দক্ষিণাঞ্চলে বোরোর পরিবর্তে রবিশস্যের আবাদ বাড়াতে হবে

দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় ধানের পরিবর্তে রবিশস্য, বিশেষ করে তেল ও ডাল জাতীয় ফসল আবাদের সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ফল ও হর্টিকালচার এবং মৎস্য চাষও বাড়ানো যেতে পারে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের জমিতে উর্বর শক্তি ধরে রেখে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বাজারজাত ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দিতে হবে। রাজধানীতে ব্র্যাক আয়োজিত ব্র্যাক ইন্টারভেনশন ইন ইনক্রিজিং রিজিলিয়েন্স অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম ইন দ্য সাউথ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ সুপারিশ করেছেন। এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন ১৯ ফেব্র“য়ারি (বুধবার) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে দানাদার কিংবা তেল ও ডাল জাতীয় ফসল, বিশেষ করে সূর্যমুখী, গম, পাট, টমেটো, সরিষা, তিল ও তিসির আবাদ বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা জমির জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা দূরীকরণে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পান, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন শিল্প গড়ে তোলারও ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি বাজারজাত ব্যবস্থায় দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূরীকরণেও উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা (বীজ উইং) এর বক্তব্যের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ৫০ বছরের ব্যবধানে দক্ষিণাঞ্চল খাদ্য শস্যে উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও এ অঞ্চলের জন্য উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ না হওয়া এর অন্যতম কারণ। তাই জমির ধরণ অনুযায়ী ফসল আবাদ করতে হবে। এর সঙ্গে চাষ করা মাছ ও হর্টিকালচারকেও এগিয়ে আনা যেতে পারে। এ অঞ্চলে ফল চাষেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপরও জোর দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। যতই উৎপাদন গ্রহণ করা হোক না কেন, কৃষক যদি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পান তাহলে তা কোন কাজেই আসবে না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ অঞ্চলের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে কাজ করলে এ অঞ্চলে খাদ্যশস্যের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম প্রযুক্তির সর্বোত্তম সম্প্রসারণ ও তার কার্যকারিতা বাস্তবায়নে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদান। এ জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে ব্র্যাক এর কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ। এরই মধ্যে সুর্যমুখীর ব্যাপক চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য ফসল ও মাছ চাষেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ দিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য হলো, গত কয়েক দশকেও কৃষি বিভাগ আউশের ভাল জাত উদ্ভাবন করতে পারেনি। এ জন্য আবাদও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সারা দেশে মাত্র সাড়ে ১০ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হচ্ছে। প্রতি হেক্টর বোরো ও আমন থেকে গড়ে চার টন চাল হলেও আউশের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২ দশমিক ২১ টন। যদিও আউশের প্রধান অঞ্চল হতে পারে দক্ষিণাঞ্চল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যানের বক্তব্য হলো, দেশের দক্ষিণাঞ্চল পাট ও সুগার বিটের জন্য প্রসিদ্ধ স্থান হতে পারে। তাছাড়া এ অঞ্চলে প্রচলিত যেসব জাত রয়েছে, সেগুলোকে আরও উন্নত ও ফলনশীল করে তুলতে প্রয়োজন উচ্চতর গবেষণা। এদিকে ওয়ার্ল্ড ফিশ সেন্টারের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য হলো, এ অঞ্চলে পানি স্বল্পতা যেমন রয়েছে তেমনি আধিক্যও রয়েছে। এ দু’টির মধ্যে সমন্বয় করে ফসল ও মাছ চাষ বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে কৃষির টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।