নতুন জোটের পথে জাতীয় পার্টি

স্পন্দন ডেস্ক:মহাজোট ছেড়ে আলাদা জোট গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধতেও দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে।
তবে আলাদা জোট গঠন করা হলেও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের নকশা অনুযায়ী করতে চায় দলটি। উভয় কূল রক্ষা করতেই দলটি এ অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এক হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বোঝানো আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাদের যেন ক্ষতি না হয়। বিশেষ করে এরশাদের মামলা ধরে যেন টান না দেয় আওয়ামী লীগ।
আবার বিএনপির সঙ্গেও গোপন সমঝোতা থাকবে। তা হচ্ছে, আমরাতো আপনাদের সঙ্গেই আছি।
জোট বা আলাদা জোট যাই হোক জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অবস্থান বিএনপির ছকেই হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য। আলাদা জোট হলেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচিতে দেখা যেতে পারে দলটিকে।
আর গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনও করতে চায় দলটি। ভোটের কয়েক দিন আগে তা প্রকাশ করা হবে। যখন আর আওয়ামী লীগের কিছুই করার থাকবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিল প্রক্রিয়া হবে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে। জাপা জোটের জন্য নির্ধারিত আসনগুলোতে বিএনপি জোট দুর্বল প্রার্থী দাঁড় করাবে। আবার একইভাবে বিএনপি জোটের আসনগুলোতে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে প্রচারণা থেকে বিরত থাকবে জাপা। দলীয় সূত্র জানায়, নতুন এই জোটে থাকতে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গেও জাপার আলোচনা অব্যহত রয়েছে। বিকল্প ধারার পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যকেও অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এরশাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে বিকল্প ধারা। কয়েক মাস আগে কক্সবাজারের একটি হোটেল মাহি বি চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন এরশাদ।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এরশাদের বাসভবনে হাজির হন বিকল্প ধারার দুই শীর্ষ নেতা মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জাপা সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এছাড়াও নতুন এই জোটে যুক্ত হতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দল সম্মত হয়েছে। জোট ও মহাজোটের বাইরে থাকা ফুলতলীর পীরের ছেলে মাওলানা হোসান উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর রাজনৈতিক দল আল ইসলা, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা অব্যহত রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক দলকেও এ জোট গঠনের অন্যতম ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। এমনকি ১৮ দলীয় জোট থেকেও সর্বাধিক ৪টি দল বের হয়ে এসে এই জোটে যোগদান করতে পারে বলেও দাবি করেছে জাতীয় পার্টি সূত্র। এক্ষেত্রে ১৮ দলীয় জোটভূক্তদের মধ্যে কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ন্যাপ ভাসানী ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নাম জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে।
জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমি কবির ভাষায় বলতে চাই, ‘নারীর মন সহগ্রবর্ষের সাধনার ধন’। এরশাদের মনও ঠিক তেমনি। ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছু বলা মুশকিল। তার সম্পর্কে আমার কোন বক্তব্য নেই।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের মুখপাত্র কাজী ফিরোজ রশীদ বাংলানিউজকে জানান, আলাদা জোট গঠনের বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি পার্টির মহাসচিব ভালো বলতে পারবেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে জানান, আমরা এখন পর্যন্ত একক নির্বাচনের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। তবে অনেকেই নতুন জোট করার বিষয়ে প্রস্তাব দিচ্ছে।
নতুন জোটের বিষয়ে পার্টির চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান জাপা মহাসচিব।
নতুন জোট গঠনের বিষয়ে কতটি দল এখন পর্যন্ত আগ্রহ দেখিয়েছে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, বহু দল এই জোটে আসতে চাইছে। এখনই সংখ্যা বলতে চাই না।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আলাদা জোটের বাইরে বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ এ বিষয়ে দূতিয়ালি করছেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি গুলশান এলাকার একটি হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন কাজী জাফর আহমদ। সেখানে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য ৮৫ প্রার্থীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকা থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে প্রার্থী করার জন্য বলা হয়েছে।
ওই তালিকায় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য রংপুর ১, ৩ ও সিলেট সদর আসন চাওয়া হয়েছে। আর রাজধানীতে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানের জন্য ঢাকা-৯ আসনের প্রস্তাব করেছে জাতীয় পার্টি।
জাপা সূত্র জানিয়েছে বিএনপির পক্ষ ৭০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে অনেক আগেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পিলখানা হত্যা মামলার
রায় আজ

পিলখানায় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) হত্যাকা- মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে। গত ২০ অক্টোবর বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আকতারুজ্জামান এ দিন নির্ধারণ করেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নৃশংস এ হত্যাকা-ের ৪ বছর ৮ মাস পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত পিলখানায় ৬ হাজার ৯০৩ জন বিডিআর সদস্য কর্মরত ছিলেন। তবে দরবারে উপস্থিত ছিলেন ৯৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ২ হাজার ৪৮৩ জন।
মামলায় ৫ হাজার ৯৬৪টি আলামত জব্দ করা হয়।
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকা-ে ২ হাজার ৪১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ফায়ার করা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল ১ হাজার ৮৪৫টি রাইফেল, ৫২৮টি এসএমসি, ২৩টি পিস্তল ও ১৮টি এলএমজি।
এ মামলার ১ হাজার ৩৪৫ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২শ’ ৩২ কার্যদিবসে ওই ৬৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
আদালতে দেওয়া সাক্ষীদের মধ্যে ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্য, বিডিআর সদস্য, সাংবাদিক, সাধারণ নাগরিক, অস্ত্র ও মোবাইল ফোনসেট বিশেষজ্ঞ, পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, রেডক্রিসেন্ট সদস্য, র‌্যাব সদস্য, জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী দলের সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেট, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সে সময়কার বিমান ও নৌ-বাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।
সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান মঈন উ আহমেদ মামলার সাক্ষী থাকলেও তিনি আমেরিকা থাকায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি।