হরতালে তাণ্ডব : নওয়াপাড়ায় যুবলীগ নেতা খুন

স্পন্দন ডেস্ক:হত্যা, বোমাবাজি, গুলি, পুলিশের উপর হামলার মধ্যে দিয়ে ৬০ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত করেছে বিএনপি-জামায়াত। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় যুবলীগের পৌর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে হরতাল সমর্থকরা। কুয়াদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে, আহত হন ১০ পুলিশ সদস্য।
এছাড়া খুলনা,সাতক্ষীরার আশাশুনি ও তালায় পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির-বিএনপির সংঘর্ষে ৪ পুলিশ, দেবহাটায় আওয়ামীলীগ নেতার অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় ভাংচুর, পাইকগাছায় হরতালকারীদের সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ ৮জন আহত, ঝিনাইদহে ৬টি ককটেল বিষ্ফোরণ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ৬জন আহত, নড়াইলে হরতালে দু’টি বাস ও তিনটি সরকারি গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর এবং  ৩ আহত হয়েছে।
বিস্তারিত খবর :
যশোর : হরতালকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলকে (৩৫) নৃশংসভাবে খুন করেছে এবং তার ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রবাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জানায়,  আলমগীর হোসেন শিমুল তার সঙ্গীদের নিয়ে তার নিজস্ব মাইক্রোবাসযোগে হরতালের বিপক্ষে যশোর-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সামনে পৌছালে হরতালকারীরা অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় শিমুল হাইওয়ে থানার একটি পরিত্যাক্ত ভবনে আশ্রয় নিলে তারা সেখানেই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে এবং ওই ভবনের পুলিশের ব্যবহৃত আসবাব পত্র ভাংচুর করে। তার সঙ্গীদেরকে ও কুপিয়ে পাশে ভৈরব নদের তীরে  ফেলে রেখে য়ায় । আহতরা হলেন, আরমান হোসেন (৩০), মাইক্রোবাস চালক লিমন হোসেন (৩২) ,ইনামুল ইসলাম (২৮) ও বায়েজিদ হোসেন (২৫)।পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর মর্গে পাঠায়।  নওয়াপাড়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। আতংকে নওয়াপাড়া এলাকার সকল স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর পরই উপজেলা আওয়ামীলীগ দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে।এবং বিকাল ৩ টায় উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। অভয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বলেন, “ বিএনপি-জাময়াতের সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুলকে খুন করেছে।”
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আব্দুস ছালেক  জানান, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের অভিযান চলছে এরই মধ্যে পাচ জনকে আটক করা হয়েছে।  খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম,যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অপরদিকে যশোর শহরে সহিংসতার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল। শহরের দড়াটানায় মুহূর্মুহ বোমাবাজি, গুলিবর্ষণ, কুয়াদায় পুলিশের উপর হামলা, গাড়িতে আগুন, রূপদিয়ায় সাংবাদিকে মারপিট মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জন পুলিশ সদস্য আছেন। বেলা ১২টার দিকে এক শিবির কর্মীর একটি বোমা বিষ্ফোরণের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে দড়াটানা। জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা বোমা, লাটি, ইট নিয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থান নেয়। তারা দড়াটানার বিভিন্ন ভবনে টাঙানো আওয়ামী লীগ নেতাদের প¬াকার্ড ভেঙে দেয়। ফুটপাতে দাড়ানো থাকা হকারদের দোকানপাট ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অভয়নগর উপজেলা নওয়াপাড়ায় হরতাল সমর্থকদের হামলায় নিহত হন যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুল। তার লাশ দেখতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বেলা দেড়টার দিকে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। তিনি হাসপাতালে ঢোকার পর হরতাল সমর্থকরা হাসপাতালের সামনে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। ২০/২৫টি বোমা আর ১২/১৫ রাউন্ড গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোটা দড়াটানা এলাকা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পথচারিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। মুর্হুর্তে ফাঁকা হয়ে যায় গোটা এলাকা। এরপর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা ৩ রাউন্ড গুলি ও ৫টি টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এরপর ফাঁকা হয়ে যায় পুরো এলাকা।
