অবাধ্য সন্তানের জেল-জরিমানা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

স্পন্দন ডেস্ক:পিতা-মাতাকে ভরন-পোষণ না দিলেই জেল-জরিমানার বিধান করে সংসদে গত বৃহস্পতিবারে পাস হওয়া পিতা-মাতার ভরন-পোষণ বিলে সম্মতি প্রদান করে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট।
একইসঙ্গে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) বিলেও সম্মতি দিয়েছেন তিনি।
রোববার বিল দু’টিতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করার পর এখন থেকে তা আইনে রুপান্তরিত হলো। আইন অনুযায়ী, পিতার ঔরসে ও মাতার গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তান তার পিতা-মাতাকে ভরন-পোষণ না করলে তা হবে জামিন অযোগ্য অপরাধ। তবে আপোষযোগ্য।
কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী পিতা-মাতার ভরন-পোষণ প্রদান না করতে প্ররোচনা দিলে উক্ত স্ত্রী বা স্বামী কিংবা অন্য সহায়তাকারীও উক্ত অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। বিলের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের আয়ের ১০ শতাংশ পিতামাতাকে দিতে হবে। ভরন-পোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস, বা অন্য কোথাও বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। প্রত্যেক সন্তান তার পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করবে। তারা পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানদের নিয়মিত সাক্ষাত করতে হবে। এ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেলের বিধান রাখা হয়েছে।

সংসদ অধিবেশন শুরু
আসেনি বিএনপি
বিরোধী দলের ধারাবাহিক অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে।
রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের ১৫তম কার্যদিবস শুরু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় স্পিকার সংসদের বৈঠক রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর। এরপর গ্রামীণ ব্যাংক বিলসহ কয়েকটি বিলের রিপোট উত্থাপন করা হবে। চলতি বছরের চতুর্থ অধিবেশন এটি। সংবিধান অনুযায়ী এটি মহাজোট সরকারের শেষ অধিবেশনও। ঈদ ও পূজার ছুটি শেষে বিরোধী দল গত ২৩ অক্টোবর সংসদে যোগ দিয়ে সোয়া এক ঘণ্টা থেকে ওয়াকআউট করার পর আর আসেনি।
প্রসঙ্গত, নবম জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ সেপ্টেম্বর চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। বর্তমান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি।
সমঝোতার দিকে তাকিয়ে সিইসি!
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের দিনক্ষণ গণনা শুরু হলেও এখনো প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতার দিকে তাকিয়ে আছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।
রোববার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদরে সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের দিনক্ষণ গণনা শুরু হলেও এখনো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে কোনো আচরণবিধি নেই কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা এতদিন আচরণবিধি করিনি এই জন্য যে, আমরা বড় দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমরা আগেই যদি আচরণবিধির মাধ্যমে রাজনৈতিক আলোচনার দরজা তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে দেই, তখন আর আলোচনার সুযোগ থাকতো না।’
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনকালীন মনিটরিং ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন আচরণবিধিতে এ বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হবে।’
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনপূর্ব সময় আবার কী জিনিস! এই ৯০ দিনের মধ্যে আমাদের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখানে পূর্ব আর পরবর্তী বলে কিছু নেই।’
দুই নেত্রীর টেলিসংলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা তো ভালো খবর! খুবই আশার কথা। দুই নেতার কথা হয়েছে, এটা টেবিলে না হলেও টেলিফোনে হয়েছে। এটা একটি আশাবাদ।’
সারাদশে বোমা হামলা ও সহিংসতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা নিরাপত্তাহীনতা নয়। এগুলো বিছ্ন্নি ঘটনা। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটা উচিত নয়!’
আগামী নির্বাচন সম্পর্কে সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগে তো শুনেছি, নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু দুই নেতার ফোনালাপে সেই আশা জাগ্রত হয়েছে।’
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) থেকে নির্বাচনের অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য যে তিন বছরের অভিজ্ঞতার বাধা রয়েছে, সংসদীয় কমিটি সেটা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সম্পর্কে সিএইসি বলেন, ‘সংসদ তো সব ক্ষমতার উৎস। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। আমরা এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেই না। তারাও আমাদের কোনো পরামর্শ চায় না। দেখা যাক, সংসদ কী করে!’