হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আড়াই লাখ ডলার লুট: কী করছেন সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ?

কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ব্যাংকের নিরাপত্তা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই অভিনব এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটিতে। শনিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া সার্ভার হ্যাক করে অর্থ লুটের ঘটনায় বর্তমানে ব্যাংকটির অনলাইন নিরাপত্তাও হুমকিতে বলে জানিয়েছেন তিনি। সচিব বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময় হ্যাকাররা অবৈধভাবে হ্যাক করে আড়াই লাখ ডলার (১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা) নিয়ে গেছে। এটা ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে আমরা মনে করি। যদিও অর্থমন্ত্রী ড. মুহিত বলেছেন, ২০১২ সালে হলমার্ক জালিয়াতি সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে ঘটেছে। এ কথার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না।
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জের শাখার ১৬ কোটি টাকার বেশি লুটের ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে শাখাগুলো ব্যাংকিং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইড লাইন পরিপালন করছে না। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অনেক ব্যাংকের শাখা। সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর শাখার যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয় তা হলে যে কোনো সময় আরো বড় ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যদিও ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ব্যাংকের শাখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ও তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। আমরা মনে করি কেবল চিঠির মাধ্যমেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একদিকে যেমন ব্যাংকের ভল্ট সুরক্ষিত থাকতে হবে, অন্যদিকে ব্যাংকের শাখাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সচেতন ও সৎ হওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের মাত্র নয়টি শাখায় জালিয়াতির মাধ্যমে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি অনিয়ম-আত্মসাতের ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অথচ এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এর পরই আবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আড়াই লাখ ডলার লুটের ঘটনা প্রকাশিত হলো।
একটি সংঘবদ্ধচক্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চুরি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের মতো কয়েকটি ব্যাংক লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। কখনো ছাদ কেটে ভেতরে ঢুকে, কখনো সুরঙ্গ পথ তৈরি করে, কখনো বা অস্ত্র দেখিয়ে, নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যা করে ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে লুটপাট চালানো হচ্ছে। বেশিরভাগ ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংক ও সোনার দোকানে লুট বা ডাকাতি করে একই সিন্ডিকেট। দেশের এ ধরনের সিন্ডিকেট হাতেগোনা চার-পাঁচটি। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছেথ এ অপরাধীচক্রকে গ্রেপ্তার বা এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। অনেক সময় এসব ঘটনার তদন্তের অগ্রগতিই হয় না, অপরাধীর বিচার হবে কীভাবে। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি উদাসীন থাকে তবে এর পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ পুঁজি হারিয়ে গ্রাহকরা পথে বসুক এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
যদি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নড়বড়ে থাকে এবং গ্রাহকের টাকা চুরি বা লুট করা হয় এবং অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়, তারা নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নেয় তা হলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতেও ঝুঁকি থেকে যাবে।