তালায় জলাবদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি

তপন চক্রবর্ত্তী, তালা (সাতক্ষীরা)  :গত দুই দিনের টানা বর্ষনে তালার জলবদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভেঙে গেছে ভেড়িবাঁধ। এতে এলাকায় দেড় থেকে দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তলিয়ে গেছে নতুন নতুন গ্রাম। বাড়ি-ঘর ছাড়ছে মানুষ। আটারোমাইল-পাইকগাছা সড়কের তালা হতে কাশিমনগর পর্যন্ত সড়ক তলিয়ে গেছে । ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এলাকাবাসী জানান, জালালপুর ইউনিয়নের প্লাবিত এলাকায় প্রায় দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কপোতাক্ষের ভেড়িবাঁধ ছাপিয়ে গ্রামে পানি ঢুকছে। অনেকে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ইসলামকাটি ইউনিয়নের গোপালপুর ময়রাঘাটা নামক স্থানে ভেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া উপজেলার ধানদিয়া, সরুলিয়া, কুমিরা, তেঁতুলিয়া ও খলিলনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এক থেকে দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
গতসপ্তাহে একটি সংস্থার জরিপ মতে, তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১০ টি গ্রামের ১৮ হাজার পরিবারের এক লাখ ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় বসবাস করছিল। এই বৃষ্টির কারণে প্লাবিতের গ্রামের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, তার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। অনেকে উঁচু জায়গায় খুপড়ি বাঁধার চেষ্টা করছেন। অনেকে ইতিমধ্যে খুপড়ি বেঁধেছেন। তবে অর্থ সংকটের কারণে অনেকে খুপড়ি করতে পারেনি।
ইসলামকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, ইউনিয়নের উথালী, গোপালপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গোপালপুর এলাকার কপোতাক্ষ তীরের ভেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এলাকায় এক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
খলিলনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, আটারোমাইল-পাইকগাছা সড়কের তালা হতে কাশিমনগর পর্যন্ত সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ইউনিয়নের একটি অংশ এখন পানিতে নিমজ্জিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পেড়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনিত হয়েছে। মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যাত্র চলে যাচ্ছে। অনেকে উচু রাস্তার উপরে খুপড়ি বেঁধে বসবাসের চেষ্টা করছেন।