পিলখানায় নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

স্পন্দন ডেস্ক:পিলখানায় বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকের (বিএবি) পক্ষ থেকে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর নিহত প্রত্যেক কর্মকর্তার পরিবারকে এই পরিমাণ অর্থ দেয়া হচ্ছে। মোট ১০ বছর তাদের এই আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
২০০৯ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী, নিকটাত্মীয় ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক গ্রহণ করেন।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহে  ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান, সেনাবাহিনী কল্যাণ ও বিজিবি তহবিল থেকে অর্থ অনুদান এবং সেনাবাহিনীর অফিসার্স আবাসিক এলাকায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে নিহত ১৫ জন কর্মকর্তার বাড়ি বানানোর ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়। নিহত ২৫ কর্মকর্তার ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণের সুদ ২০০৯ সালের জন্য মওকুফ করা হয়।
এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিহত তিন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীসহ পরিবারের ৩৩ জন সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।
নিহত কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় ১১ জন ডিওএইচএস এবং রাজউক প্রকল্পে প্লট পেয়েছেন। তাদের মধ্যে যাদের চাকরি ১৮ বছরের বেশি এমন ৩৭ জনের পরিবারকে মিরপুর ডিওএইচএসে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর চাকরির মেয়াদ ১৮ বছরের কম এমন ১০ জনের পরিবারকে মিরপুর ডিওএইচএসে দুটি করে সুসজ্জিত ফ্ল্যাট দেয়া হয়েছে।
নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের আবাসনের অংশ হিসাবে এ পর্যন্ত মোট ৪২ জনের পরিবারকে বিভিন্ন সেনানিবাসে অস্থায়ীভাবে বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
নিহত কর্মকর্তাদের পরিবারকে পরিবার নিরাপত্তা প্রকল্প তহবিল, ডিএসওপি ফান্ড, কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান, মৃত্যু আনুতোষিক, ছুটির পরিবর্তে নগদ অর্থ, কমোটেশন ও মাসিক পেনশন দেয়া হয়েছে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বলা হয়, সেনাবাহিনীর কল্যাণ পরিদপ্তর থেকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য ঘটনা পরবর্তী তদারকি ও সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়, যা এখনো চলছে।
নিহত কর্মকর্তাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ১০ জনকে ক্যাডেট কলেজসহ ৮৯ জনকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও বিনা বেতনে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ বেতনে লেখপড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া ও বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলসহ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চেক প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতেই নিহত সেনা কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।