এর আগে বেলা সাড় ১২টার দিকে দড়াটানা ব্রিজের কাছে মোটরসাইকেলে আসা দু’যুবক একটি বোমার বিস্ফোরণ  ঘটনায়। এতে শংকরপুর এলাকার আইয়ুব হোসেন নামে এক যুবক আহত হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা মিছিল থেকে যশোর-মণিরামপুর সড়কের সতীঘাটা নামক স্থানে রামনগর গ্রামের এক যুবকের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় রামনগর গ্রামের লোকজন হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে উভয় দলের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মাঝখানে পড়ে পুলিশ। জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় একটি পিকআপ আগুনে ধরিয়ে দেয়। এতে অন্তত ১০ জন পুলিশ আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, এসআই ওহিদুজ্জামান, এএসআই ইসরাফিল, এএসআই মোস্তফা, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার, আতিয়ার রহমান, জয়নাল আবেদীন, শহিদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, শামীম ও আশরাফকে। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়া মুনসেফপুর মোড়ে দৈনিক সমাজের কথার স্টাফ রিপোর্টার লাবুয়াল হক রিপনের উপর হামলা চালায় শিবির কর্মীরা। এছাড়া সময় টেলিভিশনের যশোর প্রতিনিধি জিয়াউল হক পিকেটারদরে হামলার শিকার হন। তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে।
এদিকে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ হরতাল চলাকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ জন পিকেটারকে আটক করেছে। এরা হলো মথুরাপুর গ্রামের ইসমাইল, বেজপাড়ার শাকির, সিটি কলেজ পাড়ার কামরুল, মোক্তার, তাপস, এমদাদুল হক, লিটন, চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার জাহিদুল কবির, বকচর বিহারী কলোনীর সোনা, আরমান হোসেন সোহাগ, ইকরামুল হক তুহিন, বাবু গাজী, হাফিজুল, তফসীডাঙ্গা এলাকার সুরুজ, মুড়লী এলাকার আসিফ মাহমুদুল হাসান ও শংকরপুরের আমির হোসেন মিন্টু।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা ও তালা উপজেলার সুজনশাহ এলাকায় পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের হামলায় পুলিশের এসআই হাফিজ, এএসআই হুমায়নসহ ৪ কনস্টেবল আহত হয়। ভাংচুর করা হয়েছে দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হানের অফিসসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের বেশ কয়েকটি  দোকান পাট ও হোটেল। কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মঞ্জু চেীধুরীর বাড়িসহ কলারোয়া বাজারের ৩/৪টি দোকানঘর পুলিশের উপস্থিতিতে ভাংচুর করা হয়। এছাড়া আশাশুনি উপজেলাতে এক যুবলীগ নেতার মোটরসাইলে ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের উপজেলা সদরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি সমর্থকরা আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায়  মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে  ২ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ৫ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পিকিটিংকারীদের হামলা ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে আশাশুনি থানার এস আই হাফিজ, এ এস আই হুমায়নসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অপরদিকে  একই সময় তালা উপজেলায় সুজনসাহা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য মুন্না আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে আহত হন বিএনপি কর্মী উপজেলার নাংলা গ্রামের ডা. শহিদুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন মোড়ল (১৮), একই গ্রামের কামাল মোড়লের ছেলে চঞ্চল মোড়ল (১৮), ঘোনা গ্রামের আকছেদ মোড়লের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২০) ও জেয়ালা নলতা গ্রামের মুছা (৩০)।
দুপুরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি মিছিল নিয়ে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া বাজারে বিক্ষোভ করে। এসময় দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হানের অফিসে হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে তার অফিসে থাকা টিভি, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র ভাংচুর করে অফিসের সামনে তাতে অগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সময় পাশ্ববর্তী যুবলীগ নেতা মাহবুবুল আলমের গার্মেন্টের দোকান সেন্টার ফ্যাশান, বিছমিল্লাহ ও অহিদুলের মৌচাক হোটেল এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভাংচুর করা হয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুরায়হানের অভিযোগ, দেবহাটা থানার ওসির সামনেই তার অফিসসহ বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। এসময় পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
এদিকে সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা শহরের অদূরে কদমতলা বাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেট সৃষ্টি করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এ সময় তারা ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
এদিকে দুপুর ১২ টার দিকে হরতাল বিরোধী শান্তি মিছিল করে সাতক্ষীরায় জেলা আওয়ামী লীগ।
