মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি

স্পন্দন ডেস্ক:একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঘোষিত রায়গুলোর অনুলিপি যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
আগামী বুধবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিনিধিদের হাতে এ পর্যুন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ঘোষিত সব রায়ের অনুলিপি পুস্তকাকারে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী।
তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হককে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় ট্রাইব্যুনালেই রায়ের কপিগুলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করা হবে লাল মলাটে বাঁধাই করা রায়ের অনুলিপিগুলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদ্যোগেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে রায়ের অনুলিপিগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানান উপ-নিবন্ধক।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ঘোষিত তিনটি রায়। এগুলো হলো জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়।
ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত ছয়টি রায়ের অনুলিপিও দেয়া হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক জামায়াতে ইসলামী নেতা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের রায়।
এদের মধ্যে গোলাম আযমকে সর্বমোট ৯০ বছরের কারাদণ্ড ও আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বাকিদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যুকর করা হয়েছে।
জামালপুরে এক জেএমবি সদস্যের বাবা ও বোন আটক
ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন জেএমবি সদস্য ছিনতাই ঘটনার পর আনোয়ার হোসেন ওরফে সৈকত ওরফে ফারুক নামের এক জেএমবি সদস্যের বাবা ও বোনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার জেলা শহরের নয়াপাড়া এলাকার বাসা থেকে পুলিশ ফারুকের বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হামিদুর রহমান জামালী (৭০) ও বোন হামিদা বানু মনিরাকে (৩৩) থানায় নিয়ে যায়।
জামালপুর সদর থানার ওসি মুজিবুর রহমান মজুমদার জানান, জেএমবির পলাতক সদস্য ফারুক সম্পর্কে জানতে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মধ্য কাজাইকাটা গ্রামে।
ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ফারুকের বাবা জানিয়েছেন- ফারুকের নামে মামলা থাকায় দীর্ঘদিন থেকে তিনি বাড়ির বাইরে আছেন।
রোববার সকালে কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮), ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার- ২ থেকে বোমা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদকে (৩৫)  প্রিজন ভ্যানে করে ময়মনসিংহ আদালতে পাঠানো হচ্ছিল।
সকাল ১০টার দিকে পথে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় এক পুলিশকে হত্যা করে ওই তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।
রোববার দুপুরেই টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় রাকিবুলকে আটক করে পুলিশ। গভীর রাতে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।
বাঁশখালী ১১ হত্যাকাণ্ডের কারণ ‘জমি দখল’
জমি দখলের জন্যই হিন্দু পরিবারের ১১ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় বলে আদালতে সাক্ষ্যে বলেছেন ওই পরিবারের এক সদস্য।
সোমবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হ্লা মং এর আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে এ কথা বলেন সাক্ষী নির্মল শীল। তিনি মামলার বাদি বিমল শীলের ছোট ভাই।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আংশিক জেরা করা হয়। পরে আদালত আগামী ২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নির্মল শীল বলেন, “ভিটেমাটি দখলের জন্য আমিন চেয়ারম্যানসহ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে আগুন দেয়। তারা নির্মমভাবে শিশুসহ ১১ জনকে পুড়িয়ে মেরেছে।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান চৌধুরী বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় তিনি আমিন চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগ গঠন হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পিপি আবুল হাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো এক বছর বেড়েছে বলে জানতে পেরেছি।”
ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে আদালতে নির্মল শীল বলেন, “রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বড় ভাই (বিমল শীল) টেলিফোনে আমাকে জানান বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে।
“আমি রাতেই টেক্সি নিয়ে শহর থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। সকাল ছয়টার দিকে পৌঁছে দেখি আমাদের বাড়িতে আগুন জ্বলছে।”

ঘটনার দিন সকাল সাতটার দিকে থানার ওসি ঘটনাস্থলে আসেন বলেও জানান নির্মল শীল।
বড় ভাই বিমল শীলের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্মল শীল বলেন, আগুনের লেলিহান শিখায় চার দিন বয়সী শিশুসহ ১১ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওই ঘটনায় নিহতরা হলেন- তেজেন্দ্র লাল শীল (৭০), তার স্ত্রী বকুল বালা শীল (৬০), তাদের ছেলে অনিল শীল (৪২), অনীলের স্ত্রী স্মৃতি রাণীশীল (৩০), অনিলের মেয়ে রুমি শীল (১১) ও মুনিয়া শীল (৭), তেজেন্দ্রের ছোট ভাইয়ের মেয়ে বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদী শীল (১৭), অ্যানি শীল (১৫), চার দিন বয়সী শিশু কার্তিক শীল এবং তেজেন্দ্রের বেয়াই দেবেন্দ্র শীল (৭৫)।
২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বরে রাতে ঘটনার পর তেজেন্দ্র শীলের ছেলে বিমল শীল বাদি হয়ে মামলা করেন।
সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘূরে অষ্টম তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হ্লাচিং প্রু ২০০১ সালের ৯ জানুয়ারি ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
এরপর ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ, খুন ও লুটতরাজের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আগের অভিযোগ বাদ দিয়ে আসামি আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়।
এরপর ওই বছরের ১৯ এপ্রিল এ হত্যা মামলায় ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করে আদালত।
এরপর বাদির আবেদনে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ে সেখানে নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলাটি আবার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফেরত আসে ২০১৩ সালের নভেম্বরে।