মান্না দে টুপি

সঙ্গীতপ্রেমীদের কোনো বয়স নেই। তেমনি গুণী শিল্পীদের গানের কদর থাকে আজীবন। শুধু বিশ শতকের শেষার্ধেই নয়, আজ অবধি নারী ও পুরুষ-নির্বিশেষে যাদের যৌবনের জোয়ার এসেছে, তাদের যৌবনের অপর নাম ‘মান্না দে’।
গত ২৪ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যাবার পরও তার অনেক ভক্তরা তাকে এক মুহূর্ত ভুলতে পারছেন না। পড়ছেন তার খবরাখবর, শুনছেন গান, দেখছেন টিভিতে তাকে নিয়ে নানা অনুষ্ঠান। তাকে নিয়ে জানার কৌতুহলের শেষ নেই।
এই যেমন তার অনেক ভক্তের মনে এখনও প্রশ্ন। মান্না দে কোনো অনুষ্ঠানে গান করতে আসলেই মাথায় কাশ্মীরি টুপি পড়তেন কেন। তার মাথায় কি শেষ সময়ে টাক পড়ে যাচ্ছিল, এজন্য টুপি পড়া শুরু করেছেন। কিন্তু সত্যি কি তাই? …আজ মান্না দে’র টুপি রহস্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
একবার গান করার জন্য কাশ্মীরে গিয়েছিলেন তিনি। তখন সেখানে বেশ ঠান্ডা। সেখানে গান করতে যাবার পর ঠান্ডায় তার গলা বসে যাচ্ছিল, তিনি ঠিকমত গাইতে পারছিলেন না।
সেসময় তার সামনে দর্শকসারিতে বসে থাকা এক যুবক তার মাথার টুপি খুলে মান্না দে’র কাছে গিয়ে বললেন, দাদা টুপিটা পড়ে নেন। মাথাটা গরম থাকবে, আর ঠান্ডা লাগবে না।
টুপিটি মান্না দে নিয়ে পড়লেন। টুপি পড়ার কিছুক্ষণ পর তিনি সত্যিই ঠিক হয়ে গেলেন এবং তার গলাও ঠিক হয়ে গেল। কাশ্মীরে সেই অনুষ্ঠান খুব সফল হয়েছিল এবং সেই থেকে সেই টুপিটি তিনি যতœ করে রেখে দেন। এরপর থেকে যেখানেই গান করতে যেতেন তিনি টুপি পরতেন।
বলা যায়, এরপর একই টুপি পড়ে তিনি শত শত গান করেছেন। মাথার এই টুপি তাকে এনে দিয়েছে নতুন এক আভিজাত্য ও পরিচিতি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় মাথায় সেই কাশ্মীরি টুপি তার সঙ্গে ছিল না। টুপি, চশমা, হারমোনিয়াম, গানের খাতা, তার লেখা গানের বই, হাজারো ভক্ত-শ্রোতাদের রেখে চলে গেলেন উপমহাদেশের এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী মান্না দে!