যশোরে সাইফুল হত্যায় মামলা,আটক নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে উদীচী হত্যা মামলার আসামি নিহত সাইফুল ইসলাম হত্যার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে সেও হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছে। তার অবস্থানও পুলিশ জানতে পারেনি। তবে পুলিশ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। যাতে কেউ ভারতে পালাতে না পারে। এদিকে, নিহত সাইফুলের স্ত্রী মর্জিনা বেগম গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা না হলেও প্রধান নিহতের ধর্মবোন রুমাসহ পাঁচ জনের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত সাইফুল মসলার ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কারণে ক্ষুদ্র মহিলা ব্যবসায়ীদের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিলো। শংকরপুর কলাবাগান এলাকার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমাকে তিনি ধর্মবোন ডাকতেন। তাদের বাড়িতে সাইফুলের যাতায়াত ছিল। টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে রুমার সাথে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। যে কারণে রুমা তার স্বামী রফিক, বোন আসমা, সুজনা ও চোপদারপাড়ার রবিউল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গত শুক্রবার বিকেলে সাইফুল তার রামনগর ইউনিয়নের শ্রীকণ্ঠনগর গ্রামস্থ বাড়ি থেকে বের হন। রুমার মোবাইলফোন পেয়ে সাইফুল শংকরপুর কলাবাগান এলাকার দিকে যান। এরপর তিনি আর ফেরেনি। শনিবার মুড়লী রেলক্রসিং এর পাশের একটি মাছের ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্ত্রীর ধারণা রুমাসহ ওই পাঁচজন পরস্পর যোগসাজসে সাইফুলকে হত্যা করেছে। তবে এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের মসলা জাতয়ি পণ্য ছাড়াও মাদক চোরাচালান ব্যবসা করতেন সাইফুল। শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় তার ছিল আধিপত্য। ওই এলাকার আব্দুর রহিম নামে আরও এক মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সাইফুলের কাছ থেকে নিজের কাছে নেয়ার জন্য চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে দু’দফা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। মাস দেড়েক আগে টার্মিনাল এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। ১০/১২ দিন আগে শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া সিগন্যাল গেটে উভয়ের মধ্যে রেষারেষি হয়। একে অপরকে হুমকিও দেয়। মাদক ব্যবসায়ী রহিমের মূলবাড়ি ফরিদপুরে। ১৮ বছর আগে শংকরপুরে এসে বসবাস করে। সে একসময় মিজানুর রহমান মিজানের (র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত) মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল। বর্তমানে শংকরপুরের হারানের বস্তিতে থাকে। টার্মিনাল এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে সাইফুল খুন হতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। সাইফুলের ধর্মবোন রুমার সাথে রহিমও একত্রিত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার দাস বলেছেন, আসামিদের আটকের ব্যাপারে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রধান সন্দেহভাজন রুমা পলাতক রয়েছে। এদিকে, কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জহুরুল হক বলেছেন, প্রধান সন্দেহভাজন রুমা, আসমা যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য সীমান্ত এলাকায় পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে অবৈধ পথে চলে গেলে কিছু করার থাকবে না। যেহেতু তারা ভারতীয় চোরাচালান পণ্যের ব্যবসা করে। সে কারণে অবৈধ পথ তাদের চেনা। এই পথে তারা পালাতে পারে।