তিন স্থানে গুলি বোমা অগ্নিসংযোগ: যশোরে বিএনপি-জামায়াতের দেড়শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:হরতালের প্রথম দিন রোববার যশোর শহরের দড়াটানা, কুয়াদা বাজার ও বারিনগর বাজারে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে। তিনটি মামলায় বিএনপি-জামায়াতের দেড়শ’ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ১০৫ নম্বর মামলার বাদী এসআই সোমেন দাস। এ মামলায় আসামি ৮০ জন। এরা হলো উপশহর এলাকার সুমন, চুন্নু, বুলবুল, লগা সুজন, লগা সুমন, কবির হোসেন, সানি, আড়পাড়া গ্রামের মধু, ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বরুণ, জাহাঙ্গীর ওরফে খোচর জাহাঙ্গীর, প্রিন্স, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ডিম মুকুল, টগর, নয়ন, রিপন, রবু, প্লাবন, বিদ্যুৎ, কুটি, রফিক, সোহেল, উপল, কুয়েত রায়হান, মাহমুদুর রহমান স্কুল মোড়ের পিল্টা, টাক মাসুদ, ছটলু, হাসান, রাজিব, ঘোপ মসজিদ রোডের বাঁধন, বাবলাতলার ইমান, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের সোহাগ, হাবিবুল্লাহ, ঘোপ ধানপট্টির বড় রানা, আনু কসাই, কাঠেরপুল এলাকার আতিয়ার, চাঁচড়া রায়পাড়ার জয়নাল, হাতকাটা কালু, চোপদারপাড়ার বদিউজ্জামান ধনি, মানুয়া, স্বর্ণকার রানা, রেলগেট তেঁতুলতলার রানা, আড়পাড়া গ্রামের খোকন, নারাঙ্গালীর ইদ্রিস, আমদাবাদ এলাকার বরকতুল্লাহ, দত্তপাড়ার ইব্রাহিম, নতুনহাট এলাকার আশিক, রেজা, তেঘরিয়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম, বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের সিরাজুল, খায়রুল, সুজলপুর গ্রামের শামসুর রহমান, সলেমান, খোলাডাঙ্গার বিপ্লব ওরফে বিল্লাল, মনির ড্রাইভার, বি-পতেঙ্গালী গ্রামের সোবাহান সরদার টুনু, পতেঙ্গালী গ্রামের তুহিন সরদার, মালঞ্চি এলাকার আলমগীর, ভেকুটিয়া গ্রামের জাকির হোসেন, চুড়িপট্টির রিপন চৌধুরী, বাবু, রেলগেট এলাকার শাহীন, সুমন চৌধুরী, মিন্টু খান, ধর্মতলা এলাকার রনি, রাজন, বস্তা বিল্লাল, সিটি কলেজ পাড়ার শাকির, কেফায়েত নগর গ্রামের সুজল খা, রায়পাড়ার মোস্তফা কামাল শেফা, মুড়লী এলাকার জসিম হাসান, মশিউর, সোহেল হাসান, বারান্দী কদমতলার হাফিজুর রহমান সোহেল, তফসীডাঙ্গার সুরুজ, বকচর এলাকার আরমান হোসেন সোহাগ, মুনা, সুমন এবং বারান্দী কদমতলা এলাকার হোসেন কাজী। এছাড়া অজ্ঞাত ৩০০/৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বেলা দেড়টার দিকে অভয়নগরের নিহত আলমগীর হোসেন শিমুলের মরদেহ দেখতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে যান। সে সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে তাকে লক্ষ্য করে ৪/৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ এগিয়ে আসলে আসামিরা আরও ১০/১৫টি বোমা ফাটায়। পরে পুলিশ টিয়ার সেল ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ১০৪ নম্বর মামলার বাদী এএসআই ইসরাফিল হোসেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩০ জনকে। এরা হলো রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম, জান্নাতুল মেম্বর, কামালপুর গ্রামের নুর ইসলাম, ওয়াসিম, জসিম, সিরাজসিঙ্গা গ্রামের শিমুল, রাজু, মোসলেম মেম্বর, কামরুল, আলাউদ্দিন, কুয়াদা এলাকার মনু, বাবলু, মণিরামপুরের  বেগারিতলা এলাকার শাহাদৎ, কামরুল, আসাদ, কামালপুর গ্রামের শাহজাহান, কাজীপুর গ্রামের সাইদুর, আজিম, মণিরামপুরের ভোজগাতি গ্রামের কামরুজ্জামান বাবু, হাফিজ, রামনগর স্কুল পাড়ার নূরুল আমিন, হাসান, জাফর, রামনগর বিহারী পাড়ার জাহাঙ্গীর, কুয়াদা বাজারের ডালিম, কামালপুর গ্রামের জাহিদুল ও শেখহাটি বাবলাতলার মিলন। এছাড়া আরও অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যশোর-মণিরামপুর সড়কে বেআইনি জনতা বদ্ধ হয়ে আসামিরা বোমা, ছুরি, লাঠি, রডসহ দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের উপর চড়াও হয়। তারা অস্ত্রগুলি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। এতে ১০ পুলিশ আহত হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশের রিকুজেশন করা দুটি পিকআপ (ঝিনাইদহ-ন-১১-০০২৬) ও (যশোর-ন-১১-০৬৬৮) ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ১০৩ নম্বর মামলার বাদী এসআই মাইনুল আহসান। এ মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলো রহমতপুর গ্রামের তাইজুল মেম্বার, খায়রুল ইসলাম, অংটা, বারিনগরের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, জাায়াতের আমীর রহিম, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, উত্তর ললিতাহদ গ্রামের বাবু, মথুরাপুর গ্রামের ইসমাইল, আজিজুর, হাবিবুর, রাশেদুল, বাবু, বেল্লাল, সিরাজ, শামছুল, তোরাব, মন্টু, মঈনুল, শহিদ, শাবলু, হৈবতপুর গ্রামের আজিজুল, মোবারক, রাজু, মুরাদগড় গ্রামের মিন্টু, আকরাম, আলম, হায়দার, মানিকদিহি গ্রামের শরীফ, আক্কাস, সামাদ, শামসপুর গ্রামের শিহাব উদ্দিন আবু, আরিফুল, শাহবাজপুর গ্রামের মাজেদুল, ইমদাদুল, শাহীন, কাশেম, রেজাউল ও খায়রুল, এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪/৫শ’ আসামি। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হরতাল চলাকালে বারিনগর বাজারের বটতলায় আসামিরা বোমা, চাইনিজ কুড়াল, লাঠি, রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে বেআইনি জনতা বন্ধ হয়। তাদের বাধা দিলে পুলিশের উপর হামলা করে এবং পুলিশের অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।