যশোরে খেলোয়াড় সংকটের আশংকা

মারুফ কবীর:যশোরে খেলোয়াড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। ঘরোয়া লিগ না হওয়ায় এমনটি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। খেলাধুলায় টিকতে না পেরে অনেকে মনোযোগ দিচ্ছেন অন্য পেশায়। দেশজুড়ে খেলাধুলার সুনাম রয়েছে যশোরের। এখান থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলে সুনাম কুড়িয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু বর্তমানে ক্রীড়া দানে অচলাবস্থা বিরাজ করায় দুঃচিন্তায় আছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। আর খেলাধুলা পরিচালনা করবেন তারাই (জেলা ক্রীড়া সংস্থা) এখন রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। কারণ হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কোন কমিটি নেই, এমনকি সব ধরণের কর্মকাণ্ডে প্রায় স্থগিত রয়েছে। খেলোয়াড়রা ব্যবসা অথবা অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি খেলাধুলা করতেন। তাছাড়া কেউ কেউ এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্য জেলার কোন ঘরোয়া লিগ বা টুর্নামেন্ট নেই, তাহলে আমরা কি করব? নিরূপায় হয়ে ব্যবসা বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছি। এতে আমাদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। অনুশীলন বা খেলা না থাকায় আমরা হারিয়ে ফেলছি খেলোয়াড়ী নৈপুণ্যতা। যা দিনকে দিন অব্যাহত থাকলে খেলোয়াড়ী মনোবল হারিয়ে যাবে। যশোর জেলা দলের হ্যান্ডবল খেলোয়াড় তৌহিদুর রহমান সোহেল জানান, অনুশীলন করে কোন লাভ হচ্ছে না। লিগ না হওয়ায় এখন ব্যবসায় সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে পড়েছি। আগে খেলাধুলা থাকলে সেটা শেষ করে সময় পেলে ব্যবসায় সময় দিতাম। তবে এখন বাধ্য হয়ে ব্যবসার পিছনে সময় ব্যয় বেশি হচ্ছে। অন্যান্য জেলার খেলোয়াড়রা এখন এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের ঘরোযা লিগ হচ্ছে যার ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন খেলোয়াড়। জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা। এমন অবস্থা চলমান থাকলে যশোর পড়বে চরম খেলোয়াড় সংকটে। ক্রিকেটার মুরাদ খান এ প্রতিবেদককে জানান, তরুণ খেলোয়াড়রা কোন আশায় খেলাকে নিয়মিত করবে। জেলায় কোন লিগ নেই। এ কারণে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হচ্ছে না। বয়স ভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। খেলাধুলায় কোন সম্ভাবনা না থাকায় অন্যান্য পেশায় নিজেকে জড়িত করে ফেলছেন অনেকে। যাতে দেখা দিচ্ছে খেলোয়াড় সংকট। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির এ ব্যাপারে বলেন, কোন কমিটি না থাকায় ঘরোয়া লিগ হচ্ছে না। যাতে খেলোয়অড়রা এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এমন অবস্থা বিরাজ করতে থাকলে পরবর্তীতে চরম খেলোয়াড় সংকটে পড়বে যশোর।