হরতালের দ্বিতীয় দিনঃ বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা : নিহত ৬

স্পন্দন ডেস্কঃ১৮ দলের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় মারা গেছেন ছয়জন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক লোককে। ঝিনাইদহ , টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর ও সাতকানিয়ায় হামলায় মারা যায় এই ছয়জন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে (৫৬) কুপিয়ে ও বোমা মেরে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দখলপুর বাজারে পৌঁছিলে তাকে নৃশংসভাবে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোট বুধবার ঝিনাইদহ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। এছাড়া দুপুরেই বিএনপির বিক্ষুব্ধ লোকজন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বিএনপির দাবি আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত বিএনপি নেতা আবুল হোসেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের আব্দুল গফুর মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা আবুল হোসেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দখলপুর বাজারের ব্রীজের নিকট পৌঁছালে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আবুল হোসেনকে লক্ষ্য করে দুইটি বোমা ছুড়ে মারে। বোমার ¯িপ্রন্টারে আবুল হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এরপর সন্ত্রাসীরা তাকে উপর্যুপুরি কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘবর ছড়িয়ে পড়লে হরিণাকুন্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এসময় শহরের ১৫/১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছু স্বর্ণের দোকানও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। উপজেলা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান বলেছেন, বিএনপি নেতা আবুল হোসেনকে  আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ রোজকেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত্র হিসাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আগামী বুধবার ঝিনাইদহ জেলায় সর্বাত্বক হরতাল আহবান করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিজুর রহমান বলেছেন, বিএনপি নেতা আবুল হোসেনকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। এর সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়াসহ দোকান-পাট ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দোষিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
ঝিনাইদহ সার্কেল এসপি নজরুল ইসলাম জানান, হরিণাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি দখলপুর বাজারের ব্রীজের পাশে আসলে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার উপর বোমা হামলা চালায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ হত্যাকান্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নড়াইল : হরতালের দ্বিতীয়দিনে সকাল থেকেই নড়াইল শহরে দুই প¬াটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। এদিকে ওইদিন দুপুর ১টার দিকে নড়াইল পাবলিক লাইব্রেরির সামনে জেলা ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কার্যালয়টি বন্ধ থাকায় ভেতরের তেমন ক্ষতি হয়নি। একই সময়ে নড়াইল চৌরাস্তায় বিএনপির অফিসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহরিয়ার রিজভী জর্জ বলেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে।
এদিকে, গত রোববার বিকেলে বাস ও দু’টি সরকারি গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন সহিংতার অভিযোগে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার, নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলীসহ ৬৯ নেতাকর্মীর নাম উলে¬খ করে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় দু’টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় নড়াইল সদরের তালতলা গ্রামের শের আলী (৪৮), শরীফ মুন্সী (১৯), বিপ্লব শেখ (৩০), মুলদাইড় গ্রামের নূর ইসলাম (২০) ও নাকসী গ্রামের জহিরুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার জানান, আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য অন্যায়ভাবে এ মামলা করা হয়েছে।
নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিএম নুরুজ্জামান জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশী টহলের পাশাপাশি বিজিবিও টহল দিচ্ছে।
কেশবপুর (যশোর) :হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্ন্যাসগাছা ব্রীজের মাথা বাজারে হরতালকারীদের হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব সন্যাসগাছা ব্রীজের মাথা বাজারে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এসময় হরতালকারীরা অতর্কিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তাকে বাঁচাতে যেয়ে তার ভাই মাহবুর রহমান ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি অলোক চক্রবর্তী ও সুমন মন্ডল আহত হয়। হামলাকারীরা এসময় হাবিবের পালসার ১৫০ সিসি মটর সাইকেলটি ভাংচুর করে ও ৩/৪টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। এলাকাবাসি মারাতœক আহতাবস্থায় হাবিব ও অলোককে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এব্যাপারে থানার অফিসার্স ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে কেশবপুর শহরে নিরুত্তাপ হরতাল পালিত হয়েছে। সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিন থাকায় দুপুরের পর থেকে হরতাল শিথিল হয়ে যায়। তবে নাশকতা রোধে পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার কলারোয়ায় জামায়াত-বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি হামলার ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা সদরে  ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সোমবার বেলা তিনটা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানাগেছে। