গভীর রাতে বাশ বাগানে বসেছিল গাঁজা ও গানের আসর: যশোরের দেয়াড়ায় নিহত মুক্তার আলোচিত লাউজানি ফোর মার্ডার মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে সোমবার রাতে কথিত বাউল গানের আসরে হামলায় নিহত মুক্তার হোসেন পেশায় একজন ট্রাক চালক ও আলোচিত লাউজানি ফোর মার্ডার মামলার আসামি। এ ঘটনার দুইদিন আগে ২২ ফেব্র“য়ারি লাউজানি ফোর মার্ডারের অপর এক আসামির জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে সোমবারের ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গাঁজা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। দেয়াড়ার দত্তপাড়ার জিয়া মেম্বার হত্যা মামলার আসামির সাথে সখ্যের কারণে মুক্তারকে হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
যশোর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, নিহত মুক্তার প্রকৃত বাউল শিল্পী নন। তারা নিয়মিত সদর উপজেলার দেয়াড়ার ডুমদিয়া গ্রামের মালেকের আম বাগানে গাঁজা সেবন করতো। সেই সাথে গান-বাজনা করে। তার (মুক্তার) পকেট থেকে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পরিচয় পত্র পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায় সে একজন ট্রাক চালক ছিল। এছাড়া এলাকায় তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালে দেয়াড়ার দত্তনগর গ্রামে জিয়া মেম্বার হত্যা মামলার আসামি শামিমের সাথে সখ্যের কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। সোমবার রাতে ঘটনার কিছু আগে শামিম সেখানে অবস্থান করছিল। তবে দুর্বৃত্তরা যখন হামলা চালায় তখন শামিম সেখানে ছিল না।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানিতে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলায় চারজন নিহত হয়। গত ২২ ফেরুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুরে এ হত্যা মামলার আরও এক আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়। সাইফুল নামে সন্ত্রাস ও চোরাচালানে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
সোমবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার দেয়াড়ার ডুমদিয়া গ্রামে মালেকের বাশ বাগানে নিহত মুক্তারসহ ৫/৬ জন গাঁজার আসরে বসে একতারা ও তবলা সহকারে গানবাজনা করছিল। এ সময় স্থানীয় একদল দুর্বৃত্ত একাধিক বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে মুক্তারের উপর হামলা চালায়। বোমার ষ্পিøন্টারে আহত হয় তবলা বাদক ছাব্বির এবং বশির নামে আরও একজনকে ছুরিকাহত করা হয়।