এবার অ্যাটর্নি জেনারেলের ছেলেকে হত্যার হুমকি

স্পন্দন ডেস্ক:অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর এবার তার ছেলেকেও হুমকি সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় উত্তরা (পশ্চিম) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের ছেলে সুমন মাহবুব জানান, রোববার দুপুরে তিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করা ওই চিঠি হাতে পান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক।
সুমন বলেন, “বেলা ১২টার দিকে ডাক পিয়ন এসে একটি চিঠি দিয়ে যায়। খাকি রংয়ের খামের ওপরে কাগজ এঁটে কম্পিউটার কম্পোজ করে ঠিকানা লেখা ছিল। প্রাপকের নমের জায়গায় ছিল আমার নাম।”
চিঠির সঙ্গে এক টুকরো কাফনের কাপড়ও পাঠানো হয়েছে বলে জানান সুমন।
চিঠিতে বলা রয়েছে, “মাহবুবে আলম-এর ছেলে সুমন মাহবুব- তোর, তোর বউ-ছেলে, বাপ-মা, বোন-বোন জামাই-বোনপোসহ তোর পুরা গুষ্টির মৃত্যুর পরওয়ানা জারি হইয়াছে। পাঠানো কাফনের কাপড় পরে মৃত্যুর জন্য তৈরি থাকিস। ইসলাম রক্ষাকারী দল।”
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে শিশির কণাও একই ধরনের একটি চিঠি পান। ওই চিঠিতেও প্রেরক হিসাবে ‘ইসলাম রক্ষাকারী দল’ রেখা ছিল। চিঠি পেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় জিডি করেন।

আদালত ভবনে নথি রাখার কক্ষে আগুন
পুলিশের সন্দেহ হরতালকারীদের প্রতি

বিরোধী দলের হরতালের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের একটি কক্ষে আগুন লেগে বিভিন্ন মামলায় পুলিশের তদন্তের নথি পুড়ে গেছে।
এ ঘটনার পেছনে হরতালকারীরা জড়িত বলে পুলিশের সন্দেহ।
আমাদের আদালত প্রাতিবেদক প্রকাশ বিশ্বাস জানান, রোববার বেলা দেড়টার দিকে আদালতের ‘নন জি আর সেকশনের’ ওই কক্ষ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ আদালতের অ্যাডভোকেট চৌধুরী মো. গালিব রাকীব বলেন, “ওই কক্ষে পুলিশের মামলার নথি সংরক্ষণ করা হয়। তবে আদালতের কর্মীরাই আগুন নিভিয়ে ফেলেন।”
আগুন নেভাতে গিয়ে দোতলার দায়িত্বপালনকারী পরিচ্ছনতাকর্মী ওবায়দুলের হাত পুড়ে যায়।
ওই কক্ষে ঢাকার একান্নটি থানার মামলা কাযক্রমের নথিপত্রের আংশিক আগুনে পুড়ে গেছে বলেও জানান গালিব।
অগ্নিকাণ্ডের সময় আদালত ভবনের নিচতলার ওই কক্ষ পুলিশ ঘিরে রাখে ।
সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলাল আহমেদ বলেন, “আমাদের ইউনিট পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানো হয়।”
আদালতে দায়িত্বপালনকারী পুলিশের এসি (প্রসিকিউশন) আমিনুর রহমান বলেন, “উদ্দেশ্যমূলকভাবে হরতাল সমর্থনকারী কেউ পেট্রল ঢেলে ওই কক্ষে আগুন দিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”
তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে বেলা সোয়া ২টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সাংবাদিক কক্ষের সামনে একটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান পিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা জেলা জজ আদালতের পুরনো ভবনের ছাদ থেকে কেউ হাতবোমাটি ছুড়ে দিয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।”
এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে আইনজীবীরা পাশের বার ভবনে ঢুকে পড়েন এবং আদালতের বারান্দায় অবস্থানকারীরা এজলাসে ঢুকে পড়েন।