নান্নুরা দেখিয়ে দিল কতখানি প্রতাপশালী তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙে লিটন ও তার পরিবারের লোকজন কত শক্তিশালী তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। এ একটি মাত্র পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে আছে পুরো বারান্দী মোল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে যারাই রুখে দাড়িয়েছে তাদের পরিণতি হয়েছে মৃত্যু। ভারতে পলাতক জীবন যাপন করেও ফিঙে লিটন তার শক্তিশালি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখনো মানুষ হত্যা করে চলেছে। তার সর্বশেষ শিকার হলেন সাহসী আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী শেখ নজরুল ইসলাম। এর আগে ৮ জন খুন হয়েছে এ বাহিনীর হাতে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে আনিচুর রহমান লিটন মটরগাড়ির হেলপার ও কলারম্যান ছিলো। কথিত কিছু শ্রমিক নেতাদের আশকারায় মারামারি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা সহ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। রাত দিনি যখন তখন তাকে পুরনো বাসস্ট্যানড্ সহ আশপাশের এলাকায় দেখা যেতো। স্বভাব সুলভ আচারণের কারণে এলাকার লোকজন নামের আগে ফিঙে জড়িয়ে ফিঙে লিটন বলে ডাকতো। ৯৮৮ সালে তৎকালনি এক বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) জওয়ানের কাছ থেকে ছিনতাইকালে হত্যা করে। সেই থেকে শুরু। এপর একেরপর পর এক হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ সব ধরণের অপরাধের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে মানুষ হত্যা করার নেশায় মতো হতে থাকে। যে কারণে তার ধারের কাছে পুলিশ প্রশাসন ভিড়তে পারেনি। বিডিআর জওয়ানকে হত্যার পর চাঁনপাড়ার গোলাম নবী, ছাত্রনেতা আরমান, নীলগঞ্জের আলীর ভাই জিয়া, মোল্লাপাড়ার ওলিয়ার ড্রাইভারের ছেলে রিপন, হাজেফ মজিবুর রহমানের ছেলে সোহাগ, হেলার ছেলে বিল্লালকে হত্যা করে। এপর তার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারায় ঝুমঝুমপুর এলাকার বিজিবির সোর্স জিয়া এবং সর্বশেষ আওয়ামী লগি নেতা শেখ নজরুল ইসলাম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মণিহার এলাকা ও তার আশাপাশের ব্যবসায়ীরা জিম্মি এ গ্রুপের হাতে। প্রতি বছর শুধু মাত্র ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৫/২০ লাখ টাকা চাঁদা ুঠে। এর একটি অংশ চলে যায় ভারতে। ২০০৬ সালে অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজা হলে লিটন গোপনে ভারতে পাড়ি জমায়। মোবাইলফোনে বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার পরিবারের সদস্য ও নিটক আত্মীয় স্বজনরা। এরা হলো তার আপন বাই সাইদুর রহমান পিরন ওরফে ডিম রিপন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ৯টি মামলা আছে। আরেক জন হলো তার ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ৬টি মামলা আছে। নান্নুর ভাই মাকসুদুর রহমান লাভলু, মাহফুজুর রহমান পান্নু ও বাবু সবাই তার অপরাধ জগতের সহযোগি। বর্তমানে ফিঙে লিটনের অন্যতম প্রধান সহযোগির নাম সেলিম পলাশ। ফিঙে লিটন ও সেলিম পলাশ সম্পর্কে আপন ভাইরা ভাই। সেলিম পলাশও একজন শ্রমিক। সম্প্রতি প্রশাসনসহ নানা ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার আশায় সেলিম পলাশ নিজেকে সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দেয়। অখ্যাত একটি পত্রিকার পরিচয় পত্রও আছে তার কাছে। তার কাজ হলো সুবিধা মত শিকার (মানুষ) ধরা। এরপর সিটি কলেজ মার্কেটের পশ্চিম পাশে (মণিহারের পুর্ব গলি) তার অফিস রুমে নিয়ে গিয়ে স্কাইপের মাধ্যমে ফিঙে লিটনের সাথে কথা বলিয়ে দেয়া। ফিঙে লিটনও সুযোগ বুঝে। চাঁদা চায়। চাঁদা