এশিয়ার ক্রিকেট-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক:দুই বছর পর আবার বাংলাদেশে এশিয়ার সেরা ক্রিকেট প্রতিযোগিতা এশিয়া কাপ। এশিয়ার ক্রিকেট-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এবার চার টেস্ট খেলুড়ে দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী আইসিসির সহযোগী সদস্য আফগানিস্তান।আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপের দ্বাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।উদ্বোধনী ম্যাচসহ পাঁচটি ম্যাচ হবে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে। ফাইনালসহ ছয়টি ম্যাচের ভেন্যু মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বেলা দুইটায়।১৯৮৮, ২০০০ ও ২০১২ সালের পর এটি বাংলাদেশে এশিয়া কাপের চতুর্থ আসর।
গতবারের আগ পর্যন্ত এশিয়া কাপে বাংলাদেশ তেমন কিছু করতে পারেনি। তবে দুই বছর আগে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে, ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার্স-আপ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক দল।
ফাইনালেও জিততে পারতো। কিন্তু জিততে-জিততে মাত্র ২ রানে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় মুশফিকুর রহিমের দল।
এরপর থেকেই ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সমীহ করার মতো দল। ২০১২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-২ ও গত অক্টোবর-নভেম্বরে নিউ জিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয়া বাংলাদেশকে এখন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সমীহ না করে উপায় নেই।
তবে ইদানীং সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দুটো সিরিজেই হেরে যাওয়া এবং নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মুশফিক ও তার সতীর্থরা একদমই স্বস্তিতে নেই। টানা ব্যর্থতায় আত্মবিশ্বাসও বেশ ভঙ্গুর।
বাংলাদেশ দলের সামনে তাই স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় সুযোগ এবারের এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের ক্রিকেট যে উন্নতি করছে, তা প্রমাণের বড় মঞ্চও এশিয়া কাপ।
এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর বাংলাদেশেই বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর। এই টুর্নামেন্ট তাই পাঁচটি দলের সামনেই এনে দিয়েছে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ।
এশিয়া কাপে তেমন সাফল্য নেই পাকিস্তানের। তবে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে তারা সফল। এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের দুটো শিরোপাই এসেছে বাংলাদেশে। প্রথমবার ২০০০ সালে, তারপর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে দিয়ে ২০১২তে।
এশিয়ার সেরা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভারত সবচেয়ে সফল। সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার অবশ্য চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে পাচ্ছে না।
ধোনির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব পাওয়া বিরাট কোহলির সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের পথে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ, বুধবার।
চারবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘ফেভারিট’। এক মাস ধরে থাকায় বাংলাদেশের পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে দারুণ মানিয়ে নিয়েছে তারা। বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে তা প্রমাণও করেছে শ্রীলঙ্কানরা।
এবারই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলছে আফগানিস্তান। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি চারটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েই খুশি। আফগানদের প্রধান লক্ষ্য অভিজ্ঞতা অর্জন। তবে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আট জনের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতায় বলীয়ান আফগানিস্তানের কোনো বড় দলকে ‘বধ’ করার যোগ্যতা ভালো মতোই আছে।