্রিকটন পাটজাত পণ্য। কিন্তু বর্তমানে উৎপদন হচ্ছে ২০ মেট্রিকটন পণ্য। যেকারণে এখন প্রতিদিন অন্তত ৯ মেট্রিকটণ মাল কম উৎপাদন হচ্ছে। একই সাথে রপ্তানি না হওয়ায় পাটকলটির গুদামে বর্তমানে প্রায় ২৫ কোটি টাকার পাটজাক পন্য মিলে পড়ে রয়েছে। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসের বেতন, মজুরি এবং উৎসব ভাতা দিতে পাটকলটি বাংলাদেশ পাটকল করর্পোরেশনের(বিজেএমসি) নিকট থেকে প্রায় চার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, চলতি মাসের বেতন ও মজুরি যথাসময়ে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ’র (জেজেআই) প্রকল্প প্রধান মুজিবুর রহমান আরও বলেন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরান, ইরাক, ভারত ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের বড় ক্রেতা।। অভ্যন্তরিণ সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্তমানে ওই দেশগুলো পাটজাত দ্রব্য কিনছে না। কিছু পাটজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। যা দিযে শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক আর্থিক সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং  আমাদের উদ্বেগের কথা বিজেএমসি’কে জানিয়েছি। বিজেএমসির পক্ষ থেকে আমাদের এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন না হতে বলা হয়েছে। এসব কারণে মিলটি লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছে।। কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কতা তিনি অস্বীকার করেন।
বেনাপোল সীমান্তের শূণ্যরেখায়
বাংলাদেশী বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে কামরুজ্জামান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া থেকে মাত্র ২ গজ দূরে ও চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের ১০ গজ পিছনে একটি মেহেগনি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটা জানাতে পারেননি তারা। নিহত কামরুজ্জামান বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের মৃত আজিজ সরকারের ছেলে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, লাশের গলায় ভারতীয় লাইলনের দড়ি রয়েছে। বিএসএফ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বাংলাদেশ অংশে এভাবে রেখে যায়। তবে বিজিবি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
চেকপোস্টের একাধিক সূত্র জানায়, এই বৃদ্ধা বুধবার বিকেলে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার কয়েকবার চেস্টা করেন। বিজিবি ও বিএসএফ কয়েকবার তাকে পুশব্যাক ও পুশইন করে বলে ওই সূত্রটি জানায়। বিকেলের দিকে নিহত বৃদ্ধার স্বজনেরা তার সন্ধানে চেকপোস্টে আসেন। তাদের ধারনা বিএসএফ ওই বৃদ্ধার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
যশোর ২৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চেকপোস্ট ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া থেকে মাত্র ২ গজ দূরে একটি মেহেগনি গাছের ডালে বৃদ্ধকে কে বা কারা হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলের বিপরীতে সব সময় বিএসএফ প্রহরায় থাকে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর এত কাছে কীভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটলো সেটা বুঝতে পারছি না।
এদিকে যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল মতিউর রহমান জানান, এ হত্যাকান্ডের পেছনে বিএসএফের জড়িত থাকার কথাটি সত্য নয়। বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।