সালাউদ্দিন ও মিজানের মাথার দাম বাড়ল

স্পন্দন ডেস্ক:পুলিশ হত্যা করে প্রিজন ভ্যান থেকে তিন জঙ্গি ছিনতাই হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও দুই জনের খোঁজ না পেয়ে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কারের অংক বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে।  পুলিশ সদর দপ্তরের জন সংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান সোমবার বেলা সোয়া ১২টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জেএমবি সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮) ও মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানের সন্ধান এখনো মেলেনি। “কেউ তাদের ধরিয়ে দিলে অথবা সন্ধান দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ বিভাগ।”
এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন জঙ্গি ছিনতাই হওয়ার পর তাদের প্রত্যেকের জন্য দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর।   ওই তিনজনের মধ্যে জেএমবির শুরা সদস্য রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদকে (৩৫) রোববার দুপুরেই টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে পুলিশ। গভীর রাতে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।  রাকিবকে ধরতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের পুরস্কার দেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহাফুজুল হক নুরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা রাকিবকে জনতার সহায়তায় ধরেছি। পুরস্কারের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেব।” রোবাবর সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে ও গুলি করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন, রাকিব ও মিজানকে (৩৫) ছিনিয়ে নেয়া হয়। এই তিনজনের মধ্যে প্রথম দুইজন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত। আর মিজান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।   ওই হামলায় প্রিজন ভ্যানে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আতিকুল ইসলাম (৩০) নিহত হন, আহত হন আরো দুইজন পুলিশ সদস্য। ত্রিশাল থেকে পালানোর সময় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাকিবকে আটক করে পুলিশে দেয় জনতা। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেয়ার জন্য দাড়ি কামিয়ে ফেললেও তার গলা, হাতে ও পায়ে ডাণ্ডাবেরির দাগ দেখে পুলিশ তাকে সনাক্ত করে। এরপর গভীর রাতে পুলিশ পলাতক বাকি াসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য রাকিবকে নিয়ে অভিযানে বের হলে মির্জাপুর উপজেলার বেলতৈল এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন বলে টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান।
ত্রিশালের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন জেএমবি সদস্যসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে রোববার রাতেই দুটি মামলা করেছে পুলিশ।
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে ও পুলিশ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এসব মামলায়।

অর্ণব হত্যা : খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি
বিডিনিউজ ২৪ ডটকম
সাতক্ষীরার শিশু অর্ণব হত্যা মামলার ৫ আসামিকে বেকসুর খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ সোমবার রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে পাঁচ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
পাশাপাশি তাদেরকে বিচারিক আদলতে জামিন দিতে বলেছে হাই কোর্ট।
আদালতে আপিল আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ভীষ্মদেব চক্রবর্তী।
আসামিদের মধ্যে গোলাম ফারুক ও খলিল সরদারকে বিচারিক আদালত ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। অন্য তিন আসামি সাত্তার সরদার, মতিয়ার রহমান, সুশীল কুমার রায়কে বিচারিক আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বিচারিক আদালতের রায়ের সময় আসামিরা কারাগারে ছিলেন।
পরে হাই কোর্ট এই পাঁচ আসামিকে খালাস দিলেও বিচারিক আদালতের রায়ের সময় পলাতক মুকুল গাজীর যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রাখে।
২০১০ সালের ২৪ অগাস্ট হাই কোর্টের ওই রায়ের এক সপ্তাহের মাথায় আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল আবেদন করার আদেশ দেয়।
এরপর অর্ণবের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ ৫ আসামির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে তিনটি করে আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি করে সোমবার সর্বোচ্চ আদালত আপিলের অনুমতি দিল।
আদেশের পর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, “এখন আপিলের কাগজপত্র প্রস্তুত হবে। এরপর আপিল শুনানি করে চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে।”
হাই কোর্টের খালাসের আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত হওয়ার পর বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামিকে মুক্তি দেয়ায় সাতক্ষীরার তত্কালীন দায়রা জজ মো. আবুল হোসেন খান ও সাতক্ষীরার জেল সুপার নুরুন্নবী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়।
মামলার অভিযোগ, ২০০০ সালের ২০ জুন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার সাইহাটি গ্রামের বিমল কৃষ্ণ দাসের আট বছরের ছেলে অর্ণব দাসকে টিয়ে পাখি দেয়ার কথা বলে ডেকে নেন পাশের খলিসানি গ্রামের মুকুল গাজী। পরদিন দুই চোখ উপড়ানো, ডান হাতবিহীন, দুই পায়ের রগকাটা অবস্থায় অর্ণবের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ হত্যা মামলায় বিএনপির মিনু, বুলবুল কারাগারে
বিডিনিউজ ২৪ ডটকম
পুলিশ হত্যা মামলায় জামিন নাকচ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুসহ ৩৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হাই কোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা রাজশাহী মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন বাড়ানোর আবেদন করলে বিচারক মেরিনা খানম এই আদেশ দেন।
কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গত ২০ জানুয়ারি হাই কোর্ট থেকে এক মাসের অন্তবর্তী জামিন পেয়েছিলেন বিএনপির এই নেতাকর্মীরা।
গত বছর ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহী শহরের রাজাহাতা এলাকায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ট্রাকে বোমা হামলা হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ রায়।
বোয়ালিয়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগরের সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, জেলা সভাপতি নাদিম মোস্তফা, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহীর সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আসম মামুন শাহিন, মাইনুল ইসলাম ও মাহবুব হাসান বুলবুলসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে দুই মামলায় সাড়ে তিনশ জনকে আসামি করা হয়।