না দিলে বেঁচে থাকবে না বলে হুমকি দেয়। ফলে যে কোন ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে তাদের কাছে আাত্মসমর্পণ করে। এ অভিযোগগুলো নিহত নজরুল ইসলাম গত ৬ অক্টোবর প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়া ভাইপো রিপন, সেতু, জিতু, রনি, তরিকুল, শাহীন, মোমিন, নাইস, মিন্টু, নেসারসহ আরও অনেক আত্মীয়ও সাঙ্গাপাঙ্গ আছে এ গ্রুপে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ জানা গেছে, ফিঙে লিটনের সহযোগিরা কেউ আওয়ামী লীগ ও কেউ বিএনপিসহ অন্য রাজনীতির সাথে যুক্ত। ফলে সমস্যা বা বিপদে পড়লে নিজেদের সাথে দলীয় সুবিধার সুযোগ নেয়। ফলে পুলিশ প্রশাসন তাদর আটক করতে পারে না বিভিন্ন চাপে। মামলা হলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে এড়িয়ে যায় পুলিশ। সূত্রটি জানিয়েছে, ফিঙে লিটন ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরণের মাদক বাংলাদেশে পাঁচার করে থাকে। তার এদেশীয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওই মাদকের ব্যবসা করে থাকে। তাদের মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী আওয়ামী লগি নেতা নজরুল ইসলাম। ওই এলাকার মধ্য থেকে প্রকাশ্যে এক মাত্র নজরুল ইসলাম রুখে দাড়িয়ে ছিলেন। যে কারণে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে অংশ নেয়ার সময় প্রকাশ্যে নান্নু, বাবু, শক্তি, ডিম রিপনসহ অন্যান্যরা গুলি করে। এতে তিনি আহত হন। পরে এলাকার বিশিষ্ট নগরিকদের সাথে নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিরুদ্ধা চারণ করেন। এর পর এলাকার লোকজন তাকে সাবধান করেে বহুবা। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে না যাওয়ার। কিন্তু সাহসী নজরুল কণৃপাত করেননি। তার বিশ্বাস ছিল তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন শ্রদ্ধার সাথে। জেলার নেতারা তাকে সমার্থন দেবে এ প্রতিবাদের। তাছাড়া আশপাশের লোকজন তো আছেই। কিন্তু সেই ভরসা তাকে রক্ষা করতে পারেনি। হার মানতে হয়েছে সন্ত্রাসী ফিঙে লিটন ও তার পরিবারের সদস্যও নিটক আত্মীয় স্বজনদের কাছে। সূত্রটি জানিয়েছে, এলাকাবাসী ও প্রশাসনের লোকজন আঁচ করতে পেরেছিল যে, বারান্দী মোল্লঅপাড়ায় কিছু একটা করতে পারে এ বাহিনীর সদস্যরা। কারণ ১০/১৫ দিন আগে নান্নু ও ডিম রিপন ভারতে যায়। পাস পোর্টের মাধ্যমে। কৌশল হিসাবে তারা চোরা পথে দেশে ফেরে। এরপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে ফের অবৈধ পথে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যায়। পরে বৈধ পথে দেশে ফেরে। নজরুল ইসলামকে হত্যার ক্ষেত্রে এ পথ অবলম্বন করা হয়। যাতে সনেদহের বাইরে রাখা হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে নজরুল ইসলাম যখন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। সে সময় লাভলু, পান্নু, সিরা, ডিম রিপন, নান্নু, সেতু, শিপন, মোমিন, তরিকুল, বাবু, মিন্টু, জনিসহ ১০/১৫ জন মোল্লাপাড়া নারকেল বাগানের মধ্যদিয়ে নিটল টাটা অফিসের পুরনো ভবনের পাশ দিয়ে তালতলায় যায়। এরপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নেয়। মিশন শেষ হওয়ার পর নান্নু ও ডিম রিপন সীমান্তের দিকেই চলে গিয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর আছে। এলাকাবাসী মনে করে এ হত্যার বিচার হবে না। কারণ পুলিশ প্রশাসন বা রাজনীতিবিদ কেউ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না নিজের স্বার্থে। ফলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সাধারণ মানুষের আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার নেই। শুধু ক্ষতির শিকার হলো নিহতের স্ত্রী তাহমিনা ইসলাম, পুত্র আকাশ ও সীমান্ত।