জঙ্গি ছিনতাই: মাত্র ৪ মিনিটের অপারেশন!

এম.আব্দুল্লাহআল মামুন খান : পুলিশের প্রিজনভ্যানে বোমা হামলা ও গুলি চালিয়ে এক কনস্টেবলকে হত্যা করে জেএমবির সাজাপ্রাপ্ত ৩ জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১’শ গজ দূরে ক্ষেতে কাজ করছিলেন দুলাল মিয়া(৪০)।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাইনবোর্ড নামক এলাকার এ-বাসিন্দা জানিয়েছেন, জেএমবি’র সশস্ত্র ক্যাডাররা রোববারের অপারেশনে মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিট সময় নিয়েছে।

রোববার দুপুরে কথা হয় আলোচিত লোমহর্ষক ঘটনার এ-প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে। তিনি বলেন, ‘কালো পোশাক পরা ৬ থেকে ৭ জন মুখোশপরা লোক পুলিশের প্রিজনভ্যানকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছুঁড়তে থাকে। এদেরই দু’জন প্রিজন ভ্যানের ভেতর ঢুকে প্রথমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় বাকিরা দাঁড়িয়ে মহাসড়ক পাহারা দিচ্ছিল।

তাদের অপারেশনের সময় একজন জেএমবি সদস্য প্রিজন ভ্যানকে লক্ষ্য করে দু’টি গুলি ছোড়ে। মহাসড়কেও তারা ২ থেকে ৩ টি বোমা’র বিস্ফোরণ ঘটায়।’

তিনি জানান, প্রিজন ভ্যানটি সাইনবোর্ড নামক এলাকায় পৌঁছার আগেই একটি ট্রাক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এ ট্রাকটিই পুলিশের ভ্যানের গতিরোধ করে। ট্রাকের সামনে জেএমবি সদস্যদের একটি কালো বক্সি গাড়ি রাখা ছিল। ট্রাকের পেছনে কয়েক গজ দূরে ছিল অপর একটি সাদা নোয়া গাড়ি।

এ গাড়িটি ঢাকার দিকে আর কালো গাড়িটি ময়মনসিংহের দিকে চলে যায়। হামলাকারী জেএমবি ক্যাডাররা ছিল সাদা নোয়া গাড়িতে।’

এ প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় দুলাল মিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ত্রিশাল উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৩২)। তিনিও এ-লোমহর্ষক দৃশ্য নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন।

দেলোয়ার ও দুলাল দুজনেই জানান, ‘মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ও ২ থেকে ৩ টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেএমবি সদস্যরা বীরদর্পে ২ মৃত্যুদণ্ড ও ১ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।’

তারা জানান, জেএমবি ক্যাডারদের এ অপারেশনের সময় ঢাকামুখি এনা পরিবহনের একটি বাসকে জেএমবি’র দু’ই ক্যাডার অস্ত্র উঁচিয়ে থামার ইশারা করে। কিন্তু চালক বাসটি গতি না কমিয়ে সজোরে চালিয়ে যাবার সময় জেএমবি সন্ত্রাসীরা ওই বাসকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলি বাম পাশে বাসের নিচে আর অন্যটি বাসের হেডলাইটে লাগে।’
undefined
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার জানান, ‘স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে আমরা পুলিশের গুলিবিদ্ধ কনস্টেবল সোহেল রানাকে উদ্ধার করে একটি ট্রাকে করে এবং গুলিবিদ্ধ অপর সদস্য হাবিবুর রহমানকে একটি প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই।’

তিনি জানান, ‘ঘটনাস্থল সাইনবোর্ড এলাকার দক্ষিণ পাশে আনুমানিক দেড়শ গজ দূরে আমার বাড়ি। সেখান থেকেই আমি পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছি। কিন্তু জেএমবি ক্যাডারদের নৃশংসতার সময় ভয়ে-আতঙ্কে সামনে যাওয়ার সাহস পাই নি।’

প্রসঙ্গত, জেএমবি’র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সদস্য সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, রাকিব হাসান ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বোমারু মিজানকে প্রিজন ভ্যানে করে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা হচ্ছিল। পথে ত্রিশালের আমিরাবাড়ি ইউনিয়নের সাইনবোর্ড নামক এলাকায় আসার পথেই রোববার সকালে ১০ টার দিকে জেএমবি’র সশস্ত্র ক্যাডাররা এ-হামলা চালিয়ে ওই ৩ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।