ফাঁসির আসামি জঙ্গি রাকিব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

স্পন্দন ডেস্ক:নজিরবিহীন হামলায় প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর পর টাঙ্গাইলে ধরা পড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ (৩৫) পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, রাকিবকে নিয়ে পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলাকালে সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার বেলতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মির্জাপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, রাতে রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বেলতৈল এলাকায় অভিযান চালালে পলাতক দুই জঙ্গিকে পাওয়া যেতে পারে। এর ভিত্তিতে তাকে নিয়ে অভিযানে নামেন তারা।

“বেলতৈলের সিরামিক এলাকায় পৌঁছালে জঙ্গিদের সহযোগীরা পুলিশের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন।”

পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।

তিনি বলেন, বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ সদস্য আহত গোলাম মাওলা, আসাদুজ্জামান ও মোজাম্মেল হক আহত হন। তাদের টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাকিবের লাশ কুমুদিনী হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে ও গুলি করে জেএমবির শুরা সদস্য রাকিবুল হাসান ও সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮) এবং বোমা বিশেষজ্ঞ মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে (৩৫) ছিনিয়ে নেয়া হয়।

এই তিনজনের মধ্যে প্রথম দুইজন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত। আর মিজান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

ওই হামলায় প্রিজন ভ্যানে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত ও আরো দুইজন আহত হন।

আসামি ছিনিয়ে নেয়ার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় মির্জাপুরের তক্তারচালা এলাকা থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেয়ার জন্য দাড়ি কামিয়ে ফেললেও তার গলা, হাতে ও পায়ে ডাণ্ডাবেরির দাগ দেখে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে।

জেএমবির শুরা সদস্য রাকিবুল জামালপুরের মেলান্দহ থানার বংশীবাড়ি গ্রামের আবদুস সোবাহানের ছেলে। ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেট থেকে জেএমবির প্রধান শায়খ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে একটি হত্যা মামলায় যার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

রাকিবুলের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলার মধ্যে একটিতে মৃত্যুদণ্ড, তিনটিতে যাবজ্জীবন, একটিতে ১৪ বছর ও একটিতে সাত বছরের দণ্ডাদেশ রয়েছে।