হরতালের প্রভাবে বেনাপোল বন্দরে পন্যজট

আবদুল কাদেরঃদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রভাব পড়েছে। হরতালে কোনো ধরণের পণ্য পরিবহন হচ্ছেনা। ভারত থেকে বিভিন্ন পন্য আমদানি হলেও বন্দর থেকে মালামাল লোড বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে বন্দরে তীব্র পণ্যজট দেখা দিয়েছে। আবার হরতালের কারণে এবং পন্যজটের জন্য ব্যবসায়ীরা মালামাল আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। লোড বন্ধ থাকায় বন্দর এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে আছে ট্রাক।
বেনাপোল কলকাতা মহাসড়ক, গুদাম, খোলা মাঠ, ওয়ার হাউস কোথাও কোন যায়গা নেই। আমদানিকৃত পন্যে সব সয়লাব হয়ে গেছে। আর একারনে পন্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারছেনা। সম্প্রতি সময়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমান গাড়ি ও গাড়ির পার্টস আমদানি হওয়ায় পন্যজট তীব্রতর হয়েছে। আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, পন্য খালাস করতে না পারলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। তাদেরকে অতিরিক্ত শেডের ভাড়া গুনতে হবে।
বন্দর সূত্রে সুত্রে গেছে, ভারত থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩শ’/৪শ’ পন্য বোঝই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। হরতলের গত দু’দিনে মাত্র ৪০ ট্রাক পন্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে গাড়ির চেসিস ও পার্টস বেশি রয়েছে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক অ্য্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন বলেন, হরতালে পন্য আমদানি হলেও পরিবহন করা যাচ্ছেনা। কেননা গাড়ির ক্ষতি হোক কোনো মালিক চাননা।
বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ অ্য্যাসোসিয়েশনের কাস্টম বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, হরতালে কিছু পন্য আমদানি হলেও খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। এতে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত শেডের ভাড়া গুনতে হয়।ূ
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় কয়েকশ’ পণ্যবাহী ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর ও আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে। যার মধ্যে পচনশীল পন্যও রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, একদিন হরতালে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। হরতালের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি বাণিজ্য চলছে। কিন্তু পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা বন্দর গুদাম থেকে পণ্য খালাস নিতে পারেননি। ফলে বন্দর গুদামে স্থান সংকটের কারণে ভারতীয় ট্রাক দিনের পর দিন আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরের ট্রাক টার্মিনালে খালাসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকছে। আবার পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে বেশ। এতে দেশের আমদানিকারকরা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হুমায়ন কবীর কবু জানান, হরতালে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হন ব্যসায়ীরা। দেশের শিল্পের বেশির ভাগ কাঁচামাল আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। সেই বন্দর যদি ঘন ঘন বন্ধের কবলে পড়ে তাহলে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়বে। হরতালে বেশি ক্ষতির শিকার হন কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। সামনের রাজনৈতিক অবস্থা কি হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।
বেনাপোল কাস্টমের সহকারী¥ কমিশনার সাধন কুমার কন্ডু  জানান, হরতালে পন্য আমদানি অনেক কমে যায়। আবার যারা আগে পন্য আমদানির ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের পন্য খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন জানান, হরতালে পন্য খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরে কোথাও জায়গা নেই। মারামাল আমদানি হলেও লোড কর্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।  #