খুলনা : ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর, রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ, আহত ও গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথমদিন রোববার খুলনায় পালিত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাত রাস্তার মোড়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং দুটি ইজিবাইক ভাংচুর করা হয়। মৌলভীপাড়া মোড়ে সকাল ৮ টায় ৪টি ইজিবাইক ভাংচুর করা হয়। হরতাল চলাকালে মৌলভীপাড়া মোড় থেকে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক পারভেজ আলম এবং ক্লে রোড এ মিছিল করার সময় বিএনপি কর্মী মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করে। এদিকে হরতাল চলাকালে সকাল ৯ টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোল্যা আবুল কাশেম, জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার শফিকুল আলম প্রমুখ।

পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় হরতালে পুলিশের টহলের উপর ১৮ দলীয় জোটের হরতালকারীদের হামলায় ৫ পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ আত্মরক্ষায় একটি টিয়ার সেল ও সর্টগানের ৯৮ রাউন্ড গুলি করেছে। পুলিশের গুলিতে খালেদা, শুকজান ও সুমাইয়া ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকা বাজারে সকল সড়ক বন্ধ করে সমাবেশ করার খবর পেয়ে থানার ওসি মশিউর রহমান, এসআই জালাল, এসআই হারুনসহ দুই পিকআপ টহল ফোর্স নিয়ে বাকা বাজারে বাজারে সমাবেশ ভঙ্গ করে একটি মাইক সেট জব্দ করে পাইকগাছার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। হরতালকারী জামায়াত-বিএনপি জোট আরাজী ভবানীপুর মসজিদের সামনে পুরারাস্তা তিন ফুট উচু করে ইট দিয়ে বেরিকেড দিয়ে রাখে। পুলিশ আরাজি ভবানীপুর মসজিদের সামনে পৌছলে হরতালকারীরা তিন দিক থেকে পুলিশের উপর  ইট নিক্ষেপ করতে থাকে এবং ৩/৪শত নারী পুরুষ পুলিশের উপর হামলা করে। এ সময় পুলিশ আতœরক্ষার জন্য একটি টিয়ার সেল ও ৯৮ রাউন্ড সর্টগানে গুলি করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
নড়াইল : নড়াইলে হরতালে দু’টি বাস, পৌরসভার একটি পিকআপ এবং দু’টি সরকারি গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সড়কে এবং শহরের মহিষখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে নড়াইল চৌরাস্তা থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। মিছিল শেষে সমাবেশ শুরুর আগে হঠাৎ করেই এলোমেলো হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। তারা দিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। এ সময় চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ করেই ভাঙচুর শুরু হয়। এ সময় নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সড়কের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং মহিষখোলা এলাকার অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।  এদিকে, পৌর সানফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে রাখা একটি যাত্রীবাহী পরিবহন (পাবনা-জ-০৪০০৩২), আলাদাতপুরে একটি বাস ভাঙচুরসহ মহিষখোলা এলাকায় শিক্ষা অফিসারের গাড়ি (ঢাকা মেট্টো-ঘ-১১০৪৩২) ও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় জেলা শিক্ষা অফিসার নরেশ চন্দ্র দাস, বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারী এলাহী ও কালাম আহত হন। এছাড়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম গাজী আলী করিমের আদালতপাড়ার বাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া আ.লীগের মিছিল থেকে আলাদাতপুর জামে মসজিদের সামনে দু’টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এদিকে দুপুর ১টার দিকে নড়াইল-মাগুরা সড়কের কাগজীপাড়ায় হরতালকারীদের ওপর পুলিশ ছয়রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ সময় ১৮ দলীয় জোটের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন হরতাল সমর্থকেরা।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে ১৮ দলের ডাকা হরতালের প্রথম দিনে বাসে অগ্নিসংযোগ,ভাংচুর, সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। পিকেটারেরা রবিবার সকাল থেকে বাগেরহাটের দশানী, শ্রীঘাট, ফকিরহাটের খানজাহানপুর, নোয়াপাড়া, কাটাখালী, মোড়েলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী, বাধাল, রামপালের ফয়লাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গাছ, বৈদ্যুতিক খাম্বা ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এদিকে এদিন ভোরে দিগরাজে রাস্তার পার্শ্বে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে পিকেটাররা। এছাড়া  মোড়েলগঞ্জের দৈব্যজ্ঞহাটী এলাকায় পিকেটাররা পিকআপসহ তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে।
ডুমুরিয়া ও চুকনগর : ডুমুরিয়ায় ১৮দলীয় জোটের ডাকা ৩দিনের হরতালের প্রথমদিনে পিকেটিংয়ের নামে ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছেন থানা পুলিশ। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মালতিয়া নামকস্থানে ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মালতিয়া নামকস্থানে রাস্তার উপর গাছ ফেলে হরতালের পিকেটিং করছিল হরতাল সমার্থনকারীরা। ওই সময়ে সাতক্ষীরা দেভাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যা(৫০) তার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে মোড়লগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুরের শাকিল সিকদার (৩০) ও মশিউর সিকদারকে (২০) নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। মালতিয়া নামকস্থানে পৌঁছলে হরতালের পিকেটিংদের কবলে পড়ে। এরপর পিকেটাররা মোটরসাইকেলটির হেড লাইটে আঘাত করে এবং চালকসহ যাত্রীদের বেধড়ক মারপিট দিয়ে চালকের কাছে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকা ছিনতাই করে। এ সময়ে ভুক্তভোগীদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় জনগণ ছুটে এসে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময়ে বেতাগ্রাম এলাকার ইমাম আলী জোয়াদ্দারের পুত্র ছাত্রদলকর্মী মতিয়ার জোয়াদ্দারকে (২১) হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে গণপিটুনি দিয়ে মাগুরাঘোনা ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।
