আ. লীগ নেতা নজরুলের উপর ফের গুলি ও বোমা হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পুরনো টায়ার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলামকে (৪৬) এক মাসের ব্যবধানে আবারো গুলি করে ও বোমা মেরে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের মণিহার এলাকার তালতলা মোড়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ নজরুল ইসলাম বারান্দী মোল্যা পাড়ার শেখ রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার প্রকাশ্য দিবালোকে বারান্দী মোল্লা পাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে গুলি বর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো তাকে। আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, পূর্বের হামলাকারী সন্ত্রাসীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লগি নেতা নজরুল ইসলাম তালতলা  মোড়স্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকাশ টায়ার হাউজে বসে ছিলেন। এ সময় ৩টি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেড পরিহিত সন্ত্রাসীরা এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে ও ২/৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় শেখ নজরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ও বোমার শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসার আগেই সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলযোগে স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা শেখ নজরুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতের স্বজনদের অভিযোগ, যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ভারতে পলাতক ফিঙে লিটনের পোষ্য সন্ত্রাসী বারান্দী মোল্যা পাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী নান্নু, ডিম রিপন, জনি, ভাগ্নে শক্তি, বাবু, কদমতলার শিপন, রনিয়া সশস্ত্র হামলা চালিয় আওযামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উদ্ধার হয়েছে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া হান্ড ব্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ভারতে পালিয়ে থেকে ইন্টারনেটে স্কাইফের মাধ্যমে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে ওই এলাকার সন্ত্রাসী প্রধান ফিঙে লিটন। তার এ কাজে সহযোগিতা করে তার ভাই সেলিম পলাশ ও ভগ্নিপতি নান্নু। তাদের শেল্টারে বারান্দী মোল্যাপাড়ায় একটি সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অপ্রতিরোধ্যভাবে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তাদের অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে সংঘটিত হয়। সন্ত্রাসীদের ধারণা, শেখ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের জোটবদ্ধ করা হয়েছে। যে কারণে তার উপর সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। হত্যা মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে তারা। এরই জের ধরে শেখ নজরুল ইসলামের কলেজ পড়–য়া ছেলে আকাশকে মারপিটে জখম করা হয়। এর প্রতিবাদে জোটবদ্ধ লোকজন গত ২৯ সেপ্টেম্বর বারান্দী মোল্যা পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী মিছির বের করে। ওই মিছিলেও সন্ত্রাসী নান্নু, শিপন, ডিম রিপন, মোমিন, শক্তিসহ ১৫/২০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে এ আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় একটি গুলি তার ডান পায়ের গুড়ালির উপর লাগলে তিনি ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। ওই সন্ত্রাসীদের টার্গেট লক্ষ্যভষ্ট হওয়ায় ১ মাসের ব্যবধানে গতকাল মঙ্গলবার রাতে একই সন্ত্রাসীরা তাকে ২য় দফায় গুলি ছুড়ে ও বোমা মেরে হত্যার চেষ্টা করেছে। রাতে (১১টা) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শেখ নজুরল ইসলামের শরীরে অস্ত্রপচার করা হচ্ছিলো। অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত এক চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আহত আওয়ামী লীগ নেতার শারীরিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না। দুটি আঘাত খুবই গুরুতর। এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে ফিঙে লিটনের পোষ্য সন্ত্রাসী নান্নু ও পলাশের নেতৃত্বে শেখ নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় দফায় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ায় খবরে হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, মনিরুল ইসলাম মনির, দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আওয়ামী লগি নেতা ফারুক আহমেদ কচি, হায়দার গণি খান পলাশ, মহিলা আওয়ামী লীগ সভা নেত্রী নুর জাহান ইসলাম নীরা, যুবলীগ নেতা মাহমুদ হাসান বিপু, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল প্রমুখ। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম আহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাতে শহরে প্রতিবাদ মিছিলের পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ করেন।