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত জানান, কলারোয়া পৌর এলাকায় শাস্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জানাগেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএনপি ও জামায়াত শিবির নেতা কর্মীরা সোমবার দুপুরে পৌর সদরে হরতাল সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় উপজেলা আ.লীগের সাবেক আহবায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরীর মালিকানাধীন চৌধুরী মাকের্টে ভাংচুর চালায়। তারা এ সময় মার্কেটের ২০ টি জানালার থাই গ¬াস ভাংচুর করে। হরতাল সমর্থকরা পিকেটিং করা কালে কলারোয়া জিকেএমকে হাইস্কুল ফুটবল মাঠে ৩ টি হাত বোমা ও ৪ টি ককটেলের বিষ্ফোরন ঘটায়। এসময় তারা কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এর পর  আ’লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রিয় সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির’র স্থগিত কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ফেষ্টুন ও তার কলারোয়াস্থ বাসভবনে হামলা চালায়। আ,লীগ নেতাকর্মীরা এ সময় হামলা চালিয়ে তার বাড়ির জানালার গ্লাস ও বেশ কিছু আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তবে এঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  হুসেইন শওকত সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন । নাশকতা এড়াতে কলারোয়া পৌর সদরে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।
এদিকে হরতাল সমর্থকরা হামলা চালিয়ে দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এড. গোলাম মোস্তফার বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুর করে। তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার কুমিরায় বিএনপি ও জামায়াতের মিছিল থেকে এক আওয়ামীলীগ কর্মীর দোকান ভাংচুর করা হয়। পরে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা সেখানে মিছিল করে। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে বিএনপি কর্মীদের হামলায় আহত হয় ১০ আওয়ামী লীগ কর্মী। এ ছাড়া সাতক্ষীরা শহর, কদমতলা, দেবহাটার সখিপুর, পারুলিয়া  ও শ্যামনগরের কাশিমারিতে মিছিল সমাবেশ করেছে ১৮ দল  ।
বাগেরহাট :  সোমবার হরতালে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অফিস, বিএনপি নেতা ও স্থানীয় আন্দোলন-সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালিয়েছে দুবৃত্তরা। হরতালের সমর্থনে দুপুরে বিএনপি মিছিল বের করলে হামলায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছে  নাইম (১৯), সুজন (১৮), সুমন (২০), সোলায়মান (১৭), জামাল (২০), অনিক (২৩), হাসান মলি¬ক (২৪), আসলাম হোসেন (২২), ফয়সাল হোসেন (১৮),আলামিন হোসেন রাসেল(২০), সাইফুল ইসলাম (২৮), আরিফ (১৬), মামুন (২০), শাওন (২২), ইকবাল হোসেন প্রিন্স (৩২), মিলন (৩০), আবু সালেহ (২৮),লিটন দফাদার(৩৪), বুলি হাওলাদার (৩৫)।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) আজিজুল হক  পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপি নেতার ভাংচুরকৃত বসত বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে । বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপির দুই গ্র’পের সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলীম (৪০) নিহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুর দুইটায় উপজেলার সোহাগপাড়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলীম গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র।
জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় শাহজাদা (২৮) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার হরতাল চলাকালে সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আমভদ্রা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাজাদা ইসলামপুরের চরভদ্রা গ্রামের জবান আলীর পুত্র।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হাসেন আলী(৩২)। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি’র দাবি পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হন হাসেন। পরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
চাঁদপুর: এদিকে চাঁদপুরে হরতাল চলাকালীন সময়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে নিহত হয়েছে এক কিশোর। সোমবার বেলা দশটার দিকে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পল্টু পুরান বাজারের মোম ফ্যাক্টরি এলাকার মকবুল হোসেনের পুত্র।
পুলিশ জানায়, লোহারপুল এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে পল্টু ছুরিকাহত হয়। তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম: পিকেটারদের হামলায় রোববার গভীর রাতে সাতকানিয়ার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ওয়াসিম (৩০) নামের এক ট্রাক চালক।
সাতকানিয়ার হাসমতের দোকান নামের একটি স্থানে রাত দুইটার সময় পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে ট্রাকটির সামনের গ্লাস ভেঙ্গে যায়, এ সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ওয়াসিম। ওয়াসিমের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা আছে।