মাদকাসক্তে ধ্বংস হচ্ছে শিশুর সুন্দর জীবন

শিশুদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার বেড়েই চলছে। শৈশবেই মাদকের থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, গোটা দেশেই শিশুদের মধ্যে মাদকাসক্তের প্রবণতা বাড়ছে। এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সন্তানের প্রতি পরিবারের অবহেলা আর শিক্ষার যথোপযুক্ত পরিবেশের অভাবে শিশুদের জন্য মাদক এক ভয়ঙ্কর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোররাও মাদকাসক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার বস্তি থেকে শুরু করে রেললাইন এবং ফুটপাতেও শিশু থেকে সব বয়সী মানুষদের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। শিশুরা শুধু গাঁজা নয়, ড্যান্ডিতেও আসক্ত হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে বস্তি এলাকার শিশুর সংখ্যাই বেশি। মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোররা বেশির ভাগই  সম্প্রতি ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যায়, ২০১২ সালে চিকিৎসা নেয়া মাদকাসক্তদের ৪ দশমিক ৩১ শতাংশই শিশু, যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। শিশুদের মাদকাসক্তির আরেকটি কারণ হলো পারিবারিক অশান্তি এবং অবহেলা-অযতœ, যা শিশুদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ফলে তারা সঙ্গদোষে পড়ে ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গদোষ এবং কৌতূহল শিশুর মধ্যে মাদকাসক্তির একটি অন্যতম প্রধান কারণ। তাছাড়া শিশু বয়সে কোন কারণে মানসিক আঘাত পেলেও শিশু মাদকের দিকে ঝুঁকতে পারে।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে এই স্লোগানের কোন মিল নেই। কারণ বস্তির শিশুরা অবহেলিত এবং নিপীড়িত।  আজকে যেসব শিশু মাদকাসক্ত, ভবিষ্যতে এদের মধ্যে অনেকেরই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ইত্যাদি সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শিশুদের মাদকাসক্তের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন থেকেই জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য ফুল-প্র“ফ ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের কাছে মাদক পৌঁছানো যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি পরিবার, স্কুলে এবং সমাজে শিশু যেন একটি সহনীয় ও আনন্দমুখর পরিবেশ পায় তার জন্যও দ্রুতই সচেষ্ট হতে হবে সরকার, সামাজিক সংগঠন ও পরিবারকে। আমরা আশা করবো সমাজের এই অবহেলিত মাদকাসক্ত শিশুদের রক্ষা করতে সবাই ভূমিকা রাখবে। তাহলেই কেবল শিশুদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা যাবে।