কেশবপুর (যশোর) : সকালে হরতালকারীরা মূলগ্রাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিমাই দত্তের শহরের মধুসড়কে জয়মা বাসনালয়, ডিগ্রি কলেজ গেটে স্বপন কুমারের মাইওয়ান টিভি-ফ্রিজের শোরুম, ফার্ণিচার পট্টিতে গৌতম দত্ত ও উত্তম বিশ্বাসের ফার্ণিচারের দোকান এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের শুভেচ্ছা সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার ভাংচুর করে। এসময় পিকেটারদের হাতে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক প্রভাষক কাজী মুজাহীদুল ইসলাম পান্না, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন ও মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাও. আব্দুল হালিম লাঞ্ছিত হন। এছাড়াও কাস্তা-বারুইহাটি মোড়ে রাস্তায় কাঠের গুড়ি দিয়ে ব্যারিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সকালে পিকেটারদের হাতে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানকে লাঞ্ছিত করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : পিকেটিংকালে সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ব্যানার ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়াও তারালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে নলতায় ১৮ দলীয় জোটের মিছিল থেকে দৈনিক কাফেলার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং নলতা প্রেসক্লাবের তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিবুল ইসলাম সুজনের উপর হামলা চালানো হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নলতা চৌমুহনীস্থ নিজ বাড়ির সম্মুখে দায়িত্ব পালনকালে তার উপর হামলা চালায় হরতাল সমর্থকরা। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সুজনের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তার উপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এই হামলা-ভাংচুরের সাথে জড়িত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এছাড়াও জামায়াত- শিবিরের নেতা-কর্মীরা আব্দুস সোবহানের মালিকানাধীন গাউছিয়া এন্টারপ্রাইজে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। নলতা হাসপাতালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) : নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় স্কুটার, ইজিবাইক ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যানসহ ৪টি গাড়ি  ভাংচুর করা হয়। ভোর থেকে হরতাল সমার্থকরা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার ফুলবাড়ীগেট খান ফিলিং সেশন ও মীরেরডাঙ্গা পেট্ট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায়া পিকেটাররা  ২টি স্কুটার,  ১টি ইজিবাইক ও একটি ইঞ্জিন চালিত ভ্যান ভাঙচুর করে।
মেহেরপুর : শহরের তাহের ক্লিনিক মোড়ে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। সকাল ৭ টার দিকে রাস্তার পাশে রাখা বাসটি ভাংচুর করা হয়েছে।
মাগুরা : দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা সদর থেকে পিকেটিং করার সময় স্বেচ্ছা সেবক দলের নেতা রকিবুল আলম চুন্নুকে পুলিশ গ্রেফতার করে। হরতালের সমর্থনে বা বিপক্ষে কোন ধরনের মিছিল বের হতে দেখা যায়নি। শহরের মোড়ে মোড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

মহেশপুরে হরতাল
বিরোধী মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
মহেশপুর শহরে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল আজম খান চঞ্চলের নেতৃত্বে সকালে ও বিকালে হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিকালে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ আওয়ামী লীগ অফিস চত্বরে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, এসবিকে ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ খান, সাবেক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজিজুল হক আজা,পান্তাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি রফিকুল আজম খান, সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এম,এ আসাদ, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান জিয়া, পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আলমগীর কবির প্রমুখ।
পরে মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নবী নেওয়াজ, চাঁদ মিয়া,আলমগীর এর নেতৃত্বে বিএনপি’র নেতা শহাজাহান দেওয়ান,বাবুল দেওয়ান, আলমগীর,আশাদুলসহ ৬০ জন নেতা কর্মী এম.পি শফিকুল আজম খান চঞ্চলের হাতে হাত দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।