আজ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী

অসীম মোদক, মহেশপুর:বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে শাহাদত বরণকারী অকুতোভয় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪২ তম শাহাদত বার্ষিকী আজ ২৮ অক্টোবর।
১৯৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেই সূর্য ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উদিত হয়। যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সূর্যসেন, তিতুমীর ও ক্ষুদিরাম তাদের দেখানো পথে অবশেষে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলার আকাশে উড়ে স্বাধীন পতাকা। সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের এ পতাকা আনতে লাখো মায়ের কোল খালি হওয়া এক মা কায়দাছুননেছা। যার সন্তান হলেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান। স্বাধীন বাংলার জন্য জীবন দানকারী হামিদুর রহমান সে দিন মুক্তমাটির গন্ধের নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বাধীনতা যুদ্ধে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোদ্দ খালিশপুর (বর্তমানে হামিদ নগর) গ্রামে ১৯৪৫ সালে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহনকরেন এ মহান সৈনিক। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ প্রেমের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে খর্দ্দখালিশপুর (বর্তমানে হামিদনগর) গ্রামের আক্কাস আলী মন্ডল ও কায়দাসুন নেছার গর্বিত সন্তান বাঁচার প্রদীপ প্রিয় জন্ম ভূমির বুকে স্বাধীন পতাকা উড়াতে, দেশের জন্য লড়াই করতে মায়ের দোয়া নিয়ে তরুন হামিদুর রহমান যোগদেন মুক্তি বাহিনীতে। তিনি ছিলেন প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সিলেট বিভাগের মৌলভী বাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্ত ছিল পাক বাহিনী শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে লে. কাইয়ুমের নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনীর একটি দল চারদিকে চা বাগান বেষ্টিত মাঝখানে ধলই সীমন্ত চৌকিতে পাক হানদারদের উপর চালান সাড়াশি আক্রমণ। হামিদুর রহমানসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক গুলিবর্ষণে পাক সেনাদের ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। পরে লে. কাইয়ুমের নির্দেশে দেশ প্রেমে উদ্ধুব্ধ সৈনিক হামিদুর রহমান উভয় পক্ষের বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির মধ্যে চা বাগানের ভিতর দিয়ে শত্র“ ঘাটির মধ্যে ঢুকে পড়লে শত্র“র সেনার একটি ব্লুলেট হামিদুর রহমানের কপালে বিদ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়েন। পরে তাকে সমাহিত করা হয় ভারতের আমপাশায়।
যে স্বাধীন দেশের জন্য হামিদুর রহমান জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন সেই স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে লাল সবুজের পতাকা উড়ার ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে আনা হয় তার মৃতদেহ অবাশেষ।
২০০৭ সালের ২১ মার্চ তত্ত্বধায়ক সরকারের এলজিআরডি উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ভূমি খর্দ্দখালিশপুর গ্রামকে হামিদনগর হিসাবে ঘোষণা করেন। পরে ২০১০ সালের নভেম্বরে মহেশপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাড. শফিকুল আজম খান চঞ্চল মহেশপুরের একটি সড়কের নাম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নামকরণ করেন।
মহেশপুরে মায়ের
হাতে ছেলে নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার তুলশিতলা গ্রামে গর্ভ ধারিনী মায়ের পিটুনিতে ছেলে আশিক রহমান ( ১১) নিহত হয়েছে। সে ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র। ঘটনাটি ঘটে রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহেশপুর উপজেলার তুলশিতলা গ্রামে।
এলাকাবাসী জানান, মহেশপুর উপজেলার ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আশিক রহমান  তুরশিতলা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র। সকালে জয়নাল আবেদীনের দ্বিতীয় স্ত্রী পাখিরুন বেগম তার পুত্র আশিক রহমানকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে আশিক রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে প্রথমে মহেশপুর ও পরে যশোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ১২টার দিকে তার করুন মৃত্যু হয়। বাশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আবু জাফর জানান, তুলশিতলা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী পাখিরন গতকাল তার ছেলে আশিককে শাসন করার জন্য পিটুনি দেয় । এতে আশিক গুরুতর ভাবে আহত হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২ টার দিকে সে মারা যায়।
মহেশপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন জানান, মায়ের হাতে পিটুনি খেয়ে পুত্র আশিক রহমান আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে মারা যাওয়ার খবরটা এখনও পর্যন্ত পায়নি।